ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

ফুটবল খেলা বিশ্বের জনপ্রিয় খেলার মধ্যে একটি। এই খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে যেমন লড়াই চলে তেমনি মাঠের বাইরেও লড়াই চলে। এমনও হয় মাঠের ভেতরের কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাইরে তুলকালাম কান্ড ঘটে যায়। হাতাহাতি থেকে শুরু করে মারামারি পর্যন্ত হয়। এতে অনেকেই আহত হন। কোন কোন মারত্মক ঘটনায় নিহত হবার ঘটনাও শুনা যায়।

মাঠের ভেতরে দেখা যায় একপক্ষের খেলোয়াড় অন্যপক্ষের খেলোয়াড়কে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেন। এর বেশীর ভাগ আঘাতই হয় পায়ে। কোন কোন মারাত্মক আঘাতে আক্রান্ত খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয় এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়। যে খেলোয়াড় আঘাত করেন তাকে ম্যাচ পরিচালকারী রেফারী হলুদ কার্ড দেখান। মারাত্মকভাবে আঘাত করলে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। আরো অনেক কারণেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। যেমন: গত বিশ্বকাপে একজন খেলোযাড় হাত দিয়ে বল আটকে দিয়ে গোল হজম থেকে দলকে রক্ষা করেন। তিনি কিন্তু গোল রক্ষক ছিলেন না। তাই সাথে সাথে রেফারী লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন। পরে অবশ্য প্রতিপক্ষ দল সেই পেনাল্টি কিক থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। আর লাল কার্ড দেখা ঐ খেলোয়াড় তার দলে তথা নিজ দেশে হিরো বনে যান।

দৃনিয়ার প্রায় সব খেলোয়াড়ই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হন। সেটি ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত যেভাবেই হোক। পেলে-ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে বর্তমানে মেসি পর্যন্ত প্রায় সব ভালো খেলোয়াড়েরা আরো বেশী আঘাতপ্রাপ্ত হযেছেন। সৃতরাং প্রতিপক্ষের খেলোযাড় কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া নতুন কিছু নয়। তাই বলে তারা কেউই খেলা ছেড়ে দেননি।

ক’দিন হলো মাত্র ইউরো ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ খেলা শেষ হয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলো মাঠে এবং মাঠের বাইরে অর্থাৎ টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে কোটি কোটি ফুটবল দর্শক দেখেছে। প্রতিদিন অতি আগ্রহী হয়ে রাত জেগে জেগে ফুটবলমোদী দর্শক ম্যাচগুলো দেখেছে। আমিও দেখেছি। উত্তেজনা যে শুধু মাঠে ছিল তা কিন্তু নয়। মাঠের বাইরে যারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছে সেখানেও ছিল। অনেক জায়গায় মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

বেশ ক’বছর পর আমি এবার ফুটবল খেলছি। বিভিন্ন কারণে মাঝখানে দু-তিন বছর ফুটবল খেলা হয়নি। আমি ফুটবল খেলা খুব পছন্দ করি। সেই পছন্দ থেকেই ক’দিন ধরে ফুটবল খেলছি। বেশ ক’বার আঘাতপ্রাপ্তও হয়েছি। কিন্তু হাল ছাড়ছি না। প্রতিদিনই ভাবি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেব। কিন্তু পারছি না। প্রতিদিন বিকেল হলেই কোন এক অজানা টানে ফুটবল খেলায় চলে যাই। আজও মাঠে গিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলাম। প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় এসে আমার পায়ে সরাসরি আঘাত করল। আমি সাথে সাথে মাঠেই বসে পড়লাম। ঐ খেলোয়াড় আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরেছে কিনা জানি না। তবে আঘাতটা মারাত্মক ছিল। আর একটু হলেই হয়তো পা ভেঙ্গে যেতো। ভাগ্যিস সেরকম কিছু হয়নি। তবে এখনও প্রচন্ড ব্যথা করছে।

ফুটবল খেলায় আমি যে শুধু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি তা কিন্তু নয়। এর আগের দিন রফিক এবং রানা দু’জনেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তারা এখন মাঠেই আসতে পারছে না। দু-তিন দিন আগে ইসমাইল আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রীতিমতো হসপিটালাইজড হয়েছিল। পরে অবশ্য চিকিৎসা নিয়ে সে বাসায় ফিরেছে। জুনেদ তো একদিন আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হতে যাচ্ছিল। পরে অবশ্য আমাদের সবার মধ্যস্থতায় ব্যাপারটা সুরাহা হয়েছে। কিন্তু সে নাছোড় বান্দা। এই আহত অবস্থায়ও সে খেলছে। ফরিদ গোল কীপার থাকার ফলে তুলনামূলক কম আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। তবে একেবারেই যে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে না তা নয়। তারপরও কেউই খেলা ছাড়ছে না।

আঘাতপ্রাপ্ত হবার পর আমরা প্রায় সবাই অন্তত একবার করে বলেছি আর ফুটবল খেলব না। তবু পারছি না। আজ আমিও আঘাতপ্রাপ্ত হবার পর বলেছি আর ফুটবল খেলব না। কিন্তু মনে হয় খেলা ছাড়তে পারব না। কেননা খেলাধুলা করা যে আমার সবচেয়ে প্রিয় শখ। এই খেলাধুলার জন্যে সেই শৈশব থেকে আজঅবধি কতো যে বকুনি খেয়েছি। তবু খেলা ছাড়িনি।

খেলাধুলা করলে শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই সুযোগ পেলেই সবার খেলাধুলা করা উচিত। আমি নিয়মিত খেলাধুলা করছি। আপনারা কি খেলাধুলা করছেন?

নিয়মিত খেলাধুলা করুন। শরীর ভালো থাকবে। খেলাধুলা করলে আনন্দও পাওয়া যায়। সুতরাং চিত্তের বিনোদন এবং শরীর ঠিক রাখার জন্যে খেলাধুলা করুন।