ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

পত্রিকার পাতায়, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেইসবুক টুইটার ব্লগ সব জায়গাতেই একটি গরম খবরের বিষয় হলো পাকিস্তানি দালাল এবং ভারতীয় দালাল। এক পক্ষ আরেক পক্ষের চৌদ্দ গুষ্ঠি নিয়মিত উদ্ধার করছে। সম্প্রতি বিতর্কটি নতুন করে জন্ম দিয়েছেন ফেইসবুকের দুজন তথাকথিত সেলিব্রেটি। একজন ‍হল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অজয় রায় আর অপরজন রাজাকার পুত্র আমান আযমী। আহা কি কম্বিনেশন? পাঠকরা নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন কে কোন দেশের দালাল। যাই হোক তারা দুজনই কিন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। জন্ম বাংলাদেশেই। একজন আবার সামরিক বাহিনীর সাবেক (বরখাস্ত) কর্মকর্তা। দুজনই হেভিওয়েট। আর দুজনই এখন হেভিওয়েট দুটি দেশের দালাল হয়ে গেল তাদের নিজ কর্ম গুণে।

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও যদি এই ধরণের টপিকগুলো নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক উঠে তাহলে খুবই সমস্যা। আমরা এই ধরণের বিতর্ক করার সুযোগ তৈরী করে কেন দিচ্ছি? গোলাম আযম পুত্র পাকিস্তান প্রীতি দেখাবে এটা অস্বাভাবিক কিছু কি? বারবার নিউজ করে তাকে কেন হাইলাইট করছি? কিছু সংবাদ মাধ্যমের কর্মকান্ড দেখলে মনে হয় যে তারা গোলাম আযম পুত্রকে হিরো বানানোর মিশনে নেমেছ? মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা হরহামেশায় প্রশ্নতুলে তারা শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এটা অস্বাভাবিক কিছু কি? মহান মুক্তিযুদ্ধে ঠিক কতজন শহীদ হয়েছে তার সঠিক সংখ্যাটা কোন সরকারই জানাতে পারেনি বা চেষ্টা করেনি। এখন কি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা গনণা করার সময় আছে আমাদের হাতে? এখন সময় দেশটাকে এগিয়ে নেওয়ার। আগামীর বাংলাদেশ কিন্ত আমাদেরকেই গড়তে হবে কোন পাদা/ভাদা কিন্ত করবে না। অতএব এদেরকে বর্জন করেই মিশনটা সাকসেসফুল করতে হবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিহত অফিসারদের সম্মানে কোন কিছু নির্মাণ করার থেকে একজন বেকারের জন্য কর্মসংস্থান, অনাহারির মুখে একমুঠো খাবার, বস্ত্রহীনের জন্য একটুকরো বস্ত্র, পথশিশুদের জন্য মাথা গোজার ঠাঁই অনেক বেশি জরুরী। জনাব অঞ্জন রায় আপনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটা আরও অনেক আগে প্রয়োজন ছিল এখন সে সময় নেই। আর ভারতকে বাংলাদেশ সম্মান দেওয়ার দিক থেকে কোন কার্পণ্য করেনি। ওটা নিয়ে অযথায় আপনার চিন্তা করার দরকার নেই? আর জনাব আযমী সাহেব একটু কম লিখলেই পারেন অযথাই বিতর্ক তেরী করার দরকারটা কি মশাই।