ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 
abdul-matin1

 

জিন্নাহ তার বক্তব্যে বলে, “Urdu, and only Urdu” embodied the spirit of Muslim nations and would remain as the state language labeling those who disagreed with his views as “Enemies of Pakistan”।

মূলত, সেদিন থেকে বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল ,তাদের অস্তিত্ব কতটা হুমকির মুখে। উর্দু যদি রাষ্ট্রভাষা হয়েই যায় তখন আমরা শিক্ষা, গবেষণায় কিংবা চাকরি ক্ষেত্রে কতখানি পিছিয়ে পরব, তা খুব সহজেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বাংলার তৎকালীন নেতারা ।

বাঙালির এই সচেতনতাই, পশ্চিম পাকিস্তানি বর্বর শাসকদের অন্তরে প্রকম্পন সৃষ্টি করেছিল। তাইতো তারা, ২১ ফেব্রুয়ারি’তে ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতিকে তছনছ করে দেয়ার জন্য সমাবেশ, মিছিল-মিটিংযের উপর ১৪৪ ধারা জারি করে। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর ড. এস এম হোসেইন এবং তার নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যেয়ে ১৪৪ ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম কমিটি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে মত দিলেও সর্বদলীয় সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন।

এ অবস্থায় ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে বাংলার দামাল ছেলেরা দমন-পীড়ন মূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। পরে সমাবেশে পাকিস্তানি সৈনিকদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই রফিক, জাব্বার, বরকত সহ নাম না জানা আরও অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।

সেদিনের সেই ভাষা মতিনের সাহসীকতা, কিংবা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ভাষা সৈনিকদের জন্যই, আজ আমরা বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাকে আলাদা এক স্থানে দেখতে পাই । আরেকটা ব্যাপার যেটা সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ, পরবর্তিতে এই আন্দোলনই আমাদেরকে স্বাধীনতা আন্দোলনের বা মুক্তির পথে ধাবিত করে, যা বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে স্থান দেয়।

সেই ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হে রাজেউন)। বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শাশ্বত মহিমায় সোচ্চার
অধিকার আদায়ের অস্ত্র,
মায়ের মুখের মিষ্টি হাসি কিংবা অস্তিত্ব রক্ষার হাতিয়ার
সে তো বাংলা ভাষা, কোটি মানুষের মন্ত্র ।