ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা পালিত হচ্ছে। হরতালকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষের খবর শুনা যাচ্ছে।

হরতাল শেষে সন্ধ্যায় হয়ত যথারীতি হরতাল আহবানকারী দল সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের ডাকা হরতাল কর্মসূচী সফল হয়েছে বলে দাবী করবে। তাঁরা হয়তো বলবে- জনগণ হরতাল স্বত:স্ফুর্তভাবে পালন করেছে, এ হরতালে জনগণের সমর্থন ছিল।

একইভাবে সরকারী দলও হয়তো সংবাদ সম্মেলন করে বলবে- বিরোধী দলের ডাকা হরতাল কর্মসূচী ব্যর্থ হয়েছে, তাঁদের ডাকা হরতালে জনগণ সাড়া দেয়নি, জনগণ এ হরতাল প্রত্যাখান করেছে, দেশের সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলেছে, অফিস-আদালত, শিক্ষা কার্যক্রম সবই ঠিকমতো চলেছে।

আসলে এর কোনটি সঠিক? হরতাল সফল? না-কি ব্যর্থ? হরতালে কি জনগণের সমর্থন ছিল? না-কি ছিল না? এ হরতাল থেকে কারা লাভবান হল? আমরা নিরীহ জনগণ এর থেকে কি পেলাম?

হরতাল শেষে উভয় পক্ষই তাঁদের সফলতা/ব্যর্থতা খোঁজে। অথচ হরতালের কারণে সবচেয়ে বেশী যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাঁদের কথা অর্থাৎ সাধারণ জনগণের কথা কি তাঁরা ভাবছেন?
হরতালের কারণে যে দিনমজুরটি তাঁর উপার্জন থেকে বঞ্চিত হল, সে কিভাবে এর ক্ষতি পুষিয়ে নেবে? তাকে হয়তো দু-একবেলা না খেয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হতে পারে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের গগনচুম্বি দামের কারণে তাঁকে হয়ত প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়।

হরতালের কারণে যে রিক্সা চালক, অটোরিক্সা চালক অথবা অন্য যেকোন চালক তাঁর উপার্জন থেকে বঞ্চিত হলো, সে কিভাবে তাঁর ক্ষতি পুষিয়ে নেবে? হরতালের কারণে যে ব্যবসায়ী তাঁর দোকান খুলতে পারল না, অথচ সেদিনের দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ ঠিকই তাকে পরিশোধ করতে হবে, এই ক্ষতি সে কিভাবে পুষিয়ে নেবে? যে ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হলো সে হয়তো তার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিবে এবং যার খেসারত হয়তো আমরা সাধারণ জনগণকে দিতে হবে, বাড়তি দামে জিনিসপত্র কেনার এই ক্ষতি আমরা কিভাবে পুষিয়ে নেব? এছাড়া, হরতালে যাঁদের শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে তাঁরা কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেবে? হরতালের বিষয়ে এরকম হয়তো আরো হাজারটি প্রশ্ন করা যাবে। কিন্তু এর উত্তর কি আমাদের রাজনীতিবিদরা দিতে পারবেন?

এখন কেউ কেউ বলতে পারেন- হরতাল পালন না করলেই তো উপরোক্ত সমস্যায় কাউকে পড়তে হবে না। আরে ভাই সেটির কি উপায় আছে। হরতালের দিনে রাস্তায় উভয় পক্ষ যেসব কর্মকান্ড করেন তাতে মানুষজন কিভাবে ঘর থেকে বের হবে? মানুষ তো ভয়েই ঘর থেকে বের হন না। কখন কোন বিপদ আসে, বলা তো যায় না। সেদিন একজনকে বলতে শুনলাম, তিনি বলছেন-হরতাল দেয় বিরোধীদল আর পালন করে সরকারী দল! তিনি আরো বলছেন- যেকোন কারণে কেউ হরতাল ডাকলেই সেটি পালিত হয়ে যায়, সেটি জনস্বার্থে হউক আর ব্যক্তি স্বার্থে হউক। কারণ হরতালের আগের দিন থেকেই কে বা কারা বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ করে জনগণের মধ্যে ভয়-ভীতির সৃষ্টি করা হয়। এ ধরণের হামলায় কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হন। হামলা, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ থেকে জনগণকে রক্ষা করতে তখন মাঠে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। অনেক সময় সেটি থেকে সাধারণ নিরীহ জনগণও রক্ষা পান না।

ফলে সাধারণ জনগণ এসব হামলা, ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ, ধরপাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘর হতে বের হন না। জনগণের মধ্যে সবসময় একটা আতংক বিরাজ করে। তাহলে কোন সাহসে জনগণ ঘর থেকে বের হবে?

অতএব হরতাল সফল না-কি ব্যর্থ, হরতাল স্বত:স্ফূর্তভাবে পালন না-কি প্রত্যাখান, সেটির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হরতাল থেকে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ অথবা কারোও কি কোন লাভ হচ্ছে?

পরিশেষে আমাদের দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের নিকট আকুল আবেদন হচ্ছে, যে ধরণের কর্মসূচীর ফলে জনগণের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হন, দয়া করে সে ধরণের কর্মসূচী পরিহার করুন।