ক্যাটেগরিঃ কৃষি

ফুল মনে প্রশান্তি বয়ে আনে। অশান্ত মনকে শান্ত করে। সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততার পরে বাসায় ফিরে এসে ঘরের বারান্দার এক কোনে ফুটন্ত অর্কিড ফুল আপনাকে বিমোহিত করবে। আজকাল বাংলাদেশে অর্কিড ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। অর্কিড এখন কোন দুর্লভ ফুল নয়। একসময় যা ছিল উচ্চবিত্তে বিলাস, এখন তা শোভা পাচেছ মধ্যবিত্তের গৃহকোনে।

অনেকের ধারনা, অর্কিড ফুল খুব দামী এবং এর যতœপাতি ও ব্যায়সাপেক্ষ। কথাটা আংশিক সত্য। কিছু কিছু প্রজাতির অর্কিড আছে, যেগুলো আসলেই দামী । যেমন, ফিলনোপসিস গোত্রের অর্কিড। ঢাকার আগারগাত্ত-এর বিভিন্ন নার্সারীতে একেকটি ফিলোনপসিস অর্কিডের দাম প্রতিটি ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আর ক্যাটলিয়া গ্রোত্রের অর্কিডের দাম পড়বে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।

এখানে আমি ম্যধবিত্ত-এর নাগালের ভিতর যে অর্কিড নার্সারীতে কিনতে পাত্তয়া যায়-সেই ড্রানড্রবিয়াম অর্কিডের লালন পালন এবং পরিচর্যা বিষয়ে আলোচনা করব।

ড্রানড্রবিয়াম অর্কিড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ যেমন থাইল্যাšড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া,ভারত,ভ’টান ও বাংলাদেশে ব্যাপকহারে দেখা যায়। অর্কিড ফুলের মধ্যে ড্রানড্রবিয়াম সবচেয়ে বড় প্রজাতি। ১২০০ অধিক জাতের ড্রানড্রবিয়াম অর্কিড আছে। সবধরনের আবহাওয়ায় এই প্রজাতির অর্কিড দেখা যায়। উষ্ণ ভ’মি, নি¤œভ’মি থেকে উচ্চভ’মি, শীতল পর্বতমালা, গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনভ’মিতে এই অর্কিড জন্মায়। সবচেয়েূ জনপ্রিয় হলো হাইব্রিড ফেলাইনোপসিস গ্রোত্রের অর্কিড্। কি তাদের রঙের বাহার!। এই অর্কিড ফুল সারা বছরেই ফুল দেয়। প্রায় মাসদুয়েক তরতাজা থাকে। ড্রানড্রবিয়াম অর্কিডের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর বর্ণনা নিচে দেত্তয়া হলো:

আলো: এই ড্রানড্রবিয়াম অর্কিড বেশী প্রাকৃতিক আলো পছন্দ করে। কম আলোতে ও জন্মায় কিšতু, ফুল দিতে দেরী করে।

পানি: ছোট চারা গাছে প্রচুর পানি দিতে হয়। গ্রীষ্মকালে সপ্তাহে একবার পানি দেত্তয়া যেতে পারে। অর্কিড বড় হলে পানির প্রয়োজন কম খাকে। পূর্ণবয়স্ক ফুল ধরা অর্কিড গাছের শিকড়ে এবং পাতায় পানি স্প্রে করতে হবে। অসাবধানতাবসত: ফুলে পানি লাগলে নরম টিসু কাগজ দিয়ে মুছে ফেলুন। রাতে পানি দিবেন না, এতে ফাঙাস পড়তে পারে।

সার : বাজারে বিভিন্ন ধরনের গ্রোথ হরমোন পাত্তয়া যায় , নিয়মাবলী পড়ে অর্কিডের গোড়ায় এবং পাতায় স্প্রে করতে হবে।

যতœপাতি: মরা পাতা তুলে ফেলুন । ড্রানড্রবিয়াম অর্কিড বেশী নড়াচড়া পছন্দ করে না । শীতকালে পানি বেশী দিবেন না । মাঝে মাঝে রোদে রাখুন। ফুল শুিিকয়ে গেলে ঠাটাটি কেঁঁটে ফেলুন। একছর পরপর পট বদলাতে হবে। নতুন পটে নারিকেলের ছোবা, শুকনো নারিকেলের খন্ড রেখে তার উপর গাছটি বসিয়ে দিন। পুর্ণ বয়স্ক গাছে নতুন শিকড়সহ চারা গাছ জন্মায়, চারাগাছটি যতœ কওে তুলে নতুন পটে লাগালে আরেকটি অর্কিড গাছ পেয়ে গেলেন।

for more article visit Focus Bangladesh