ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

অহিংস যাদের পরম ধর্ম সেই বৌদ্ধরা আক্রান্ত হয়ে বাস্তুভিটা বিচ্যুত হলো এবং একজন বৃদ্ধা নিহত হলো নিজের দেশ নিজের মাতৃভূমিতে তাদের দ্ধারা, যাদের পরম ধর্ম শান্তি।এই আক্রমনটা যদি কোন রাজনৈতিক কূটকৌশলও হয়,এবং তাতে যদি মুসলমান,হিন্দু এমনকি যদি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীও থাকে নিশ্চিত ভাবে তারা তাদের স্ব স্ব ধর্ম থেকে অবশ্যই বিচ্যুত হয়েছেন। কারন কোন ধর্মই অন্য ধর্মকে আঘাত হানা সমর্থন করে না।

আর যদি মুসলমান হয় তারা মুসলিম সম্প্রদায়কে এবং ইসলামকে অপমান করেছেন কারন ইসলাম এ ধরনের ধংসাত্বক কাজ কোন অবস্থাতেই সমর্থন করে না বরং এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে। যে ধর্মের মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে যে নামেই ডাকুক সারা বিশ্বের সব ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষরা সৃষ্টিকর্তা যে একেশ্বর এবং শেষ বিচারের মালিক তা বিশ্বাস করে।

সৃষ্টিকর্তা ইচ্ছা করলে এক নিমেষে পৃথিবী ধংস করে দিতে পারে। তিনি তার সব সৃষ্টির, এমনকি তাঁর প্রতি অবিশ্বাসীদের প্রতিও তিনি দয়াময়, তাদের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা তিনিই করেন অথচ তাঁরই সৃষ্টি মানুষ ধর্মের নামে ধ্বংস চালিয়েই যাচ্ছে।নিজের ধর্মের প্রতি অন্যের অশোভন আচরন যদি অপমানকর হয় তাহলে অন্যের ধর্মের প্রতি অশোভন আচরনও তেমনি হওয়ার কথা।
আশরাফুল মখলুকাত বলতে সৃষ্টিকর্তা শুধু মুসলমানের কথা বলেন নি, সারা বিশ্বের সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের কথা বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি ধর্মের মানুষের কথা বলেছেন, এমনকি তাঁর প্রতি অবিশ্বাসীদের কথাও বলেছেন।

ধর্মীয় বিশ্বাসের বিচার করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারও নেই। তাহলে ওরা কারা যারা সারা বিশ্বে ধর্মের নামে ধংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে? ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধংস করছে? সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামকে একটি সন্ত্রাসী ধর্ম হিসাবে পরিচিতি দিতে চাচ্ছে।

যে অদৃশ্য শক্তি একশ ফিট লম্বা বৌদ্ধদের মূর্তিটি রক্ষা করেছেন সেই অদৃশ্য শক্তিই মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি সৃষ্টিকর্তা।বিশ্বাসী,অবিশ্বাসী সবাইকে তিনিই রক্ষা করেন। স্রষ্টার বিচারিক ক্ষমতা কি তার সৃষ্টি নিজের হাতে তুলে নিতে চাচ্ছে?

তবে কি কিছু মানুষ নিজেদেরকে সৃষ্টিকর্তার চেয়েও ক্ষমতাশালী মনে করে? আবহমান কাল ধরে যে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি এ দেশের অহংকার তাতে কেউ বিষবাষ্প ঢেলে দিতে চাচ্ছে। এখুনি এদের রুখতে না পারলে একদিন এই বিষবাষ্প পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিকল করে দিতে পারে।