ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

আলু-টিলা গুহা খাগড়াছড়ি জেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র । আলু টিলা পাহাড় থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহর দেখা যায় । ছোট ছোট ম্যাচ বক্স-এর মতো ঘর-বাড়ী,পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ী স্রোতস্বিনী চেংগী । মাথার উপর মেঘ মুক্ত আকাশ । খাগড়াছড়ি ভ্রমণে আমাদের প্রধান টার্গেট ছিল আলু-টিলা গুহা । আমরা উঠে ছিলাম পর্যটন-এ । খুব ভোরে নাস্তা খেয়ে বের হলাম । সাথে আমার অফিস সহকর্মী ইয়াদ এবং শ্যালক শান্তু । খাগড়াছড়ি শহরে এসে আলুটিলা যাওয়ার জন্য অটো ভাড়া করলাম । আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথ । আধা ঘণ্টা যাওয়ার পর পৌঁছালাম আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র-এ । ঢুকার মুখেই বিশাল এক বট গাছ । বট গাছে আলুটিলা বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ-এর বাণী লেখা রয়েছে । এক পাশে টিকিট কাউন্টার । কাউন্টার থেকে পাঁচ টাকা দিয়ে মশাল কিনলাম । বেশ কিছু দুর হেটে এসে পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়ালাম । এখান থেকে দাঁড়িয়ে নীচে খাগড়াছড়ি শহর দেখলাম । চারিদিকে শান্ত প্রকৃতি । মাথার উপর সুনীল আকাশ । পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সিঁড়ি নেমে গেছে আলু-টিলা গুহার দিকে। সিঁড়ি ভেঙে নামলাম একবারে পাহাড়ের পাদদেশে । পাহাড়ের পাদদেশে আলুটিলা গুহার মুখ । গুহার সম্মুখে অনেক পাথর খন্ড পড়ে রয়েছে । গুহার ভিতর থেকে একটা ঝিরি বইছে । বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক গুহা এটি । গুহাটি প্রায় ১০০ মিটার-এর মতো লম্বা । পাঠক এখন আমাদের সত্যিকার থ্রিলিং অভিযান শুরু হল ।

আমরা আমাদের মশাল জ্বালালাম । গুহার ভিতর গাঢ় অন্ধকার । পায়ের নিচে পিচ্ছল পাথর খন্ড । ঝিরির পানি বয়ে যাচ্ছে কুল কুল করে । ভিতরে বেশ ঠান্ডা । চোখে কিছু দেখছিলাম না । মশালের ম্লান আলোয় সামনের অন্ধকার ঠেলে আমরা তিনজন আস্তে আস্তে আগাচ্ছি । মাঝে মধ্য গুহার দেয়ালে হাত রেখে ব্যালেন্স নিতে হচ্ছে । এভাবে মিনিট বিশ যাওয়ার পর আমি দেখলাম আমার সাথে কেউ নেই । নাম ধরে ডাকলাম কয়েকবার । দেয়াল-এ বাউন্স খেয়ে আমার ডাকই ফিরে এলো । হাতের মশাল নিভে গেল একসময় । গুহার অন্ধকারে পকেট থেকে মোবাইল সেট বের করলাম । মোবাইল টর্চ-এর আলোয় ধীরে ধীরে এগুতে থাকলাম । আনুমানিক মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর মৃদু আলোর রেখা দেখতে পেলাম । হাফ ছেড়ে বাঁচলাম । গুহার শেষ মাথায় এসে পৌঁছালাম । গুহার শেষ মাথায় একটি সিঁড়ি রয়েছে যেটি পাহাড়ের উপরে উঠে গেছে । সিঁড়ি গোড়ায় আমার দুই সফর সংগী আমার জন্য অপেক্ষা করছে ।
আলু-টিলা গুহায় প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক-এর ভীড় হয় । কিন্তু,খুব কম সংখ্যক পর্যটক গুহার ভিতরে প্রবেশ করার সাহস পায় । অনেকের ধারনা ভিতরে বিশাল আকারের অজগর এবং চামচিকা থাকে । আসলে বর্ষার সময় এখানে সাপের আনাগোনা থাকে । তাই শীতকালে যাওয়া ভাল । আমরা অবশ্য গিয়েছিলাম গ্রীষ্মের শুরুতে ।