ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জামাত-শিবির আসলে কি চায়? তারা নিজেরাই কি তা জানে ? তারা আল্লাহর আইন চায়,সৎ লোকের শাসন চায়।অতি উত্তম চাওয়া।তবে তাদের নিজের দলের ভিতর এধরনের আইন ও শাসনের কি চর্চা আছে? ১৯৭১ সালে তারা যা করেছিল তা কি আল্লাহর আইন ছিল না কি তাঁর সৃষ্টি “আশরাফুল মুখলুকাতে”র প্রতি চরম অবমাননা ছিল? খুন,লুটতরাজ,ধর্ষন, নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা,যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে দেশকে মেধাশুন্য করার জন্য সৎ মেধাবি নিরস্ত্র মানুষগুলোকে পৈশাচিক ভাবে হত্যা, জামাত-শিবিরের দৃষ্টিকোণ থেকে কি “সৎ” লোকের কাজ? আল্লাহর আইন? আজ থেকে আড়াইশ বছর আগে অতি ভদ্র ইংরেজ সন্তানরা বণিকের ছদ্মবেশে এই অঞ্চলে পদার্পন করে শেষ পর্যন্ত পুরো দেশটাই দখল করে নেয়।।ব্যবসা থেকে রাজনীতি। বণিক থেকে নবাব হয়ে পুরো ভারতবর্ষ গ্রাস করে ফেললো।প্রায় ২০০ বছর ইংরেজদের পদাবনত হয়ে রইল ভারতবর্ষ।

জামাত একটু অদল বদল করে আগে বণিক না সেজে রাজনিতিবীদ সেজেছে তাও আবার ইসলামিক রাজনীতি।রাজনীতি থেকে ব্যবসা। ব্যবসা থেকে একদিন প্রধান মন্ত্রি।অতি মধুর স্বপ্ন! তবে কিনা শাহবাগের পোলাপানরা সেই মধুর স্বপ্নকে স্বপ্নদোষে পরিনত করে দিল।

জামাতিদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় ইসলামের জন্য আপনাদের জন্ম লগ্ন থেকে এ পর্যন্ত কি কি করেছেন তাহলে তারা দুই লাইনও বলতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে অবশ্য রগ কাটার বিষয়ে কয়েক হাজার লাইন বলেও শেষ করতে পারবে না! রগকাটা,চোরাগুপ্তা হামলা সত্যিকার ইসলামে না থাকলেও জামাতের ইসলামে আছে।

ইমলাম ধর্ম তো আমাদের মহানবী হযরত মোহাম্মাদ সঃ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন সেই ১৪০০ বছর আগে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁকে কোন প্রকার সহিংসতার আশ্রয় নিতে হয়নি তাছাড়া তিনি ধর্মকে কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠির উপর জোর করে চাপিয়ে দেননি। তিনি শান্তিপুর্ন উপায়ে আল্লাহর মহাত্ম প্রচার করেছেন,যারা তাঁর কথা বিশ্বাস করেছে তারা তাঁর দলে যোগ দিয়েছে আর যারা তাঁর কথা বিশ্বাস করেনি তাদের ব্যপারে তাঁর কোন অনুযোগ ছিল না এবং তিনি তাদেরকে কোন অভিসাম্পতও করেননি।তাঁর অনুসারিরা কারও উপর কোন চোরা গোপ্তা হামলাও করেনি।

বর্তমানে জামাত-শিবির সারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে কোন ধরনের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায়? তাদের মনের মত নতুন ইসলাম?আসলে এরা ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মত একটি বেনিয়া গোষ্ঠি।এদের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ইসলামের বৃদ্ধি নয়।আল্লাহ ও রাসূল এদের মুখের বচন মাত্র, অন্তরের বিশ্বাস নয়।

এরা শুধু যে মানবতা ও দেশ বিরোধী তা নয় এরা ইসলামেরও বিরোধী।এরা আবার গৃহযুদ্ধের হুমকি দেয়,গৃহ যুদ্ধের মাধ্যমে তারা এদেশে কি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়?

পাকিস্তানের ২৩ বছর, বাংলাদেশে ৩৮ বছর+বি এন পির পৃষ্ঠপোষকতা+৯৫% মুসলিম অধ্যূষিত দেশ=৫% ভোট। হায়রে জামাতের ইসলাম! মুসলমানরাই তোমাদের বিশ্বাস করে না,তোমরা কাদের জন্য কোন ইসলাম চাও?

এদেশের প্রতিটি ধর্মপ্রান মুসলমানদের উচিত ইহলোকে বিশ্বাসী এই জামাত -শিবিরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।এরা স্বাধীনতার শত্রু,অবিভক্ত ভারতেও এদের পূর্বসুরির কোনদিন স্বাধীনতার আওয়াজ তোলেনি,১৯৪৭ এ পাকিস্তানের স্বাধীনতাও ওদের পছন্দ হয়নি,১৯৭১ এ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে এরা স্রেফ ধর্ষক আর খুনির ভূমিকায়। অথচ সেদিন যদি তারা এদেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের হানাদার পাকিস্তানি বাহীনির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসতো তাহলেও ভাবা যেত তারা এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কিন্ত তারা তা করেনি। অথচ একটি স্বাধীন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ইসলাম ইসলাম বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে এই মানবতার শত্রু,দেশের শত্রু,সমাজের শত্রু সর্বোপরি ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রুরা।

জামাত, এমন একটি দল, যে দল কোনদিন তাদের নিজেদের ইতিহাস লিখতে পারবে না।

মাত্র তিন মিনিটের নীরবতা আর লক্ষ মোমের স্নিগ্ধ আলোর অহিংস প্রতিবাদে জামাতিরা বেসামাল ?তাদের হাতে খুন হলো ব্লগার রাজীব হায়দর। আমাদের মহানবীর আদর্শ থেকে বিচ্যুত এই জামাতি ও তার বশংবদরা সারা বিশ্বে শান্তির ধর্ম ইসলামকে একটি জঙ্গীবাদী ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মের নামে এই অধর্মকে আমাদের এই তরুনরাই নীরবতা আর মোমের স্নিগ্ধ আলোর মত অস্ত্র দিয়ে রুখে দেবে।