ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

আক্কেল সেলামী বা বোকামীর দন্ড। শব্দ গুচ্ছের সাথে কমবেশী আমরা সবাই পরিচিত। এক লোক বিনা টিকেটে ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। জরিমানাসহ টিকেটের মূল্য পরিশোধ করে তবেই সে মুক্তি পায়। পরে সেই লোকটি আফসোস করে বলে- “টিকেট করে গাড়িতে চড়লে বোধ হয় ভালো হত!” তারপরও কারোও কারোও শিক্ষা হয় না। বারবার তাঁরা একই বোকামী করে।

সবাই নিশ্চয়ই দেখেছেন বা শুনেছেন, আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকরা তাঁদের শ্রমের দরদাম করতে গিয়ে দু’জন শ্রমিককে প্রাণ দিতে হয়েছে। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে, ‘দুইটু ট্যাকার জন্য দুইটু জান চইলি গেল!’আকিজের কারখানায় আনসারের গুলিতে দুই শ্রমিক নিহত।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। যেভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম বেড়েছে, সেভাবে শ্রমের মূল্য বাড়েনি। আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকরা তাঁদের মজুরী বাড়ানোর দাবী করে আসছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। তাঁদের খুব বেশী দাবী ছিল না। মাত্র দুই টাকা বাড়ানোর দাবী ছিল। এক হাজার বিড়ি তৈরি করলে তাঁরা এতোদিন ২১ টাকা পেত। এ টাকা বাড়িয়ে এখন ২২-২৩ টাকা করার দাবী ছিল তাঁদের। কর্তৃপক্ষ কোন কোন সময় এ দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষপর্যন্ত কার্যকর হয়নি। ১৫ জুলাই ২০১২ তারিখে শ্রমিকরা কাজে এসে যথারীতি তাঁদের দাবী জানায়। কিন্তু কারখানা ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম শ্রমিকদেরকে বললেন, মজুরি বাড়ানো হবে না, যা আছে তাতেই কাজ করতে হবে। না হলে কাল থেকে সবার ছুটি।

শ্রমিকরা কারখানা ব্যবস্থাপকের এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারল না। তাঁরা তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে গেল। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালালো কারখানায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। এতে সাথে সাথে দু’জন শ্রমিক নিহত হলো এবং আরো কয়েকজন আহত হলো।

এ ঘটনায় কারখানার ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলমকে আটক করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তার কী হবে, আল্লাহই জানেন। ঘটনার পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহত এবং আহতদের ক্ষতি পূরণ দেয়ার কথা বলেছেন। শ্রমিকদের দাবী মেনে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

নিহতদের পরিবারকে হয়তো ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। শ্রমিকদের দাবীও হয়তো মেনে নেয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এটা কি আগে করা গেল না? শ্রমিকদের দাবী মেনে নেওয়ার উপলব্ধি কি দু’টো তাজা প্রাণ ঝরে যাবার পর হলো?

আমাদের কারখানা মালিকেরা কি বুঝেন না, এই শ্রমিকরাই হচ্ছে কারখানার প্রাণ। শ্রমিকদের ঘাম ঝরা পরিশ্রমের ফলেই কারখানার উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। আর শ্রমিকরা যখন তাঁদের শ্রমের মূল্য পায় না তখনই তাঁরা আন্দোলন করেন। আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকদের তো বেশী কিছু দাবী ছিল না। মাত্র দুই টাকা বাড়ানোর দাবী ছিল। এই দুই টাকা বাড়ানোর দাবী আগেই মেনে নিলে কি হতো? এটাকে আমরা কি বলব, কারখানা কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা না-কি বোকামী?

আকিজ বিড়ি কারখানায় ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিচার দাবী করছি।

তথ্য সহায়তা: দৈনিক প্রথম আলো।