ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এক লোক শপিংয়ে গেছে ঈদের কেনাকাটা করতে। লোকটি গিয়ে ঢুকল একটা নামকরা শাড়ির দোকানে। সৌরভও তার মা’য়ের জন্যে শাড়ি কিনতে একই দোকানে ঢুকেছে। লোকটি একেরপর এক বিচিত্র সব শাড়ি দেখছে, আর দোকানীকে দাম জিজ্ঞেস করছে, কিন্তু কিছুতেই তার শাড়ি কেনা হচ্ছে না। সৌরভ সেটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। লোকটি দোকানীকে জিজ্ঞেস করল, আপনার দোকানে কি আর দামী কোন শাড়ি নেই ? দোকানী অবাক! এতো সুন্দর সুন্দর শাড়ি দেখালাম, অথচ লোকটির এগুলো পছন্দ হচ্ছে না। সে মানসম্পন্ন সুন্দর শাড়ি খুঁজছে, নাকি দামী শাড়ি খুঁজছে? এরকম ক্রেতা প্রায়ই তার দোকানে আসে। কাজেই লোকটিকে ম্যানেজ করা দোকানীর পক্ষে অসম্ভব নয়। দোকানী লোকটিকে বলল, ভাই দামী শাড়ি আছে। কিন্তু সেটা সবসময় সবার জন্যে বের করি না, কারণ এতো দামী শাড়ি সবাই কেনে না, সবাই শুধু দেখে। লোকটি বলল, দেখি বের করেন শাড়িটি। দোকানী শাড়িটি বের করল। শাড়িটির দাম জিজ্ঞেস করল ঐ লোকটি। দোকানী বিশাল অংকের একটা দাম বলল। এবার বুঝি লোকটির পছন্দ হয়েছে। হ্যাঁ, শাড়িটি ঐ লোকের পছন্দ হয়েছে এবং কিনেও নিয়েছে। অথচ শাড়িটি মোটেই সুন্দর নয় এমনকি মানসম্পন্নও নয়। সৌরভ পাশে বসে এসব পর্যবেক্ষণ করল। আর মনে মনে বলল, দোকানী লোকটি তো মোটেও সুবিধের নয়। এভাবে লোকটিকে ঠকানো উচিত হয়নি। কাজেই সে এ দোকান থেকে আর শাড়ি কিনল না। সে বেরিয়ে অন্য দোকানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল।

আজ তার একটি তালাও কেনার কথা। তালা কিনতে রাস্তার পাশে এক হার্ডওয়্যারের দোকানে সে ঢুকল। দোকানদেরকে সে বলল, ভালো দেখে তালা দেন। দোকানদার জিজ্ঞেস করল, ভাই কয়টা তালা লাগবে। সৌরভ বলল, একটা হলেই চলবে, আরেকটা বাসায় আছে। এবার ঈদে ঘরে দু’টো তালা লাগিয়ে তবেই বাড়ি যাবো। দোকানদার বলল, তাহলে একটা তালা সীলগালা করে যাইয়েন, আরেকটু নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। সৌরভ বলল, তাহলে আরেকটি তালার জন্যে কি পাহারাদার বসিয়ে যাবো? যদি ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে তালাটা কেউ খুলে নেয়? দোকানদার বলল, সেটা আপনার ইচ্ছে।

দরদাম করে সৌরভ একটি তালা কিনে নিয়ে আবারো শাড়ির দোকানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। শাড়ির দোকানে ঢোকার আগ মূহুর্তে এক যুবক এসে তাকে জড়িয়ে ধরল, কোলাকুলি করল। আর বলল, আরে দোস্ত তুই কি আমাকে চিনতে পারিস নি? আমি তো তোর সেই ছোটবেলার বন্ধু। একসাথে গ্রামে কত যে ক্রিকেট খেলেছি, তোর মনে নেই। সৌরভ ছোটবেলায় প্রচুর ক্রিকেট খেলত, অনেকের সঙ্গে। অনেকেরই চেহারা এখন আর সঠিকভাবে তার মনে নেই। তাই সৌরভ ঐ যুবককে বলল, ও ঠিক আছে। তো কেমন আছিস? দিনকাল কেমন যাচ্ছে? যুবকটি বলল, ভালো। আবার দেখা হবে, ঠিক আছে, এখন যাই তাহলে? বলেই যুবকটি চলে গেল। সৌরভ মনে মনে বলল, দেখো কী আশ্চর্য! যুবকটিকে না চিনেও চেনার ভান করলাম। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে কত কিছুই না করতে হয়! দুনিয়াটা সত্যিই বিচিত্রময়!

সৌরভ ঐ যুবকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শাড়ির দোকানে ঢুকল। অনেকগুলো শাড়ি থেকে একটা রঙিন শাড়ি সে তার মা’র জন্যে পছন্দ করল। দরদামও ঠিক হলো। শাড়ির মূল্য মোটামুটি সামর্থ্যের ভিতরেই আছে। কাজেই দোকানীকে সে বলল, শাড়িটি প্যাকেট করে দিতে। দোকানী শাড়িটি প্যাকেট করে দিলেন।

শাড়ির মূল্য দেবার জন্যে প্যান্টের বেক পকেটে হাত দিতেই সে টের পেল, পকেটে মানিব্যাগ নেই। নেই মানে খোয়া গেছে। প্যান্টের সব পকেট খোঁজাখুজি করেও মানিব্যাগ পাওয়া গেল না। তাহলে কি ঐ যুবকটিই মানিব্যাগ নিয়ে গেল? যুবকটি যখন কোলাকুলি করছিল, তখনই সে কিছুটা টের পেয়েছিল এবং সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু যুবকটির কথার ঘোরে পড়ে সে সেটা ভুলেই গিয়েছিল। আর যুবকটি দোস্ত সেজে এরকম প্রাতারণা করল? পকেট মারার কত বিচিত্র কৌশল! যাক, আফসোস করে লাভ নেই। তবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এসব বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকেই তো মানুষ শিক্ষ নেয়। সৌরভ এদিন তার মা’র জন্যে রঙিন শাড়ি কিনতে পারলো না।

এবার ঈদে যাঁরা কেনাকাটা করতে মার্কেটে যাবেন তাঁরা যেন এইসব প্রতারক চক্রের হাত থেকে সাবধান থাকেন। অপরিচিত কেউ কোলাকুলি করতে আসলে সাবধান থাকবেন, এমনকি অপরিচিত কেউ আপনার কাছাকাছি আসলেও সাবধানতা অবলম্বন করুন। আর অবশ্যই দরদাম করে মানসম্পন্ন সুন্দর কাপড়-চোপড় কিনুন। সেটি যে দামেরই হোক।