ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশের ছেলে আশিক ইকবাল মিল্টন। বিনা অপরাধে তাকে ভারতের কারাগারে ১২টি বছর আটক থাকতে হয়েছে। গত ৪/৫ মাস পূর্বে ভারতীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আশিক ইকবাল মিল্টনের বিনা অপরাধে ১২ বছর ধরে জেল খাটার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টেলিভিশনে সে অনুষ্ঠান যাঁরা দেখেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই আবেগ-আপ্লুত হয়েছিলেন। আমিও সে অনুষ্ঠান দেখে রীতিমত আবেগ-আপ্লুত হয়েছিলাম। কেননা, বিনা অপরাধে কেউ ১২টি বছর কেন ১২টি দিনও কারাগারে থাকতে চাইবেন না। আমি সে সময় ব্লগে এ বিষয়ে লিখেছিলামও।

আশিক ইকবাল মিল্টনের অপরাধ ছিল, তিনি ভারতের কুচবিহারের দিনহাটা থানার সাহেবগঞ্জ বাজারে একটি অনুষ্ঠান দেখতে তার বন্ধুদের সাথে সেখানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান দেখে ফেরার পথে বন্ধুরা সবাই বাড়ি ফিরতে পারলেও ফিরতে পারেন নি আসিক ইকবাল মিল্টন। তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেখানকার আদালত কর্তৃক তার ৬১ দিনের সাজা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৬১ দিন কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়ে তিনি দেশে ফেরার কথা। কিন্তু তিনি ফিরতে পারলেন না। তাকে কারাফটক থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। কারাফটক থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনা আমাদের দেশেও শুনা যায়। তবে এর অধিকাংশই রাজনৈতিক কারণে হয় বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু আশিক ইকবাল মিল্টনকে পুনরায় কারা ফটক থেকে গ্রেপ্তার করার কারণ কি? এখানেও কি কোন রাজনীতি কাজ করেছে? নাকি সেখানকার পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে ঘটেছে? তবে যতটুকু জানা যায় সেখানে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসীর নাম মিহির দাস ওরফে মিল্টন। আর সেই “মিল্টন” নামটিই বোধ হয় বাংলাদেশী ছেলে আশিক ইকবাল মিল্টনের জন্যে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ালো। প্রকৃত সন্ত্রাসী মিহির দাস ওরফে মিল্টনকে সেখানকার পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার করতে পারছিল না। আবার এটাও শুনা যায়, কখনো কখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও নানা কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে না পারার কারণে সেখানকার স্থানীয় সরকার বেশ চাপে ছিল। তাই নিরপরাধ ছেলে আশিক ইকবাল মিল্টনকে “মিল্টন” নামের মিলের কারণে তাকে মিহির দাস ওরফে মিল্টন মনে করে অথবা বানিয়ে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ ১২টি বছর কারাগারে আটক রাখা হয়।

আশিক ইকবাল মিল্টনের বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাবার আর্তনাদে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অবশেষে মারাও যান। কিন্তু ছেলেকে শেষ দেখাটুকু তিনি দেখে যেতে পারলেন না।

আশিক ইকবাল মিল্টনের বিনা অপরাধে ১২ বছর ধরে জেলে আটক থাকার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে দু’দেশেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে যায়। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এবং ভারতের একটি মানবিধাকার সংস্থার উদ্যোগে অবশেষে গত শনিবার আশিক ইকবাল মিল্টন কারাগার মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন। মা মজিদা বেগম ১২বছর পর ছেলেকে পেয়ে এখন খুব খুশী। একজন নিরপরাধ মানুষ মুক্তি পেয়েছেন শুনে আমারও খুব খুশী লাগছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই হোক অথবা অন্য যে কারণেই হোক এভাবে কি একজন মানুষের জীবন থেকে ১২টি বছর কেড়ে নেয়া যায়? কেউ কি তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে তার সেই ১২টি বছর?

আশিক ইকবাল মিল্টনের এই ক্ষতি হয়তো আমরা কেউ পুষিয়ে দিতে পারব না। তবে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে পারলেই হয়তো আশিক ইকবাল মিল্টনের দু:খ কিছুটা কমবে। তাই দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।