ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 
Emotions
আমাদের দলের বর্তমান অবস্থা পূর্বের যেকোন অবস্থা থেকে ভাল । এই যায়গায় আমরা একদিনে পৌছাই নাই , এটা শুধু আমার কথা না যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ২০০০ সাল বা তার আগে থেকে ফলো করে আসছি তারা সবাইই জানি। আজকে আমরা এই পজিশনে আসছি সে জন্যে আগে যারা খেলছেন তাদের ভুলে গেলে চলবে না । আজকের এই অবস্থানে জন্য অবশ্যই জাবেদ ওমর , হাবিবুল বাশার , আশরাফুল ,কিংবা আকরাম খান রকিবুল হাসান (sr) দের অবদান অনুস্বীকার্য । নিজের অতীত কে ভুলে কেউ কখনও এগুতে পারেনা । উপরের কথাগুলি বলার মানে আসলে একটাই অতীতকে যাতে আমরা ভুলে না যাই , বরং ক্রমাগত তার থেকে শিক্ষা নিতে পারাটাই আসল। তাদের নিয়ে কটু কথা বলার আগে দুইবার ভাবা উচিত । তাদেরকে অবশ্যই প্রাপ্য সম্মানটা আমাদের দেয়া উচিত।
যেকোন টিমেরই আপ্‌স এন্ড ডাউন্‌স থাকে এটা মেনে নেয়া ক্ষমতাও আমাদের তৈরি হওয়া উচিত। আমরা সবাইই তো নিজের চোখের সামনে কত বড় বড় টিম কে নামতে দেখলাম । আমাদের দলের উন্নতির গ্রাফ আকাশচুম্বি । এমন হবেই সামনে আমরা হয়তো কোন সিরিজ হারব কিংবা হোয়াইটওয়াশ ও হইতে পারি । তখন কি দেশের প্লেয়ারদের সমর্থন দেয়া বন্ধ করে দিব ? তাইলে তো কেবল দুধের মাছি রয়ে গেলাম । এ জাতিকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসে এত আনন্দ, ক্রিকেটাররা ছাড়া কেউ দিতে পারে নাই । “A friend in need is a friend indeed” এইটা আমরা সবাই জানি কেবল মানতে গেলেই যত সমস্যা। আমি বলতেছি না সমালোচনা করবেন না , আমি বলতে চাচ্ছি গঠনমূলক সমালোচনা করেন। এতে প্লেয়ারদের পটেনশিয়ালিটিও বাড়বে । ধৈর্য্যধারণ করেন আর টিমের জন্য দুয়া করেন। সবচেয়ে বড় কথা আবেগটা কন্ট্রল করেন , অতিরিক্ত আবেগের বসে যাতে টিমের তথা দেশের মানসম্মানের কোন ক্ষতি না করে ফেলি সেদিকে একটু খেয়াল রাইখেন।আমাদের এখনকার দল আর পুর্বের যেকোন দলের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য, ম্যাচিউরিটি । আমাদের দলের এখনকার প্লেয়াররা অনেক ম্যাচিউর্‌ড। তারা জাস্ট জানে কখন কি করতে হবে। এই ম্যাচিউরিটি একদিনে গ্রো করে নাই । ধীরে ধীরে প্লেয়ারদের ভেতর বদ্ধমূল হইছে। এইটাই সবচেয়ে ভাল । একদিনের তৈরী জিনিস থেকে বহুদিনের তৈরী জিনিসের স্থায়ীত্ব বেশি।

আমাদের দলের উন্নতি হইছে , আমাদের দল নিয়ে বিশ্বের বড় বড় ক্রিকেট পেইজ , ক্রিকেট সেলিব্রেটিরা ভাল ভাল কথা বলে এইটা অনেক বড় পাওয়া । আমাদের দল আগে দুর্বল ছিল , কেউ কটু কথা বললে তাকে দুইটা গালি দিয়ে আসতাম , যদিও জিনিসটা ভাল না তারপরেও তখনকার জন্য এইটা মানা যাইতো ! এখন তো আমরা বড় দল , এখন কি আমাদের গালিগালাজ মানায় ? কথার জবাব তো ব্যাটে বলেই আমরা দিতে পারি , আসেন একটু ম্যাচিউরড হই! কোন দরকার আছে , ভারত কিংবা পাকিস্তানের পেজে যেয়ে ওদের প্লেয়ার কিংবা দেশ নিয়ে গালিগালাজ করে আসার ? আপনি পাকিস্তানকে, ফাকিস্তান বললে কিংবা ইন্ডিয়া কে রেন্ডিয়া বলে খুশি মনে চলে আসেন। ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশকে শুনতে হয় কাংলাদেশ । আপনার ভাল লাগলেও আমি এটা মানতে পারিনা। কি দরকার ভাই এসবের? আসেন আবেগ সামলাই।

যদি টেস্ট প্লেয়িং জাতিগুলার কথা ধরা হয় দশটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফ্যান ধরা হয় , ভারত পাকিস্তান আর বাংলাদেশীদের। আমাদের প্রতিবেশি শ্রীলঙ্কানদের নামে কারই অভিযোগ নাই। ওদের থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আবার আমাদের সকল দর্শকই কিন্তু খারাপ না। গুটিকয়েক খারাপ দর্শকের জন্য পুরো দেশেরই নামটা যায়! শুধীর গৌতম কে দৌড়ানি দিছিল কিছু আবেগী দর্শক , সেও আরও গল্প বাড়ায় বাংলাদেশের নামে উল্টাপাল্টা কথা বলে দিল। সে যাই বলুক শুরু কিন্তু আমরাই করছি। আর হ্যা একবার হইলেও ভাবা উচিত ছিল , আমাদের টাইগার শোয়েব যখন ভারতে খেলা দেখতে যাবে তখন ? সেইদিন, নাসিরের পেইজে যেয়ে কিছু মানুষ তার বোনের নামে বাজে মন্তব্য করে আসলো , কিছু দিন আগে সাউথ-আফ্রিকান প্লেয়ার নিয়ে রেসিজম করে আসল কিছু উশৃঙ্খল আবাল । ম্যাচ রেফারি তো বলছিলই টেস্ট বন্ধ করে দিবে । একবার বন্ধ হইলে , আর কেউ আসবে , এদেশে ? এতটুকু বুদ্ধি আমাদের সবারই আছে। আমরা কেউই চাই না দেশটা পাকিস্তান হয়ে যাক।

নিজের আচরণ বদলাই, যার যা কাজ তাকে তা করতে দেই । দেশ বদলাবেই ।
ইনশাআল্লাহ আমরা উন্নতি করবই।
#RiseOfTheTigers