ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

মহান মাতৃভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেমেছিল মানুষের ঢল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহীদ মিনারে এসেছিল । কেউ কেউ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আবার কেউবা একক উদ্যেগে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিল । সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও মানুষের ঢল নেমেছিল। এছাড়া, সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল-কলেজে অবস্থিত শহীদ মিনারগুলোতেও শ্রদ্ধা জানানোর জন্যে মানুষের ঢল নেমেছিল। এ চিত্র ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের ভালোবাসা, শহীদদের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ছিল খুবই উৎসাহব্যঞ্জক এবং স্বতস্ফূর্ত। বিচ্ছিন্ন কিছু বিশৃঙ্খল ঘটনা ছাড়া কোথাও কোন বিভেদের খবর পাওয়া যায়নি।

মা, মাতৃভাষা রক্ষা করতে যারা অকাতরে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই সব সাহসী বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে ছোট বড় সবাই এসেছিলেন শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারের বেদী ফুলে ফুলে ঢেকে যায়। মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছিলেন (সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে) তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং সবসময়ই জনাবো। বাঙ্গালী জাতি সবসময়ই এই বীর শহীদদের স্মরণ রাখবে, শ্রদ্ধা জানাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।

একুশ আমাদের অহংকার। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তাই একুশের চেতনায় সবাইকে এগিয়ে চলতে হবে। সর্বস্তরে বাংলা চালু করতে হবে। বাংলা চর্চা করতে হবে। এটা ভুললে চলবে না যে, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। বাংলা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। বাংলা একটি সমৃদ্ধশালী ভাষা। তাই বাংলা চর্চায় কোন হীনমন্যতা নয়। তবে বিশ্বায়নের প্রয়োজনে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্যে আমরা অন্যা ভাষা (ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ বা অন্য যেকোন ভাষা) শিখতে পারি, তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।

পরিশেষে মাতৃভাষার প্রতি, বাংলা ভাষার প্রতি সবাইকে আরোও বেশী যত্নবান ও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আসুন সবাই মাতৃভাষাকে ভালোবাসি, মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখাই।