ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

একদিন বাঘ এবং সিংহের মধ্যে একান্তে কথা হচ্ছে-
বাঘ: আচ্ছা বলতো, আমরা কোথায় নিরাপদ? জঙ্গলে নাকি লোকালয়ে?
সিংহ: অবশ্যই জঙ্গলে। লোকালয়ে বেরুলেই তো লোকজন আমাদেরকে ধরে…………..!
বাঘ: বাহ্। তোমার বুদ্ধি-বিবেচনা তো বেশ ভালো।
সিংহ: ধন্যবাদ। আমাদের এই নিরাপদ বাসস্থান ‘জঙ্গল’ যদি মানুষ উজাড় করে ফেলে, তাহলে হয়তো আমরা জঙ্গলে আর নিরাপদে বসবাস করতে পারবোনা, শান্তিতে ঘুমুতে পারবোনা।
বাঘ: চারিদিকে যেভাবে লোকজন জঙ্গল উজাড় করছে- তাতে মনে হয় জঙ্গলেও আর নিরাপদে বসবাস করতে পারবোনা। তখন…………..?
সিংহ: তখন…………………, আমরা লোকালয়ের বেডরুমগুলোতে আশ্রয় নিব। তখন লোকে বুঝবে মজা!
বাঘ: নাহ্! আজকাল শুনছি, লোকালয়ের বেডরুমগুলোও নিরাপদ নয়।
সিংহ: তাহলে আমি জঙ্গলেই থাকবো। প্রয়োজনে আমি পাহারাদার নিযুক্ত করব।
বাঘ: না, এটা কোন সমাধান নয়। তারচেয়ে বরং জঙ্গল যাতে উজাড় না হয় সে পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্যেরা তো বনেই নিরাপদ, তাই না?
সিংহ: হ্যাঁ। তুমি ঠিকই বলেছ। আমাদেরকে তাই করতে হবে।

আসলে তারা কি পদক্ষেপ নিতে পারবে? নাকি আমাদেরকেই পদক্ষেপ নিতে হবে?

দেশের জনগণ তাঁর নিজ গৃহে নিরাপদে, শান্তিতে ঘুমুতে চায়। এর ব্যত্যয় হলেই জনগণ হইচই শুরু করবে, প্রতিবাদ করবে। এর প্রতিকার চাইবে। এটাই স্বাভাবিক। একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও জনগণ মাননীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ চায়। কোথাও কোথাও মাননীয় মন্ত্রী পদত্যাগও করেন। যদিও আমাদের দেশে এ দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।

‘সরকার দেশের প্রতিটি বেডরুম পাহারা দিতে পারবেনা!’ সেটা কেউ বলছেও না। দেশের প্রতিটি বেডরুম পাহারা দেওয়া কি সরকারের দায়িত্ব? তাহলে এ প্রশ্ন উঠছে কেন? দেশের প্রতিটি বেডরুম পাহারা দেওয়া কোন সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। কারণ, দেশের তো বিপুল সংখ্যক ‘বেডরুম পাহারাদার’ নেই। তবে, কোন হত্যাকাণ্ড ঘটলে মানুষ এর প্রতিবাদ করতে পারে, প্রতিকার চাইতে পারে, বিচার চাইতে পারে। আর যাতে এরকম হত্যাকান্ড না ঘটে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকার দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।

আমরা সার্বিক নিরাপত্তা চাই। নিরাপদে থাকতে চাই। আমরা সাগর-রুনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।