ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

এস এস সি পরীক্ষার ইংরেজি প্রশ্নপত্রের কথা আবছা আবছা মনে পরতেছে । যত দূর মনে আছে, দশ মার্কের একটা প্যারাগ্রাফ আসছিল “জাতীয় স্মৃতিসৌধ” নিয়ে । পরীক্ষার্থী অনেকেই ” শহীদ মিনার ” লিখে আসলো ! শুধুমাত্র , গুরত্বপূর্ণ একটা পরীক্ষায়(!) এহেন ভুল করার জন্য তাদের আফসোস হচ্ছিল ! কিভাবে পারেন ??
তবে অনেকেই লজ্জিত ও হচ্ছিল , তারা পরবর্তিতে ঠিকই জেনে নিছে !

কয়েক বছর আগে ,কোন এক চ্যানেলের সৌজন্যে বইমেলাতে আগত দর্শকের একটা প্রতিবেদন বের হল, যেখানে কয়েকজন কে জিজ্ঞেস করা হল ২১ শে ফেব্রুয়ারি তে কি হইছিল ? কেউ বলল যুদ্ধ হইছিল , কেউ বলল বাংলাদেশ স্বাধীন হইছে আর কয়েকজন উত্তরের জন্য যে বাক্য শুরু করছিল তা শেষ করতে না পেরে অট্টহাসি তে ফেটে পরতেছিল ! জাতির লজ্জিত হওয়া উচিত ।

আরেক অদ্ভুত প্রজাতির লোক আছে , এরা প্যাচ লাগায় দিবে , আপনাকে, আমাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে কনফিউজ করে দেয়ার চেষ্টা করবে । তারা বলবে , ফুল দিতেছেন মানে আপনি পুজো করতে যাচ্ছেন ,যদি না আপনি হিন্দু ধর্মের অনুসারী হোন ।
যেখানে ইসলামেই বলা আছে , অবশ্যই কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল । যে আপনাকে এই কথা বলবে, এইটুকু সিউড় থাকবেন তার নিয়তেই ঝামেলা আছে ।
আমাদের নিয়ত সলিড ! আমরা শহীদ মিনারে যাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে , তাদের জন্য দোয়া করতে । এবং সেই সাথে সাথে আমরা এমন কিছু মানুষ এক হই, যাদের ভেতরে শহিদদের আত্নত্যাগ নাড়া দেয়, দেশের জন্য কিছু করার জন্য প্রেরণা জাগায় ।
আমি এখন ও বিশ্বাস করি এই সংখ্যক মানুষের সংখ্যা হয়তো কম । কিন্তু কতদিন কম
থাকবে ? তাদের সন্তানেরা তো মুক্তিযুদ্ধ হইছিল এটাই জানবে না ! জাতি তো লজ্জিত হতেই চায় না … ভুল করে অট্টহাসি । লজ্জিত হলে অন্তত ভুল শুধরানোর সুযোগ সৃষ্টি হয় , এবং পরবর্তি প্রজন্ম যেন ভুল না করে সেই ক্ষেত্র তৈরী হয় ।
তবুও আশা এতটুকুই ভুল , অসত্য আর অন্ধকার কেটে যাবে। আলো আসবেই ,তাকে আসতেই হবে। তবে দায়িত্ব আমাদের প্রজন্মের উপরই বর্তায়।

সবাইকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা ।