ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের দেশে এক সময় বাম দল দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি চীনা বাম অন্যটি রাশিয়ান বাম।বামপন্থি বলতে তখন চোখের সামনে ভেসে উঠতো কিছু আদর্শবান মানুষের ছবি।চীনা বামের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা ভাসানি আর রাশিয়ান বামের নেতৃত্বে ছিলেন কমরেড মণিসিং ও অধ্যাপক মুজাফর আহামেদ।এসব শ্রদ্ধাভাজন নেতাদের লোকান্তরের পর বামরা আর বাম রইলো না,চলমান সুবিধাভোগী রাজনৈতিক স্রোতের সাথে মিশে গেল।বিশেষ করে জিয়াউর রহমান সাহেব যখন জাতীয়াবাদী দল নামে রাজনৈতিক দল গঠন করলেন তাতে স্বাধীনতা বিরোধি মুসলিম লীগ এবং চীনা বামদের আধিক্য বিস্ময়কর। অবশ্য স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজনৈতিক ভাবে চীনা বামদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।কারন চৈনিকরা পাকিস্তানের সমর্থক ছিল।বি এন পির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ও খন্দকার দেলওয়ার হোসেন এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চীনা বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অন্য দিকে রাশিয়ান বামরা সরসরি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল কারন রুশরা আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল।
সময়ের স্রোতে চীনা পন্থিরা বি এন পির মধ্যে বিলীন হয়ে গেলেন আর রুশপন্থিরা বিলিন হয়ে গেল আওয়ামি লীগের মধ্যে।এককালের রুশ বাম নেত্রী অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরি আজ আওয়ামি লীগের ডাকসাঁইটে মন্ত্রী।

বামেরা বামে নেই ,মধ্য অথবা ডানে চলে গেছে।বর্তমান প্রজন্মেকে সাবেক আদর্শবাদিরা কোন আদর্শ উপহার দিতে পারেনি বরং নিজেদের আদর্শকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষমতার লোভের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে।

তবে এখনও কিছু বামপন্থী আছে,নখদন্তহীন।এরা এখন শক্তিহীন,পরগাছা,পরজীবি। অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে তাদের চলতে হয়। তারাই এতটাই শক্তিহীন যে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কোন সুযোগই তাদের নেই। তাদেরকে এখন টাইগার বাম বলা চলে।অন্যদের মাথা ব্যাথা সারানো যার কাজ।

পাদটীকাঃ-গালিব মেহেদির ব্লগ। তৃতীয় শক্তি,বাম রাজনীতি নয় কেন, এর মন্তব্য করতে গিয়ে এই পোষ্ট।