ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার ২ ডিসেম্বর কেরানিগনঞ্জে একটি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন কালে জনসাধারনকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন ।নিসন্দেহে একটি সৎ আহবান কিন্তু মাননীয় দেশ নেত্রি আপনি কি জানেন আপনার আহবানের অনেক আগে থেকেই সাধারন মানুষ প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে কয়টা টাকা বাঁচানোর জন্য।সাধারন মানুষ বিদ্যুতের অপচয় করছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের মিটার রিডার থেকে শুরু করে বড়সাহেব পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য শতভাগ দায়ী অথচ তাদের সেই দুর্নীতির শতভাগ খেসারত আদায় করা হচ্ছে জনসাধরনের কাছ থেকে বিদ্যূৎ বিল বাড়ানোর মাধ্যমে। দুর্নীতি বাড়ে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ে। যারা বিদ্যুৎ চুরি করে দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে তাদের কোন বিচার হচ্ছে না অথচ জনগনকে এই দুর্মূল্যের বাজরে বাড়তি বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।জনগন যেভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে এর চেয়ে বেশী সাশ্রয় করতে হলে অন্ধকারে রাত কাটানো ছাড়া উপায় নেই।
শুধু এই ঢাকা শহরেই খুঁজে দেখুন কম পক্ষে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ মিটারের নিরাপত্তা সিল ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যাবে এবং মিটারের সাথে রিডিং এর কোন মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আমরা জানি সর্বোচ্চ ৩১ দিনে মাস হয় কিন্ত আমার অক্টোবর মাসের বিল এসেছে ৩৬ দিনের যাতে ৩০০ ইউনিটের বেশী দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায় করা যায়। বাড়ীওয়ালাকে অভিযোগ করার পর বলে, বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করলে পরের মাসে আরও ৫০ ইউনিট বেড়ে যাবে।ওরা সরকারি লোক, আমরা বেসরকারি জনগন ওদের কাছে জিম্মি।প্রতিটি বাড়ীর প্রতিটি ফ্লাটের ভিতর বিদ্যুৎ মিটার থাকার কথা অথচ নীচতলার সিঁড়ির নিচে সব মিটারের অবস্থান এসব মিটার দেখতে হলে হামাগুডি দিয়ে ঢুকতে হয়। মিটার রিডাররা সম্ভবত কোন সরিসৃপ জাতীয় প্রাণী এরা কখন আসে কখন যায় তা দেখার সৌভাগ্য ভাড়াটিয়াদের হয় না।

ইদানিং নতুন উৎপাত।ব্যাটারি চালিত বাইকের ব্যাটারি বিদ্যুতে রিচার্জ করতে হয়,প্রতিদিন হাজার হাজার বাইক অবৈধ ভাবে রিচার্জ করা হয়। এই বাইক রিচার্জের জন্য যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরছ হয় সরকার কি সে পরিমান বিল পায়?এদের জন্য আলাদা মিটারের কি অনুমতি আছে? এরা বিদ্যুত কোথায় পায়? ঐ বিল সিস্টেম লস্ হয়ে জনগনের কাঁধে সওয়ার হয়।এ ছাড়া ঢাকা শহরের প্রতিটি বস্তিতে অবৈধ সংযোগ নিয়ে ইলেকট্রিক হিটারে রান্না বান্নার কাজও করা হয়। সাশ্রয় নিয়ে ওদের মাথা ব্যথা নেই।নির্ধারিত মাসিক টাকায় যত ইচ্ছা তত জ্বালানো যায়।
কোন রাজনৈতিক নেতা ও বিভাগীয় রাঘব বোয়ালদের সমর্থন ছাড়া বছরের পর বছর ধরে এত বড় সাগর চুরি কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

তাই জনগনকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলুন তবে তার আগে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় এবং দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরী।

প্রশ্রয় বন্ধ হলে বিদ্যুতের সাশ্রয় এমনিতেই বেড়ে যাবে।উৎপাদন খরছ অর্ধেকে নেমে আসবে ।ভর্তুকি লাগবে না।

আপনার কি মনে আছে, বঙ্গবন্ধু একবার বলেছিলেন “চাটার দল সব খেয়ে ফেলছে” সেই চাটার দল আবার ফিরে এসেছে ।

এই চাটার দলকে রুখে দেওয়াটা দেশের জন্য সবচেয়ে বড় উন্নয়ন।