ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

সড়ক দূর্ঘটনা যেন আমাদের দেশের প্রতিদিনকার স্বাভাবিক ঘটনার মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন সড়ক দূর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। বহু সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। বহু পরিবারের আশা আকাঙ্খা থমকে যাচ্ছে। আজকাল যেসব তথাকথিত সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষকে নিহত করা হচ্ছে, তাঁরা কি শুধুই দূর্ঘটনায় নিহত হচ্ছেন, না-কি হত্যা করা হচ্ছে? এ প্রশ্নটা আজ বেশ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটে থাকে চালকদের অবহেলার কারণে। এছাড়া অপরিকল্পিত উপায়ে রাস্তা নির্মাণের ফলেও কিছু দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করতে চাইলে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে চালকদের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

যাঁরা গাড়ী চালান তাঁরা সবাই মোটামুটিভাবে গাড়ী চালানো শিখেই চালান। কিন্তু তারপরও কেন দূর্ঘটনা ঘটে? কারণ শুধু গাড়ী চালানো শিখলেই চলবে না, রাস্তায় গাড়ী চালাতে আরোও আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই জানতে হবে। আর অধিকাংশ চালকের সে বিষয়গুলো জানা না থাকার কারণেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।

তাই সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন চালকদের সব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। চালকদেরকে দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা, সচেতনতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ এসব বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। কারণ একজন চালক যখন গাড়ী চালান তখন সেই গাড়িতে অবস্থানরত সব যাত্রীদেরকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব তাঁর উপরই বর্তায়। কাজেই চালক যদি দায়িত্বশীল না হন তাহলে তিনি তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না এবং এর ফলে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার পরিণতি কি হয় কমবেশী সবারই জানা।

১২ মে ২০১২ তারিখের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সড়কে মৃত্যুর মিছিল’। শুধু প্রথম আলো কেন এদিনের অনেক পত্রিকায় প্রায় একই ধরণের শিরোনাম। কারণ ১১ মে ২০১২ তারিখে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকায় আরেকটি সড়ক দূর্ঘটনায় দুইজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও দূর্ঘটনায় মানুষ হতাহত হয়েছেন।

সড়ক দূর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছেন, কিন্তু তারপরও কোন কোন সড়ক দূর্ঘটনায় যখন কোন বিশেষ ব্যক্তি মারা যান তখন আমরা সরকারসহ সবাই কিছুদিন হইচই করি। এ বিষয়ে কথা বলি, আবার ভুলেও যাই। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না।

১১ মে ২০১২ তারিখে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনায় দায়ী চালকদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ভালো কথা। আমরা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু এদের শাস্তি দিয়েই কি আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে? না-কি আর যাতে কোন চালকের অবহেলার কারণে দূর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল নিতে হবে?

সড়ক দূর্ঘটনায় কোন মানুষ মারা যাক সেটা আমরা কখনোই চাই না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন রাখছি- সড়ক দুর্ঘটনারোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা নিন। এমনকি যাঁরা গাড়ী চালাচ্ছেন তাঁদেরকেও প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা নিন। কারণ যাঁরা গাড়ী চালাচ্ছেন তাঁদেরকেও দায়িত্বশীলতা, নৈতিকতা, মানবতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া জরুরি। চালকদেরকে দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে পারলেই হয়ত সড়ক দূর্ঘটনা অনেকটা রোধ করা সম্ভব। যেটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

পরিশেষে সড়ক দূর্ঘটনায় যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।