ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ইসলাম এমন একটি ধর্ম যাকে শুধুমাত্র ধর্ম বলা ভুল হবে।ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবন অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু আচার পালনের মধ্যে ইসলাম সীমাবদ্ধ নয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, চলনে-বলনে-করনে ইসলামের আদর্শকে অনুসরন করাই প্রকৃত ইসলাম।

পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মেই অন্য ধর্মের প্রতি কটাক্ষ করা বা বিকৃত ভাবে কোন কিছু প্রকাশ করা বা অপব্যাখা করার অধিকার নেই তাই অন্য ধর্মের প্রতি কটাক্ষ করাকে কোন ভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলা যায় না।পৃথীবির যে কোন ধর্মের ধর্মপ্রান ব্যক্তিরা অন্য ধর্ম বা ধর্মীয় ব্যক্তির প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন না।

কোথাকার কোন এক তৃতীয় শ্রেনীর নাস্তিক আমাদের মহানবী (সঃ) কে নিয়ে চলচিত্র তৈরী করেছে তা নিয়ে জ্বালাও পোড়াও হরতাল দিয়ে নিজের দেশের ও জনগনের ক্ষতি করে সেই নাস্তিকের উদ্দেশ্যকে সফল করে দিলাম।পাকিস্তানে ঝরে গেল কতগুলো নিরীহ প্রান অথচ পাকিস্তান সরকার শুধু বিক্ষোভ জানানোর জন্য এবং মহানবী সঃ কে সন্মান জানানোর জন্য একদিন সরকারি ছুটি পর্যন্ত ঘোষনা করেছিল তারপরও সহিংসতা বন্ধ করা গেল না।কারা করল?, কেন করল? এমনি ভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ জানানো হল সহিংস ভাবে। লিবিয়ায় নিহত হল মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ চারজন। ইসলামের কি লাভ হলো। অথচ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য স্বয়ং মহনবী সঃ বলে গিয়েছেন।

সালমান রুশদী নামক এক বৃটিশ লিখক “স্যাটানিক ভার্সেস” নামক একটি বইয়ে মহানবীকে নিয়ে কটাক্ষ করে বটতলার সাহিত্যিক থেকে একেবারে ওপরতলার সাহিত্যিক বনে গেলেন মুসলমানদের মারমুখি প্রতিবাদের কারনে। তৎকালের ইরানের ধর্মিয় নেতা আয়াতুল্লা খোমেনি সালমান রুশদীর মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত ঘোষনা করেছিলেন। ইসলামের কি হল জানি না তবে সালমান রুশদী ও তার লিখা বই সারা পৃথিবীতে পরিচিতি পেয়ে গেল।এবারও তাই হলো ইনোসেন্স অব মুসলিম চলচ্চিত্রটি নিয়ে।এধরনের চলচিত্র নির্মাতাদের তাদের প্রতিবেশীরা চিনে কিনা সন্দেহ আছে।অথচ এখন বিশ্ব চিনছে।

আমরা আমাদের ধর্ম বা নবী রাসুল সন্ধন্ধে কেউ কটাক্ষ করলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ জানাবো এবং সেই প্রতিবাদের ভাষা কি হবে তা ইসলাম বলে দিয়েছে,সেটা হবে শান্তিপূর্ন, সহিংস নয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা মানব বন্ধন ও মৌন মিছিল করে শান্তিপূর্ন ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে,এটাই ইসলামের রীতি, কারন পৃথিবীতে ইসলাম ধর্ম প্রবর্তন হয়েছে শান্তির বাণী নিয়ে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। মহানবীর প্রতি মুসলমানদের শ্রদ্ধার গভীরতা পরিমাপ করা কি ঐ নাস্তিক তৃতীয় শ্রেনীর চলচিত্র নির্মাতা নাকুলা বাসিলার পক্ষে কি সম্ভব? মহানবী সঃ নিয়ে কটাক্ষ করে বিশ্ববাসীর কাছে কটাক্ষকারিরা নিজেরাই আজ ঘৃনার পাত্রে পরিণত হয়েছে।এই নির্বোধ “ড্রাকুলা”কে সমর্থন করেছে এমন কোন ব্যক্তি সারা বিশ্বে একজনও পাওয়া যায় নি।বরং তার ঠিকানা এখন কারাগার।

