ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

অপচিকিৎসা নাম্বার১।
আমার এক আত্মীয় গত কোরবানি ঈদের আগে একদিন সকালে ঘুম থেকে জাগার পর বুঝতে পারল সে কথা বলতে পারছে না,কথা বলার চেষ্টা করলে তার গলা দিয়ে একধরনের চিঁ চিঁ শব্দ ছাড়া আর কোন প্রকার স্বর বের হচ্ছে না। ভয় পেয়ে গেল সে। কিছুটা আত্মস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য এপোলো হসপিটালের দ্ধারস্থ হলো। ডাক্তার এলেন,দেখলেন এবং রায় দিলেন গলার মাংসের বায়োপসি করতে হবে। এটা ক্যানসার জনিত সমস্যা হতে পারে।উপস্থিত সবাইর মাথায় বজ্রাঘাত।রোগীর গলার চিঁ শব্দও বন্ধ হবার জোগাড়। থাকেন নর্দা এলাকায়। প্রয়োজনের চেয়ে আয়োজন বেশী। এপোলোর রায় মানতে পরলেন না গেলেন ইউনাইটেড হসপিটালে সেখানেও সেই বজ্রাঘাত তুল্য রায়। আমার এই আত্মীয়টি সবকিছুতে হাইজানিক এবং কিছুটা খুঁতখুঁতে স্বভাবের তাই যখনই বিদেশে যান ডাক্তারের পিছে কিছু খরচ তিনি করবেনই। আস্তে আস্তে তার গলার স্বর অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেলেও ক্যানসার চিকিৎসার জন্য চলে গেলেন সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালে সেখানে ডাক্তারের রায় শুনে তার গলা দিয়ে আবার চিঁ চিঁ শব্দ বেরুতে লাগলো। ডাক্তারের রায়, তার গলায় কোন সমস্যা নেই।ইচ্ছে করলে রোগী শাস্ত্রীয় সংগীত গাইতে পারেন।কোন অসুবিধা হবে না। রোগীর অনুরোধের পরেও তারা পরীক্ষা-নিরিক্ষার ধারে কাছে গেলেন না।

অপচিকিৎসা নাম্বার ২।
আমার এক বন্ধুর বুকের ব্যথার কারন নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার সাহেবের পরামর্শে এন জি ও গ্রাম করালেন ঢাকায় শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটালে।ফলাফল? একটি ব্লক আছে।রায়? রিং পরাতে হবে। খরচ লাগবে তিন লক্ষাধিক টাকা। টাকার অংক শুনে বন্ধুর কপালে ঘাম আর বুকের ধড়পড়ানি বেড়ে গেল।হাসপাতাল ছাড়লেন রিং ছাড়া। অলস সময় কাটান আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন কি করা উচিত।সিদ্ধান্ত নিলেন ভারত গিয়ে ডাক্তার দেখাবেন। দেখা যাক তারা কি বলে। ভারত গেলেন, কোলকাতার মুকুন্দপুরে রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর হসপিটালে,সেখানে ডাক্তারের কথা শুনে তার মুখ না কি এতবড় হা হয়ে গিয়েছিলো যে তার ভিতর দিয়ে হার্ট সাইজের অর্ধশত রসগোল্লা অবলীলায় ঢুকে যেত।ভারতীয় ডাক্তার বলেছে এই ব্লকে রিং পরালে তার প্রাণহানির আশংকা ছিলো।তারপর? এদের যদি আর্থিক সঙ্গতি না থাকতো তাহলে ফলাফল কি হতো?

উল্লেখ্য, দুটো ঘটনাই অতি সাম্প্রতিক কালের।