ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুমোদন করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় এর প্রতি লক্ষ্য দেওয়া প্রয়োজন। অনুমোদিত ঢাকা ডিটেইল্ড এরিয়া প্লান (ড্যাপ) এর কয়েকটি দিক ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো

আবাসন
গুলশান, বনানী এবং বারিধারা এলাকায় একটি বিশেষ শ্রেণীকে সুবিধা দিতে জনঘনত্ব প্রতি একরে ২৩৫ জন ধরা হয়েছে। উল্লেখিত এলাকায় প্রতি একরে অবশ্যই আরো বেশি মানুষ থাকার সুযোগ রাখতে হবে। তা না হলে ঢাকার অন্যান্য এলাকার জনঘনত্ব অধিক হওয়ায় বাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি একরে গড়ে ৪০১ জন মানুষ বাস করে। ঢাকায় ভবিষ্যতে প্রায় ৩ কোটি মানুষ বাস করবে। সুতরাং সে অনুপাতে জনঘনত্ব কি রকম হবে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে।

অধিক আয় করে এরকম ৪৪ লক্ষ মানুষের আবাসনের জন্য ৩৪ শতাংশ জায়গা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৪৫ লক্ষ স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে যারা দারিদ্রসীমার নীচে তাদের জন্য ০.৩ শতাংশ জায়গা রাখার কথা বলা হয়েছে। এখনই যে সকল বস্তি রয়েছে সেগুলি অত্যন্ত জনাকীর্ণ। আর যে পরিমাণ জায়গা তাদের জন্য রাখা হয়েছে তাতে প্রতি একরে ৬,০৪০ মানুষকে থাকতে হবে। যা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার।

আবাসনের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য নিম্ন আয়ের ৪০ শতাংশ মানুষের চেয়ে ২০ গুন বেশি জায়গা রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য খোদ রাজউক কর্তৃক উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য প্লট উন্নয়ন ও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অথচ একটি সভ্য রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গরীব অসহায়দের আবসন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবে সেটিই কাম্য। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে পাঁচটি মৌলিক সুবিধার মধ্যে বাসস্থান অন্যতম।

বস্তিবাসীকে স্থানান্তর করার কথা বলা হয়েছে। তাদের নতুন আবাসন কোথায় হবে তার জন্য সুনির্দ্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা হয় নি। তবে শহরের বাইরে তাদের পাঠানো হবে এটুকু উল্লেখ আছে। কোন একটি শ্রেণী নয় প্রতিটি এলাকায় সব পেশার মানুষকে মিশ্রভাবে বাস করার সুযোগ থাকতে হবে। রাষ্ট্র যখন পরিকল্পনা করবে তখন সব শ্রেণী পেশার মানুষের সুযোগ সুবিধা দেখতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিন শহরের বাইরে থেকে কোনভাবেই সময় এবং অর্থ খরচে করে ভিতরে এস কাজ করবে এটি অসম্ভব ব্যাপার। নীতি নির্ধারকদের যারা এরকম পরিকল্পনা তৈরি করেন এরাতো তাদেরকেই বিভিন্ন ধরনের সেবা দিতে ব্যস্ত।

নিম্ন আয়ের মানুষকেও অন্যান্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বাস করার সুবিধা থাকতে হবে। যাতে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে অন্য যে কারো সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখতে পারে।

(চলবে)

***
ড.মাহবুবুল বারীর ড্যাপ রিভিউর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