ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমাদের দেশে দুর্নীতি দমনের জন্য একটি কমিশন আছে যার নাম দুর্নীতি দমন কমিশন কিন্তু আমাদের দেশে যে হারে সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বিস্তার লাভ করেছে এবং যে সব রাঘব বোয়ালরা এসব দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের বিচার করা কোন ভাবেই সম্ভব নয় তাই দুর্নীতি দমন কমিশনকে নাম পরিবর্তন করে দুর্নীতি গোপন কমিশন রাখা উচিত কারন এত দুর্নীতির বিচার করার চেয়ে গোপন করা অনেক সহজ।গোপন করতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রের শাসক দুপক্ষেরই লাভ। শাসক বলতে পারবে তাদের আমলে দেশে কোন দুর্নীতি নেই সবাই একেবারে সু উউউউউ জা হয়ে গেছে আর রাঘব বোয়ালদের তো পোয়া বারো,ন্যাংটা থেকে একেবারে ঘোমটা।

বসুন্ধরা গ্রুপ সরকারের আশি একর জমি দখল করে ফেলেছে ,এসব জমি উদ্ধারের কোন সুপারিশ করেনি ভূমি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বসুন্ধরা থেকে বাজার মূল্যে জমির দাম আদায় করার সুপারিশ এবং রাজউকের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি এ কাজে বসুন্ধরাকে অবৈধ ভাবে সাহায্য করেছেন তাদেরকে বিচারের আওতায়এনে বিচার করার সুপারিশ করা হয়নি তা নাকি সম্ভব নয় কারন তারা অবসরে চলে গেছেন।বাংলাদেশে দুর্নীতির নতুন দুটি উপায় আবিষ্কার হলো

১.সরকারের জমি যত ইচ্ছা দখল করে ফেলুন,সরকার যখন টের পাবে কিছুদিন গাঁইগুই করে দামটা ধরিয়ে দিলেই কেল্লা ফতে!

২.অবসরের আগ মহুর্তে যত পারেন মাল পানি কামিয়ে নিন এবং মনের আনন্দে অবসরে চলে যান কোন প্রকার তকলিফের সম্ভবনা নেই ।সরকারি কর্মচরির শাস্তির কোন উদহারন নেই,অপরাধ করলে উনারা বরখাস্ত ছুটি পান তবে অবসরের আগে,পরে সিস্টেম নাই।

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটসূচি ভেঙে পড়েছে।ফ্লাইটসূচি ছিল কবে? ফ্লাইটের সময় যদি ২৮ তারিখ বিকাল ৫টায় দেওয়া হয় ৩০তারিখ বিকাল ৫টায় এলেও কোন অসুবিধা নেই কারন পরদিন বিকাল ৫টায় জানা যাবে বিমান কখন ছেড়ে যাবে।

বাতাসের মতিগতি বুঝা সম্ভব কিন্তু বিমানের মতিগতি বুঝে কার বাপের সাধ্যি।এত বড় দুর্নীতি ও লোকসানের বোঝা সরকার কেন বহন করছে এ এক আজব রহস্য।আজ পর্যন্ত বিমানের দুর্নিতির কোন সুরাহা দুর্নিতি দমন কমিশন করতে পেরেছে কি?বিমানের খুব ছোট একটা দুর্নিতির কথা শোনা যায় যে বিমানে ভ্রমন ইচ্ছুক যাত্রীরা হন্যে হয়ে খুঁজেও টিকিট পায় না অথচ বিমান কোটি কোটি টাকা লোকসান দেয়।যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশী হলে লোকসান কিভাবে দিতে হয় অর্থনীতিবিদরা বিমান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

ডেসটিনি,যুবক,এর মত এমএলএম কেম্পানীগুলো এদেশের লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষকে সর্বসান্ত করার পর এখন তাদের জন্য নতুন আইন হচ্ছে।পাবলিককে যত পারো ঠকাও,যে ভাবে পারো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নাও,ধরা খেলে সমস্যা নেই মাত্র ৫০ লক্ষ জরিমানা দিলে পাবলিকের ঘুম হারাম তোমাদের টাকা হালাল।বানিজ্য মন্ত্রনালয় তো এমএলএম ব্যাবসাকে”দ্রুত বিকাশমান ব্যবসা” বলে অমৃত বচন দিয়েই দিয়েছে ।

আগে মেরেছে বে-আইন দিয়ে তার কোন প্রতিকার হওয়ার আগেই আইন দিয়ে মারার পরিকল্পনা চলছে।

আইনের মাইর দুনিয়ার বাইর। সোনালী ব্যাংক -হলমার্ক দুর্নীতিতেও কত আইনের মারপ‌্যাঁচ শুরু হয়ে যাবে!

দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত দুর্নীতি “দমন” না করে “গোপন” করুন। গোপন করার মত এত সহজ পন্হা যদি আপনাদের জানা না থাকে সোনালি ব্যংকের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করুন,বহুত ফয়দা হবে।ভাবুন, দমন ভাল না গোপন ভাল। বহু পক্ষের লাভ হবে।ক্ষতি শুধু বলীর পাঁঠা, জনগনের। তাতে কি ?