ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আউলা ঝাউলা বি এন পি আর তাদের জানি-দোস্ত জামাতিরা। বি এন পির মহাসচিব অবশেষে গন জাগরন মঞ্চের সাথে ভারতের যোগাযোগ খুঁজে পেলেন।বি এন পি নেত্রীর গঙ্গা দর্শনের পরও মাথা থেকে ভারতীয় ভূত নামানো গেল না।এই মহুর্তে বি এন পির মাথাতে গত প্রায় ৩৮ বছরের পুরানো ভারত বিরোধী “সফটওয়্যার” এর আপডেট করা দরকার। জামাতিরা জাতীয় পতাকা পোড়ালো, শহীদ মিনার ভাঙ্গলো, তারপরও ভারে ভারে জর্জরিত ভাররপ্রাপ্ত মহাসচিব সাহেব এই ধর্মান্ধদের সমর্থন জানালেন। স্বাধীনতার শ্লোগান জয় বাংলা বি এন পির মনে জ্বালা ধরায় এটা জানা ছিল কিন্তু জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের অবমাননা তাদের মনে জ্বালা ধরায় না তা নতুন করে জানলাম!

জাতীয়বাদীরা কোন জাতীয়তায় বিশ্বাসী ? বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের অপমানেও তাদের জাতীয়তার অহমে আঘাত লাগেনি! চমৎকার জাতীয়তাবোধ!!
শাহবাগের তরুন প্রজন্মকে নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টায় প্রথম থেকেই বি এন পির বিভিন্ন নেতা বিভিন্ন ধরনের বক্তৃতা-বিবৃতি চালিয়ে আসছিল কিন্তু কাজ হয়নি।এক দিনে ৫ টি ভিন্ন রকম বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।
তরুন প্রজন্মের এই সতস্ফূর্ত রাজাকার বিরোধী সমাবেশ থেকে নিজেদেরকে দুরে রাখার কৌশল হিসেবে বি এন পি এই সমাবেশকে আওয়মি সমাবেশ নামকরন করেছে।প্রজন্ম চত্বরের সাথে আওয়ামি লীগের একাত্মতা প্রকাশ একটি স্বাভাবিক ঘটনা। রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সমাবেশ চলছে সেখানে আওয়ামি লীগ থাকবেনা কি জামাত-শিবির থাকবে ?
বি এন পির প্রতিষ্ঠাদাতাদের একজন বর্তমানে সাবেক ডাঃ বদরুদদৌজা চৌধুরি ২০০১এর নির্বাচনের সময় ডান হাতে কোরআন এবং বাম হাতে গীতা নিয়ে নির্বাচনি প্রচারনায় নেমেছিলেন।জনতার কাছে প্রশ্ন করেছিলেন তারা কোরাআন চাইলে যেন বি এন পিকে ভোট দেয় আর গীতা চাইলে আওয়ামি লীগকে ভোট দেয়! বেগম খালেদা জিয়া মসজিদের ভিতর উলুধ্বনি পর্যন্ত শুনে ফেলেছিলেন! চট্রগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত ভারতের মধ্যে ঠেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর চট্রগ্রামে নারকীয় ভাবে পুড়িয়ে মারা হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে। বি এন পির ইতিহাস সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর ইতিহাস,ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ইতিহাস।

কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন আর দেলু রাজাকারে মৃত্যুদন্ড তাদের কাছে বিষয় কিন্তু জাতীয় পতাকার অপমান,শহীদ মিনারের অমর্যাদা,মসজিদের অবমাননা তাদের কাছে এমন কোন বিষয় নয়।বিষয় না হওয়া স্বাভাবিক,এই বি এন পির সঞ্জিবনি সুধা পান করেই স্বাধীনতার শত্রুদের গায়ে আজ এত তাগদ।যাদের হাতে ইসলাম আজ বিপন্ন তারাই বি এন পির বন্ধু।বি এন পি জেনেশুনেই এই যুদ্ধাপরাধীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ৭১ এর পাপকে ঢাকা দেওয়ার সূযোগ করে দিয়ছিল। এর জন্য বি এন পি কে হয়তো কোন দিন রাজনৈতিক ভাবে অনেক বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

এই প্রজন্মের তরুনরা জানতো না ৭১ এ এই স্বাধিনতার শত্রুরা কতটা অমানবিক কতটা ভয়ংকর ছিল এখন তারা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করতে পারছে, ইতিহাস পড়তে হচ্ছে না, একেই মনে হয় বলে আল্লাহর মাইর।
শাহবাগের গনজাগরন মঞ্চের অহিংস আন্দোলন প্রমান করলো সহিংসতা চেয়ে অহিংস আন্দোলন অনেক বেশী ভয়ংকর, অনেক বেশী কার্যকর। মোমের স্নিগ্ধ আলো বোমার ঝলকানির চেয়ে তীব্র।
আমাদের সমস্ত ভালবাসা আর দোয়া গনজাগরন মঞ্চের আমাদের সন্তানদের জন্য যারা এই জাতিকে এই সমাজকে এই রাজনীতিকে ঝাঁকুনির পর ঝাঁকুনি দিয়ে যাচ্ছে বোধোদয়ের জন্য।
রাজনীতি ও ধর্মের নামে যে কুলষতা এই জাতিকে বন্দী করে রেখেছে, একদিন এরাই সেই বন্দীদশা থেকে এদেশকে মুক্ত করবে।
আজ অথবা কাল নয়তো পরশু । ওরা আসবেই। অহিংস শান্তির বারতা নিয়ে।