ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 

গত রবিবার মে দিবসে চলে গেলাম পুরানো ঢাকায় । উদ্দেশ্য পুরানো ঢাকায় ঘুরে ঘুরে ছবি তোলা । তালিকায় প্রথমে ছিল শ্যামবাজারের বিখ্যাত রূপলাল হাইজ । শ্যামবাজার-এ এসে রূপলাল হাউজ খুজে পেতে বেগ পেতে হলো । একসময়ে দেখতে পেলাম রূপলাল হাউজ । অবহেলায় হারিয়ে যাচেছ একসময়ের পুরান ঢাকাবাসীর গর্ব রূপলাল হাউজ । রূপলাল হাউজ দখল হয়ে গেছে । মশলার আড়তদ্বার/গো-ডাউন-এর ভিড়ে এখন দেখাই যায় না এই রূপলাল হাউজ । উনিশ শতকে নবাব আব্দুল গনির ‘আহসান মন্জিলের’ সাথে জাঁকজমকের দিক দিয়ে একমাত্র তুলনীয় ছিল রূপলাল দাসের ‌‌‌‍রূপলাল হাইজ ।

400
রূপলাল হাউজ এর বর্তমান অবস্থা

ঢাকার ধনাঢ্য জমিদার রূপলাল দাস আরমেনি জমিদার আরাতুন-এর কাছ থেকে বাড়িটি ক্রয় করে কলকাতার বিখ্যাত মার্টিন কোম্পানিকে দিয়ে সংস্কার করেছিলেন । এই বাড়িটি গ্রীক স্থাপত্য অনুকরণে নির্মিত হয় । এর বিশাল ডরিক কলাম অতুলনীয়,যা এখনো দৃশ্যমান । বিখ্যাত ইতিহাসবিদ লেখক ড.মুনতাসীর মামুন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্হ ‍‍‌‌‌‌‌‌”ঢাকা:স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী”-এ লিখেছেন ‌‌‌‌”বাড়ি উপরে মাঝখানে একটি প্রকান্ড ঘড়ি ছিল,যাহা ঢাকা শহরের সস্মুখস্হ সমস্ত নদী হইতে দৃষ্টিগোচর হইত এবং সমস্ত নৌকারোহীগণ ইহা দ্বারা উপকৃত হইত। ভূমিকম্পের সময় (১৮৯৭) ইহার চূড়া ভাঙ্গিয়া যাওয়ায়,ভাগের মা গঙ্গা না পাওয়ার মত,ইহার আর মেরামতি হয় নাই । ”

১৮৮৮ সালে লর্ড ডাফরিন ঢাকায় এসেছিলেন সরকারী সফরে । ইংরেজরা ডাফরিনের সম্মানে এক বল-নাচের আয়োজন করবে বলে ঘোষনা দেয় । কিন্তু,বল-নাচের জন্য বিশাল হল রুমের ছিল অভাব । অবশেষে স্থানীয় এক ইউরোপিয়ানদের ক্লাবে এক বৈঠক-এ সিদ্ধান্ত হয় আহসান মনজিল এবং রূপলাল হাউস-এর একটিকে বেছে নিতে । ভোটে জিতে ছিল রূপলাল হাউজ । ইংরেজরা দুদিনের জন্য রূপলাল হাউস ভাড়া নিয়েছিলেন মাত্র দুশ টাকায় । অবশ্য রূপলাল হাউজকে সাজাতে রূপলাল দাসের খরচ হয়েছিল ৪৫ হাজার টাকার ও বেশি ।

১৯৪৭ সালে রূপলাল দাসের উত্তরাধিকারীরা কলকাতায় চলে গেলে সেই সময়কার সরকার তা অধিগ্রহণ করে । সরেজমিনে গিয়ে দেখলাম,এটির অন্তিম দশা । অপূর্ব কারুকার্যময় এই স্থাপনা কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে । মশলার আড়ত,দোকান পাট-এর ভিড়-এর জন্য রূপলাল হাউসকে আর দেখাই যায় না বাইরে থেকে । যেটুকু দেখা যায়,তাতেই এর পূর্বের জাঁকজমক টের পাওয়া যায় ।

আসুন আমরা এই রূপলাল হাউজকে রক্ষা করি ।