ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

দিন-দিন আমাদের দেশে কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে , কিন্তু পড়ে যাইতেছে ইহার মান । বাজারে যেমন খাদ্যে ভেজাল – এখন শুরু হইছে বিনোদনে বেজাল । নাটকের জন্ম হয়েছিল জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার জন্য । আর আমাদের নাটকের প্রয়োজক ও পরিচালকেরা জাতিকে দিবার চেয়ে নিজের পকেটের কথা বেশি ভাবেন । তার উপর আছে ধারবাহিক সিরিয়ালের যন্ত্রণা – পর্ব বাড়ার সাথে সাথে মান পড়ে , একটা সাধারণ কাহিনি ৭০ পর্ব দিয়ে শেষ হলে ও বেশি হয়ে যেত অথচ এখন তা ৭০০ তম পর্ব পার করে ফেলছে – কবে যে শেষ হবে। টক শোর – কথা শুনে বুঝা যায় এই চ্যানেলের মালিক কোন দল করেন । রান্নাবান্নার প্রোগ্রামে উপস্থাপিকার স্বাস্থ্য দেখে,খাবারের রুচি যা ছিল তা ও চলে যায়। সঙ্গীত প্রতিযোগিতার যে কি অবস্থা – ছোট শিশুদের দিয়ে বড়দের গান আর বিচারকের চেয়ে দর্শকের এস এম এস, সবচেয়ে বড় বিচারক । তা না হলে যে টাকা কামানো যাবে না । রাতভর লাইভ মিউজিক – ২ লাইন গানের মাঝে- মাঝে উপস্থাপকের নোংরামি মার্কা কথা,উপস্থাপিকার নেকামো কথা, পুরা অনুষ্ঠানের মান কত নিচে নামিয়ে দিল তার চিন্তা ও তারা করে না । সিনেমা – পুনপ্রচারের যত রেকর্ড আছে , সিনেমা দিয়ে চ্যানেরগুলো সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে । তারকা কথন – তারকা কথন থেকে মানুষ তারকাদের জীবনকে জানতে চায় তা থেকে কিছু শিখতে চায় । আর আমাদের তারকাদের সামনে যে উপস্থাপিকা বসে বসে অকারণে হাসে,আর একটু পর পর কেউ ফোন করে বলছে আপনাকে সুন্দর লাগছে – কিসের যোগ্যতায় এরা উপস্থাপিকা হয় ? বিজ্ঞাপন – আমাদের দেশ স্বাধীন হলে ও বিজ্ঞাপন থেকে স্বাধীন না , কারণ বিজ্ঞাপন এত বেশি ক্ষমতাশালী যে নাটক,খবর- এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ও ছোট করে ফেলে । একথা সত্য যে বিজ্ঞাপন একটা চ্যানেলের আয়ে প্রধান উৎস , তা ই বলে কি ২০ মিনিটের নাটকে ৩০ মিনিট বিজ্ঞাপন ? দুনিয়াতে আর কোন দেশের চ্যানেল বিজ্ঞাপন দিয়ে চলছে না ? তারা কি এত বেশি বিজ্ঞাপন দেখায় ? সংবাদ – দেশের সব চ্যানেল সংবাদ প্রচার করে, এটা তাদের একটা মামার বাড়ির আবদার। সারা দুনিয়াতে বিনোদন , সংবাদ ,সিনেমা , শিক্ষা চ্যানেল থাকিলে ও আমাদের ৫ মিশালী চ্যানেল দেখতে হয় । তাই বলে কি দেখার কেহ নাই ?

সবকিছুর মূলে মিডিয়া ভীতি,পশ্চিমা লোকদের কাছে পুলিশের পর একটা বিষয় ভয়ের তা হল মিডিয়া । আমাদের দেশে ও তাই হতে চলছে , কোন চ্যানেলের জন্মদিনে সরকার,বিরোধিদল এবং সুশীল দাদুরা কেক খেয়ে শুভ কামনা দিয়ে আসেন – অথচ জন্মের পর থেকে ঐ চ্যানেল জাতিকে কি দিল তাহার হিসাব কেহ আর রাখেন না – তা নয়,কিন্তু হিসাব নিতে বা জানতে বা জানাতে – চান না । যেভাবে চ্যানেল গুলোর মধ্যে মানহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হইছে – তা নিয়ে কেহ কথা বলে না , অথবা সমালোচলা ও করে না । দেশের দাদা-দাদীরা(সুশীল সমাজ) সব ব্যপারে বললে ও এ ব্যপারে কিছু বলে না । এসবের ভিতরে আছে অপ্রিয় কিছু সত্য যা অনেকে বুঝে অথচ মুখে নিতে ভয় পায় । এক সুশীলদাদু কে বলতে শুনছি তোমার এক দিকে মিডিয়ার ক্যামরা আর অন্য দিকে রাইফেল তাক করা থাকলে রাইফেলের গুলি খেয়েও তাহলে বাঁচার কিছুটা সুযোগ হলে ও থাকবে ।