ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

সৌরভ ক্লাশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষায় কখনোই সে প্রথম বা দ্বিতীয় হতে পারেনা। কারণটা শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কেউ বুঝতে পারেন না। শত চেষ্টা করেও ঠিক কি কারণে পরীক্ষায় প্রথম বা দ্বিতীয় হতে পারেনা, সৌরভ সেটা নিয়ে বেশ চিন্তিত। ক্লাশে তো স্যারদের সকল প্রশ্নের উত্তর সে ঠিকমতো দিতে পারে। কিন্তু কেন সে প্রথম হতে পারে না?

সৌরভের বন্ধু কৌশিক এ নিয়ে পরীক্ষায় পরপর দু’বার প্রথম হয়েছে। কৌশিক কখনোই লেখাপড়ায় মনযোগী নয়। সারাদিন মাস্তানি করে ঘুরে বেড়ায়। ক্লাশে কোন পড়া ধরালে সেটির উত্তর সে ঠিকমতো দিতে পারে না। শিক্ষকরা তাকে খুব একটা পছন্দও করেন না। তবুও পরীক্ষায় কৌশিক বারবার প্রথম হয়।

কৌশিকের কাছ থেকে পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার রহস্যটা জানতে সৌরভ ইদানিং বেশ আগ্রহী উঠেছে।
একদিন কৌশিকের কাছে এ সম্পর্কে জানতেই কৌশিক জানালো-“বন্ধু রহস্য আছে! তুমি দিন-রাত পড়েও আমার সাথে পারবে না। আমিই প্রথম হবো।”
“কারণ?”
“তুমি লেখাপড়া করে পরীক্ষা দাও আর আমি………………!”
“তুমি তাহলে বই দেখে দেখে পরীক্ষা দাও! মানে পরীক্ষায় নকল কর?”
“এ আর নতুন কী! অনেকেই তো এভাবে পরীক্ষা দেয়, তাই আমিও দেই।”
“পরীক্ষার সময় যে তুমি নকল করে পরীক্ষা দাও-স্যারেরা এসব দেখেন না?”
“নাহ‌্! স্যারেরা দেখলে তো এতোদিনে আমার বারটা বাজিয়ে দিতেন। আমি তো অতি সুকৌশলে পরীক্ষায় নকল করি। স্যারেরা দেখতেই পান না। বলতে পারিস- আমি দক্ষ চোর! তুই কিন্তু কাউকে বলিস না !”
“তাহলে এতো কষ্ট করে পড়ে পরীক্ষা দিয়ে লাভ কী?”
“কোন লাভ নেই। তুই কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েও পরীক্ষায় প্রথম হতে পারিস না, কিন্তু আমি না পড়েও পরীক্ষায় প্রথম হতে পারি।”
“তাহলে কী করব- কৌশিক?”
“নকল করে পরীক্ষা দিবি। তাহলেই হয়তো তুই পরীক্ষায় প্রথম হতে পারবি। তবে তোকে আমার চেয়েও আরো বেশী দক্ষ নকলবাজ হতে হবে, অর্থাৎ দক্ষ চোর।”
সৌরভ একটু দ্বিধা-দ্বন্ধে পড়ে যায়। এখন সে কী করবে? সেও কী নকল করে পরীক্ষা দেওয়া শুরু করবে। পরীক্ষায় তো প্রথম হতে হবে! তাই অবশেষে সে নকল করে পরীক্ষা দেবার চেষ্টা করে। পরীক্ষার হলে সৌরভ যেই কাগজের একটি টুকরো বের করে দেখে দেখে পরীক্ষা দেবার চেষ্টা করল ঠিক এইসময়েই একজন স্যার তাকে ডেকে বললেন- “সৌরভ তুমি তো ভালো ছাত্র। তুমি নকল করছ কেন? এগুলো তো ভালো কাজ নয়। তুমি কাগজের টুকরো ফেলে দিয়ে নিজে থেকে পরীক্ষার খাতায় লিখ।”
সৌরভ মনে মনে বলে- “কৌশিক সবসময় নকল করেও ধরা পড়ে না আর আমি জীবনের প্রথমবার নকল করতেই ধরা পড়ে গেলাম।”
পাশের বেঞ্চ থেকে কৌশিক মুচকী হেসে হেসে মনে মনে বলে- “আরে এ তো দেখছি ঠিকমতো চুরি করতেও পারে না। ‘ও’ আসলে আমার মতো দক্ষ চোর নয়।”
পরীক্ষা শেষে কৌশিক বের হয়ে সৌরভকে বলে-“বন্ধু, ওসব তোমাকে দিয়ে হবে না। তুমি পারবে না।”
“হ্যাঁ। তুমি ঠিকই বলেছ। আমি আর ওসবের মধ্যে নাই।”

আসলে আমাদের সমাজে হয়তো অনেক বড় বড় চোর ধরাছোয়ার বাইরেই রয়ে যান। যাদেরকে আমরা হয়তো কখনোই ধরতে পারি না। এবং কখনোই হয়তো তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারি না। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই তাদেরকে চিনতে পারি। মাঝে-মধ্যে হয়তো আমরা কিছু ছিচকে চোরদের ধরতে পারি। এবং তা নিয়ে আমরা হইহুল্লোড় শুরু করে দেই। কারণ চোর তো চোরই, সে ছোট চোর হউক বা বড় চোর হউক। আমাদের হয়তো উচিত- ছোট ছোট ছিচকে চোরদের পাশাপাশি বড় বড় চোরদেরও চিহ্নিত করে ধরে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা। কিন্তু বড় বড় চোররা হয়তো এতোই দক্ষ এবং শক্তিশালী যে আমরা কখনোই তাদেরকে ধরতে পারবো না। তবে আমাদেরকে চেষ্টা তো চালিয়ে যেতে হবে।

গল্পে যে দু’টি নাম উল্লেখ করা হয়েছে তা কেবলই কাল্পনিক। বাস্তবে যদি এ দু’টি নামের সাথে কারোও নাম মিলে যায়- তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করছি।