ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

সুধীরের ঘটনায় ৪টি জিনিস ষ্পষ্ট হয়েছে।


তাকে টিপ্পনী কাটা হয়েছে। হয়তো ভয়ও দেখানো হয়েছে খানিকটা। কিন্তু শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়নি। ভারতীয় মিডিয়া স্বভাব সুলভ ভাবে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করেছে। মাঠের যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে তারা যুদ্ধটাকে মাঠের বাইরে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। এতে ভারতীয় দল আর মিডিয়া (কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে) তাদের কমফোর্ট জোনের বাইরে নিজেদের অসাহায়ত্বই প্রমান করছে। কিন্তু সেই সাথে আমাদের ফোকাস এবং মনোসংযোগে চিড় ধরানোর ফাঁদ পেতেছে। আমাদের মনোসংযোগ কিন্তু মাঠেই রাখতে হবে। লড়াইটা সেখানেই হচ্ছে।


এই যে কিছু একটা হয়েছে সেটাও একদল অভিমানাহত ও ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যেতে পারে। আমাদের উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত আর পাকিস্তানে এ ধরনের ঘটনা সচরাচরই ঘটে থাকে। কিন্তু এটা আমাদের নতুন পাওয়া ক্রিকেটিং স্পিরিটের সাথে যায়না। আমরা তাদের মতো ব্যাড লুজার বা ব্যাড উইনার হতে পারিনা। আমরা বিজয়ে বিনীত থাকার আদর্শই ধারন করবো। যেটুকুই হয়েছে সেটুকুও যাতে না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।


এরপরও বলতে হবে গ্যালারিতে আমরা অনেকের চেয়েই সুশৃংখল। ৯৬ এর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যারা দেখেছেন তাদের হয়তো মনে আছে শ্রীলংকা – ভারত খেলার কথা। সেদিন অবধারিত পরাজয়ের মুখে ইডেনের দর্শকেরা গ্যালারিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। হয়তো অষ্ট্রেলিয়া বা দক্ষিন আফ্রিকার কাছে পরাজয়ের মুখোমুখি হলে তারা এমনটী করতো না। ‘পুঁচকে (সেদিনের অবস্থানে)’ শ্রীলংকার কাছে পরাজয়ের সম্ভাবনা তাদের এতোটাই আতংকগ্রস্থ আর ক্ষুব্ধ করেছিল।

একই ভাবে তাদের আতঙ্কগ্রস্থ আর ক্ষুব্ধ করেছিল ২০১৫ এর কোয়ার্টার ফাইনালে ‘পুঁচকে’ বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়ার আশংকা। এমসিজির মতো নিরপেক্ষ ভ্যানুতে একশ্রেনীর ভারতীয় সমর্থক কি করেছিল তা আমরা অনেকেই মাঠে থেকে চাক্ষুস করতে পেরেছি। যদিও সেদিনের এমসিজিকে নিরপেক্ষ ভ্যানু বলার অবকাশ কম। মাঠের ৯০% দর্শক ছিল ভারতীয় সমর্থক। জায়েন্ট স্ক্রীনে শ্লোগান দিয়ে ইন্টিমিডিশন এবং মাঠে আম্পায়ারদের নগ্ন পক্ষপাতিত্বতো ছিলোই। কিন্তু গ্যালারিতে কিছু সংখ্যক ভারতীয় সমর্থক যে অশোভন আচরন শুরু করেছিল বাধ্য হয়ে পুলিশ কয়েক ডজনকে গ্যালারি থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছিল। এটা যদি তাদের নিজের দেশের মাঠ হতো তাহলে সে সব দর্শকদের আচরন সহজেই অনুমান করা যেতে পারে।

সুধীরের প্রতি যেটুকু করা হয়েছে সেটুকুও অনভিপ্রেত। কিন্তু সেদিনের ইডেন গার্ডেন আর এমসিজির তুলনায় এই অপরাধের মাত্রা কত? তবুও আমাদের সর্বান্তকরনে চেষ্টা থাকা উচিত এর পুনরাবৃত্তি রোধ করা। আমরা ক্রিকেটে যেমন উঠে আসছি, আমাদের আচরনও হওয়া উচিত চ্যাম্পিয়ানের মতো।


দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ভারত বলেছিল, বাংলাদেশের হারানোর কিছু নেই, তাদের হারানর আছে সব কিছু। তারা প্রায় সকিছুই হারাতে বসেছে। এখন মিডিয়ায় সামান্য ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে চেষ্টা করছে বাংলাদেশও যাতে কিছুটা হারায়, বিশেষ করে আমাদের আতিথেয়তার সুনাম।

আমরা সেই ফাঁদে পা দিতে পারিনা।