ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

শিরোনামটি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছুটির দিনে কবিতা থেকে ধার নেয়া।
আজ শনিবার। আজ আমার অফিস ছুটি। অফিস ছুটি তো ছুটি এর মধ্যে আবার ঝুমতালে চলছে বৃষ্টি। বাইরে কি বের হওয়া যায়? এ বৃষ্টিতে কি ভিজা যায়? জানালা দিয়ে দিলাম নিজের দৃষ্টি। না, বেরুনোর উপায় নেই। ভারী বৃষ্টির সাথে প্রচন্ড গতিতে বইছে ঝড়। মা বললেন, বসে বসে কি ভাবছিস, নে পত্রিকা পড়। পত্রিকা হাতে নিলাম- দৈনিক প্রথম আলো। দেখলাম- জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের উল্লাস, সবার হাসিমাখা চোখ-মুখ যেন ছড়াচ্ছে আলো। দেখে বেশ ভালো লাগল। হ্যাঁ, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে। তাতে এ শিক্ষার্থীদের যেমন ভালো লেগেছে, আমাদেরও ভালো লেগেছে। তাঁরা আরো এগিয়ে যাবে, এটা নিশ্চয়ই সবাই চাইবে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের খবর পড়ে ভালো লাগলেও আরেকটি খবর পড়ে মন আর ভালো রাখতে পারলাম না। ছুটির দিনেও বুয়েটে অবস্থান ধর্মঘট। টানা কয়েকদিন ধরেই বুয়েটের উপাচার্য এবং সহ-উপাচার্যের অপসারনের দাবীতে চলছে অবস্থান ধর্মঘট । দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বুয়েট। তবে মান-মর্যাদার দিক থেকে বুয়েটের গুরুত্ব অনেক বেশী। এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রম কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে কি আমরা জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়ছি না?

বাঁশ থেকে কঞ্চি মোটা হলে সেই বাঁশটি আর সোজা থাকতে পারে না, এই গল্পটি কমবেশী আমরা সবাই জানি। পত্রিকা পড়ে যতটুকু জানতে পেরেছি, প্রায় ষাটজন শিক্ষককে ডিঙিয়ে বুয়েটের বর্তমান সহ-উপাচার্যকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ পেয়ে তিনি নানা নৈতিক-অনৈতিক খবরদারি করছেন। উপাচার্যের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ। বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এগুলো মেনে নিতে পারছেন না। আর সেই থেকে প্রথমে পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের দু’জনেরই অপসারণ দাবী করে আন্দোলন চলছে। শেষপর্যন্ত ঘটনা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, আল্লাহই জানেন। তবে আমরা কেউই চাই না, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আর বেশীদিন বন্ধ থাকুক। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

আমি শুরুতেই বলেছি শিরানামটি ছুটির দিনে কবিতা থেকে নেয়া।
বুয়েটের খবরটি পড়ে মন খারাপ হলেও প্রথম আলোর ছুটির দিনে’র আজকের সংখ্যাটি পড়ে আবার মন ভালো হয়ে গেল। বাঙালির কীর্তি! এবার অলিম্পিক এর আসর বসছে লন্ডনে। সেখানে বাঙালিদের অংশগ্রহণ থাকবে না, তা তো হয় না। এবারের অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কোরিওগ্রাফির দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী আকরাম খান। শুধু কোরিওগ্রাফি নয়, সঙ্গে নাচবেনও। সারা দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ এই বাঙালির নাচ দেখে মুগ্ধ হবে। খবরটি পড়ে গর্বে আমার বুক ভরে উঠল। বাঙালি পিছিয়ে নেই সেটি আরেকবার প্রমাণিত হলো। বাঙালিরা চাইলে সবকিছুই পারে। আমরা বাঙালিরাই একাত্তরে বিজয় অর্জন করেছি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। আমরা ক্রিকেটে জয়লাভ করেছি। সাকিব-আল-হাসান এখন বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার ক্রিকেটার। আমাদের দেশের মানুষ নোবেল জয় করেছে। আমরা এভারেষ্ট জয় করেছি। নারী-পুরুষ চারজন এ পর্যন্ত এভারেষ্ট এর চূড়ায় উঠেছে। সুতরাং আমরা চাইলে দেশের সবকিছুরই সমাধান করতে পারি, বর্তমানে সৃষ্ট বুয়েটের জটিলতা নিরসনও করতে পারি, যদি আন্তরিকভাবে চাই। সংশ্লিষ্টরা কি এই আন্তরিকতা দেখাতে পারেন না?

ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী আকরাম খান অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোরিওগ্রাফি করে এবং নেচে বিশ্বে বাঙালিকে যেমন আরো আলোকিত করবেন তেমনি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে সারা বিশ্বে আলো ছড়াবেন, এই আশা রাখছি।

আজ শনিবার, আমার অফিস ছুটি
তাইতো বসে বসে লিখলাম এই নিবন্ধটি।
এই নিবন্ধটিতে কোন ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন,
শুদ্ধ করে পড়ে নিবেন।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।