ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

ছাত্র শিবিরের ভাইয়েরা, মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যের টুটি চেপে ধরা যায় না। সত্যে কখনো গোপন থাকে না। সত্যের জয় চিরদিনই। তাই মিথ্যা ছেড়ে সত্যে এসো। অন্ধকার থেকে আলোতে এসো। ১৯৭১ এ আমাদের মতো তোমাদেরও জন্ম হয়নি। আমরাও সবকিছু শুনেছি, পড়েছি। বিকৃত ইতিহাস থেকে সত্য উৎঘাটন করেছি। কিন্তু তোমরা সবসময়ই বিকৃ্ত ইতিহাস পড়েছো, শুনেছো। হয়তো তোমাদের নিজের পরিবার থেকেও এই শিক্ষাই নিয়েছো। তারমানে তোমাদের পিতামাতাই ভুল ছিলো। তাছাড়া শিক্ষাঙ্গনে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে আমেরিকা-পাকিস্তানপন্থী “জামায়াত ইসলামী”র সংঘবদ্ধ গ্রুপ (আইএসআই এর মদদপুষ্ট) তোমাদের ব্রেইনওয়াশ করেছে ইসলামী ছাত্র শিবির নামে, যে ছাত্র সংগঠন ১৯৭১ এ ইসলামী ছাত্রসংঘ নামে পরিচিত ছিলো। অপকর্ম ঢাকতে তারা নাম পাল্টেছে। এটাও কি বুঝো না তোমরা? আজ সত্যকে উপলদ্ধি করতে শেখো। বাস্তবতাকে গ্রহন করতে শেখো যদি তুমি সাচ্চা বাংলাদেশী হও।

দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ সেই অপকর্মের হোতাদের ফাঁসির দাবীতে। তারা আমাদের ছাত্রসমাজ কে ধ্বংস করছে ইসলামের নাম আম ভাঙ্গিয়ে। জামায়াত যাদের ইশারায় চলে তারা চায় এই দেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ইথিওপিয়া, সোমালিয়ার মতো বানাতে, পশ্চিমাদের এদেশে প্রবেশ করার পথ সুগম করে দিতে। তারা এখানে মার্কিন বিমান হামলা চায়, দ্রোন হামলা চায়, আর আমাদের খনিজ সম্পদের ভাগবাটোয়ারা চায়। এটাই কি তোমরা চাও? যদি চাও তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। যেমন বিএনপি যদি জামায়াতের সঙ্গ না ছাড়ে তাহলে ইতিহাসে বিএনপি “ঐতিহাসিক বেঈমান দল” নামে স্থান লাভ করবে।এখন মাঠ দখল করেছে আমজনতা, যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যারা ভোটের দিনে ভোট দিতে যায় না এবং সন্তানেরদেরও ভোটদানে বিরত রাখে। কারন ১৯৭১ এরপর দেশবাসী যে স্ব্প্ন দেখেছিল তা পুরন হয়নি। বার বার রাজনৈতিক দলগুলো জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। দেশবাসীর স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে।

আর তাই ব্লগাররা জাতির ঘুম ভাঙ্গিয়েছে। আজ সর্বপ্রথম রাজাকারের বিচার নিয়ে হাজির হয়েছে। নৌকাতো আছেই তাছাড়া ধানের শীষে ভোটদানকারীরাও জনতার কাতারে বলে শোনা যাচ্ছে যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায়, যারা শান্তিতে থাকতে চায়। রাস্তায় এখন দেশের মালিকপক্ষ। কাজেই মালিকপক্ষ যা ঠিক করবে তাই হবে। সংসদে অথবা আদালতে বসে গুটিকয়েক মানুষ ১৬ কুটি মানুষের ভাগ্য নিধারন করবে তা হবেনা। রাজাকারের ফাঁসির রায় হবেই, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নামে ধমব্যবসা বন্ধ হবেই, রাজনীতি থেকে ব্যবসা আলাদা হবে, দেশে সুশাসন আসবেই, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবেই আর প্রগতিশীল রাজনীতির চচা হবেই।তা নাহলে মানুষ বারবার রাস্তায় নেমে আসবে। তোমরা থেকে যাবে কাতারের বাইরে। এক সময় নিজের উপর নিজের ঘেন্না ধরে যাবে এবং মনে রাখবে জীবনে সবচেয়ে বড় দুঃসময় হলো নিজের উপর যখন নিজের ঘেন্না ধরে যায়। হিরোশিমা-নাগাসাকীতে এটম বোমা হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি কিন্তু আত্মহত্যা করেছিলো। কেনো করেছিলো? কারন সে নিজেকে নিজে সে ক্ষমা করতে পারেনি। গত দশ দিনে প্রমান হয়েছে গেছে নব্য রাজাকার কারা। ২০১৩ সালের রাজাকার কারা। তারা আমৃত্যু ২০১৩ সালের রাজাকার নামেই পরিচিত থাকবে।

সন্ত্রাস করে, বোমা ফাটিয়ে শান্তি কায়েম হয়না।আজ এসব যারা করছে তারা তাদের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা বাসস্থানের জন্য জামায়াতের উপর নির্ভরশীল। তারা ভাড়াটে গুন্ডা, তারা তালেবানি চক্র। এদেশের খনিজ সম্পদ যারা লুটে নিতে চায় তাদের দালাল তারা। শুদ্ধ ইতিহাস পড়। ১৯৭১ কে জানো। জয় বাংলা শ্লোগানের মাহাত্ম্য আবিস্কার কর। এই শ্লোগান কোনো রাজনৈতিক দলের বাপের শ্লোগান না যে, এটা কেউ বলবে না। এটা মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে যারা বাংলার মধ্যে উর্দু প্রবেশ করিয়েছে, তারা হাজার বছরের বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ধারন বা লালন করেনা। তারা জগাখিচুরী সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। তাদের কোনো নীতি নেই। হিন্দি সিনেমাতেও আমরা জিন্দাবাদ শব্দটা শুনতে পাই। কারন ওটা তাদের ভাষা। ১৯৫২ তে রক্তের বিনিময়ে প্রাপ্ত বাংলাভাষা নয়। যেই ভাষা এই পাকিস্তানীরাই কেড়ে নিতে চেয়েছিলো।

কাজেই দেশের ঐক্যে সংহতি দাও, উন্নতিতে সহযোগিতা দাও। কেননা দেশের মালিকরা এখন রাস্তায়। সব অপশক্তিকে তারা রুখে দেবে। এদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী, তাই তারা শান্তিপুন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো হিংসার পথ তারা বেছে নিচ্ছে না। তারা আন্দোলন করতে গিয়ে বাঙ্গালী ঐতিহ্যকে ধারন করছে। তারা প্রতিবাদী গান গাইছে, কবিতা পাঠ করছে, শ্লোগান দিচ্ছে। এই প্রজন্ম তো একদিনে মাঠে নেমে আসেনি। তোমাদের তারা অনেক বুঝিয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে। তোমরা বোঝোনি। নিজস্ব ধ্যান ধারনার বাইরে যেতে চাওনি। তর্কের খাতিরে তর্ক করেছো। কোনো যুক্তিতে যাওনি। আমরা তোমাদের শামিল করে নিতে চাই দেশবাসীর এই মহাগনজাগরনে। তাই আমাদের মতো সুর মিলিয়ে তোমরাও বলো —

“ক” তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার।
“গ” তে গোলাম আজম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার।
“ছ” তে ছাইদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার।
রাজাকারের ফাঁসি চাই,
রাজাকারের ফাঁসি চাই।