ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

রমজান মাস এমন একটি মাস যে মাস একই সাথে রহমত, বরকত এবং মাগফিরাতের মাস। রমজান মাসে আমরা মুসলমানগণ সারাদিন রোজা রেখে সূর্যাস্তের সময় মাগরিবের আজান হলে ইফতার করি। সাধারণত খেজুর ফল খাবারের মাধ্যমে আমরা ইফতার শুরু করি। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নতও বটে। এছাড়া, শরবত, পানি, খিচুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, মিষ্টি, জিলাপী, মুড়ি এবং ফলমূলও খেয়ে থাকি। এ মাসে রেষ্টুরেন্ট ওয়ালারা বাহারি সব ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত করেন। এছাড়া, মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও এ মাসে ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত এবং বিক্রি করে থাকেন। এই ইফতার সামগ্রীর সবগুলো স্বাস্থ্য সম্মত নয়। তবুও আমরা এগুলো প্রতিদিনই খাই। ইফতার সামগ্রীর জন্য বাংলাদেশের ঢাকার চকবাজার বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।

রমজান মাসে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের সংগঠনগুলোর উদ্যোগে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়ে থাকে। ব্যক্তি বা পারিবারিক উদ্যোগেও ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। আমি নিজেও ইফতার পার্টির আয়োজন করি এবং করেছি। আমি প্রায় প্রতিদিনই কোন-না-কোন ব্যক্তি-বন্ধু বা সংগঠনের পক্ষ থেকে ইফতার পার্টির নিমন্ত্রণও পেয়ে থাকি। এর সবকটিতে হয়তো যাওয়া সম্ভব হয় না, নানা কারণে। এর জন্য কারো মনক্ষুণ্ন হওয়া সমীচীন নয়। রমজান মাসের ইফতার, এটি একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আমরা একে অন্যকে ইফতার করিয়ে আনন্দ পাই। আসলে রমজান মাস পুরোটাই আনন্দে ভরপুর থাকে।

রমজান মাস পরিবারের সবাইকে একত্রিত হয়ে খাবারের সুযোগ করে দেয়, যেটি অন্য মাসে নানা ব্যস্ততার কারণে হয় না। রমজান মাসে আমরা পরিবার পরিজন সবাই মিলে একত্রে বসে ইফতার গ্রহণ করি। মজাদার সব খাবার সামনে নিয়ে বসে থাকি, তবুও খাই না। সংযম পালন করি। তবে শুধুমাত্র খাবারে সংযম পালন করলে চলবে না, আমাদেরকে সবকিছুতেই সংযম পালন করতে হবে।

পরিশেষে বলব, শুধু নিজেরা ভালো ভালো ইফতার সামগ্রী দিয়ে ইফতার করলে চলবে না, সমাজের দুস্থ-গরীব মানুষজন ঠিকমতো ইফতার করতে পারছে কিনা, খাবার খেতে পারছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার-আমার পাড়া প্রতিবেশী গরীবদের প্রতি দৃষ্টি দেয়া জরুরী, তাঁদের সহযোগিতায় সবাই এগিয়ে আসুন। আর গরীব মানুষের জন্যে ইফতার পার্টির আয়োজন করতে পারলে তো আরো ভালো হয়।