ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

কেক কেটে দিবস উদযাপনের সংস্কৃতি অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও প্রচলিত। এরমধ্যে জন্মদিনে কেক কাটা বিশেষভাবে প্রচলিত। এছাড়া, বিভিন্ন দিবসও কেক কেটে উদযাপন করা হয়, যেমন: বিবাহ, বিবাহ বার্ষিকী, বাবা দিবস, মা দিবস, বিভিন্ন সংস্থা-পার্টি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ইত্যাদি দিবসও কেক কেটে উদযাপন করা হয়। কিন্তু চুলের স্টাইল পরিবর্তনের দিবস কেক কেটে উদযাপনের খবর কি কেউ কখনো শুনেছেন? শুনে না থাকলে আমি বলছি শুনুন, গতরাতে আমি একটি পার্টিতে গিয়েছিলাম। পার্টিতে কেক কাটার বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। অতিথি, বন্ধু-বান্ধব, শুভানুধ্যায়ী সবাই সেখানে উপস্থিত আছেন। তবে কেক যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেই কক্ষের দরজার সম্মুখে গেইট ধরা হয়েছে, সেলামী নিবে বলে। মনে হচ্ছে কোন বর এসে প্রবেশ করবে। আসলে তা নয়, যার চুলের স্টাইল পরিবর্তন করা হয়েছে সে কক্ষে এসে প্রবেশ করবে, আর অপেক্ষমাণ বন্ধুরা তার কাছ থেকে কিছু সেলামী আদায় করবে, এই আরকি। অবশেষে চুলের স্টাইল পরিবর্তন দিবসের কেক কাটা হলো। একে অন্যকে কেক খাইয়েও দিল। নতুন একটা দিবস সবাই হইহুল্লোড় করে পালন করল।

এবার বলি চুলের স্টাইল পরিবর্তন দিবস পালনের রহস্য। ফরিদ পেশায় একজন ব্যবসায়ী, মৌলভীও বটে। সে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। তবে সে বেশ শৌখিন। অনেকদিন থেকেই সে তার চুল লম্বা রেখেছিল। বলতে পারেন, আমাদের দেশের মহিলারা যেরকম করে চুল রাখে- সেরকম লম্বা চুল। এ নিয়ে অনেকে বিভিন্ন ধরণের কথা বলাবলি করছিল, অনেকদিন থেকেই। অনেকে তাকে পরামর্শ দিয়েছিল, চুল খাটো করার জন্য। লম্বা চুলে তার মতো একজন মৌলভী কাম ব্যবসায়ীকে মানাচ্ছে না। এতদিন সে কারো পরামর্শ শুনেনি। কিন্তু আকস্মিকভাবেই সে গতদিন চুল কেটে একেবারে খাটো করে ফেলল। বন্ধুরা সবাই দেখে অবাক। এ নিয়ে যত ঠাট্টা-হাসি-তামাশা করল সবাই। অবশেষে কার পরামর্শে সে চুল খাটো করল, সেটা সে কাউকে জানালো না। আর সেই জানার আগ্রহ থেকেই তার বন্ধু জাবের বিশাল সাইজের একটি কেক এনে এই দিবস উদযাপনের আয়োজন করেছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই দিবস উদযাপন করতে আমাদের কারো খারাপ লাগেনি।