কিন্তু আমরা মুসলমানরা সারা বিশ্বে যে ভাবে ধ্বংসাত্মক ও সহিংস ভাবে মানুষ হত্যা করে প্রতিবাদ জানালাম তা কি প্রকারান্তরে মহানবী সঃ এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন নয় ?
আল্লাহ বলেছেন হাশরের ময়দানে মুসলমানদের তিনি ৭৩ কাতারে বিভক্ত করবেন,তার মধ্যে এক কাতার জান্নাতে যাবে বাকী ৭২ কাতার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তার মানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই ঘাপটি মেরে বসে থাকা মুসলিম নামধারীরা ইসলামের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করছে।তাই তো দেখা যাচ্ছে, কোথাকার কোন এক মেরুদণ্ডহীন নাস্তিকের জন্য কত লক্ষ মুসলমান ক্ষতিগ্রস্ত হলো সারা বিশ্বে।

এসব চুনোপুঁটি চলচিত্র নির্মাতা,সাহিত্যিকদের বক্তব্যর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাব কিন্তু এরা কোনদিনই ইসলামের বিন্দু মাত্র ক্ষতি করতে পারবে না বরং যে সব মুসলমান এদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বে বিভিন্ন স্থানে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন করে,মানুষ হত্যা করে,হরতাল করে, লুটপাট চালায়,মহনবী সঃ ও ইসলাম ধর্মকে রাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের কাছে ইসলাম সম্বন্ধে ভুল বার্তা পাঠায় তাদের কাছ থেকেই ইসলামের ক্ষতির সম্ভবনা বেশী।

অন্যের অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেই যদি অপরাধ করে তা অন্যের অপরাধকে সমর্থন করার সামিল।

আমরা মুসলমানরা সব বিচার নিজেরাই করে ফেলতে চাই,ভুলে যাই শেষ বিচারক একজন আছেন।

ইরাকের সাদ্দাম হোসেন দীর্ঘ নয় বছর যুদ্ধ করলো তার প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের সাথে।তাকে উদার ভাবে সাহায্য করল আরেক মুসলিম রাষ্ট্র কুয়েত এবং আমেরিকা।ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই ইরাক আমেরিকার অস্ত্রে বলীয়ান হয়ে দখল করে নিল মুসলিম দেশের চিরশত্রু ইসরায়েলকে নয় বিপদের বন্ধু কুয়েতকে। উপকারির জন্য সাম্রাজ্যবাদের উপহার। আমেরিকা বসে থাকবে কেন সেও উপহার হিসেবে ইরাক দখল করে নিল। এটা উপকারের সাম্রাজ্যবাদী উপহার।আমেরিকাকে সাদ্দামের উপহার।সাদ্দাম ক্ষমতা হারাল, দেশ হারাল,পরিবারের অধিকাংশ সদস্য প্রান হারাল,অত্যন্ত করুন ভাবে ফাঁসির কাষ্ঠে নিজের জীবন গেল।আমেরিকা ইরাককে গুঁড়িয়ে দিলো।ইসলামকে কি গুঁড়িয়ে দিতে পারলো?

লাদেন আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এই ধংস করার কাজ লাদেনকে শিখিয়েছে আমেরিকা।লাদেনেরও প্রান গেল সেই আমেরিকার হাতে।লাদেনকে খুঁজে পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে, আফগানিস্তান ধংস করতে হয়েছে,পাকিস্তানকে ধংস করতে হয়েছে,কিন্তু ইসলাম কি ধংস হয়েছে?

লাদেন মরার আগে মুসলমানদের শিখিয়ে দিয়ে গেছে কিভাবে একজন মুসলিম আত্মঘাতি বোমা হামলাকারি প্রয়োজনে মসজিদে ভিতর ঢুকে হলেও শত শত মুসলিমকে হত্যা করবে। এরা কি ইসলামকে রুখে দিতে পারলো?

ব্যাক্তি বিশেষের কোন কর্মকাণ্ডে ইসলাম ও মহানবী সঃ কে অপমান করা সম্ভব নয়।তাঁর জীবদ্দশা থেকে আজ পর্যন্ত কেউ সফল হয়েছে এমন প্রমান ইতিহাসে নেই বরং তাঁকে অপমান করতে এসে নিজেরাই তাঁর অনুসারিতে পরিনত হয়েছিল। নাকুলা বাসিলার জীবনেও হয়তো এমন কিছুই ঘটবে।

মুসলমানরা আজ ইসলামের নীতি থেকে বিচ্যুত।সারা বিশ্বে মুসলমানরাই আজ মুসলমানদের হন্তারক।সর্বাগ্রে এই হত্যা বন্ধ করার জন্য প্রতিবাদ করা ফরজের মত।