ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

ভারতীয়দের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তির প্রখরতাকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। প্রথমে শ্রীনিবাসন এবং ত্তারপর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান থিঙ্ক-ট্যাঙ্ককে কৃতিত্ব দিতেই হয়। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা সম্পর্কে সঠিক বিশ্লেষন এবং সে অনুযায়ী মোকাবেলা করার পরিকল্পনায় তাদের জুড়ি মেলা ভার।

 

আর কেউ বুঝুক না বুঝক, শ্রীনিবাসন ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন বাংলাদেশ দলের উজ্জিবীত এবং বিকাশমান শক্তির সামনে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের ধ্বসে পড়া প্রায় নিশ্চিত। দলে সমকালীন বিশ্ব ক্রিকেটে সফলতম অধিনায়কদের একজন, একজন সুপারষ্টার এবং কয়েকজন বিশ্বমানের ম্যাচ উনারতো ছিলোই, সেই সাথে ছিল মাঠে উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শকের ৯০ শতাংশের গগন বিদারী সমর্থন। কিন্তু শ্রীনিবাসন জানতেন জয়ের ক্ষুধায় অগ্রসরমান টাইগারদের সামনে ভারতের এই শক্তি যথেষ্ট নয়। সুতরাং ১১ জনের দলে ৩ আম্পায়ারও যুক্ত হলেন। তাও যথেষ্ট না হতে পারে ভেবে ষ্টেডিয়াম থেকে স্পাইডার ক্যামেরা সরানো হলো, বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর অনস্ক্রীন ডিসপ্লে দেখানো হলোনা, জায়েন্টস্ক্রীনে ক্রমাগত একতরফা ‘জিতেগা ভাই জিতেগা ইন্ডিয়া জিতেগা’ শ্লোগান দিয়ে আমাদের ছেলেদের ইরিটেট করে তাদের মনোসংযোগে চিড় ধরানো হলো। এই সবগুলো উপাদানের একটিও যদি কম পড়তো তাহলে সেদিন এমসিজিতেই ভারতের সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যেতো। আর কেউ বুঝতে না পারলেও শ্রীনিবাসন ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন।

 

এই অন্যায়ের বদলা নিতে যে আমাদের ছেলেরা মুখিয়ে থাকবে এবং সেই বদলা নেয়ার সামর্থ্য যে তারা দিনে দিনে অর্জন করেছে রমিজ রাজা, সিধুরা তা হৃদয়ঙ্গম করতে না পারলেও ভারতীয় ক্রিকেটের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক তা ঠিকই বুঝতে পেরেছিল। সে জন্যই বাংলাদেশ সফরে অনিচ্ছুক ধোনি ও কোহলিকে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা জানে, বাংলাদেশকে হাল্কাভাবে নেয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, দলে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের তিন লিজেন্ড টেন্ডুলকার, গাঙ্গুলী ও দ্রাভিড় কে। তারপরও শেষ রক্ষা করা নিয়ে সন্দিহান থাকায় বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার যথা সম্ভব সমতুল্য পরিবেশে কোলকাতায় কয়েকদিন কন্ডিশনিং ক্যাম্পও করিয়েছে দলকে। নিকট অতীতে তারা অষ্ট্রেলিয়া আর দক্ষিন আফ্রিকা ছাড়া আর কোন দলকে এমন সিরিয়াসলি নিয়েছে কি?

 

আমাদের সামর্থ্য পরিমাপে তারা পুরোপুরিই সফল ছিল। কিন্তু তাতেও প্রথম ম্যাচে শেষ রক্ষা হয়নি। আমার ধারনা ভারতের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে মুস্তাফিজের প্রতি ধোনির রূঢ় আচরনের সাথে সাথে। তখন থেকে ধোনি নিজেই তার মনো সংযোগ হারিয়ে ফেলেন। সেই সাথে বাংলাদেশের মতো ‘পুঁচকে’ দলের সাথে হেরে গিয়ে সমভ্রম হারানোর আতংকও ততোক্ষনে তাকে ঘিরে ধরেছিল। তাতেই ‘ক্যাপ্টেন কুল’ তার ‘কুল’ হারিয়ে বসেন। আর সেই মুহূর্তটিই খেলার ফলাফল নির্ধারন করে দেয়। তখনো ধোনি এবং রায়না ক্রিজে ছিলেন। অতীতেও তারা বহুবার দলকে এমন নিমজ্জমান পরিস্থিতি থেকে টেনে তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন। ধোনি শেষ অবধি মাঠে থাকলে মিরপুরেও সেটা অসম্ভব কিছু ছিল না।

 

আরো দু’টো ম্যাচ বাকি আছে। কাগজে কলমে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল। সুতরাং ওদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করাই স্বাভাবিক। তাদের এতোগুলো কৌশল ব্যার্থ হয়েছে। তারা আমাদের শক্তিমত্তার হাঁড়ির খবর রাখে। তারা নিশ্চয়ই আগামী দুই ম্যাচে নতুন কৌশল সামনে নিয়ে আসবে। সেখানে চাতুরি থাকাও বিস্ময়ের কিছু না।

 

ভারতীয় ক্রিকেটবোদ্ধাদের বুদ্ধিমত্তাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশই নেই। আমাদের ‘ক্যাপ্টেন কুল’ তার ‘কুল’ ধরে রাখবেন এবং বরাবরের মতোই হৃদয় দিয়ে খেলবেন সেই প্রত্যাশা করি।

slide