ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের এই উত্তরন নিঃসন্দেহে আমাদের সবার জন্য আনন্দের। উত্তরনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উচ্চ আয়ের দেশে পরিনত হবে। মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের যাত্রা শুরু  হয়েছিল হত দরিদ্র হিসেবে। গত চুয়াল্লিশ বছরে আমরা জাতি হিসেবে ক্রমান্বয়ে হত দরিদ্র থেকে দরিদ্র, দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত আর নিম্নবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্তে উত্তরন ঘটিয়েছি। এ শুধু আনন্দেরই নয়, বিস্ময় বললেও অত্যুক্তি হবে না।

তবে এই উত্তরন দিয়ে আমাদের জনগোষ্ঠির সার্বিক অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে চিত্রায়ন করা যাবে বলে মনে হয়না। এটা ঠিক, দেশে এখন অনাহারে মানুষ মারা যায় না। কিন্তু কিছু অতিধনী (ইংরেজিতে এদেরই হয়তো ‘ফিলথি রিচ’ বলা  হয়ে থাকে) পরিবারের কাছে জমা হয়েছে কল্পনাতীত বৈভব। পক্ষান্তরে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠি এখনো প্রান্তিক জীবন যাপন করে। তাদের একটি বিরাট অংশ আবার এখনো দারিদ্র সীমার নিচে। এতো ব্যপক আর্থ সামাজিক বৈষম্যের দেশে ২০৫০ সালের মধ্যে যদিও বাংলাদেশ একটি ধনী দেশে কিংবা তার আগে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিনত হয় তাহলে তার সামাজিক নিরাপত্তা কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাসটেইনেবল কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষা করে সেই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিতে হলে বাংলাদেশকে একটি কল্যান রাষ্ট্রের আদলে এগিয়ে নিতে হবে। সম্পদের সুষম বণ্টন অর্জনযোগ্য (এচিভেবল) কিংবা বাস্তবানুগ (প্র্যাগমাটিক) না হলেও অতিধনীর সাথে ধনীর, ধনীর সাথে উচ্চ মধ্যবিত্তের, উচ্চ মধ্যবিত্তের সাথে মধ্যবিত্তের, মধ্যবিত্তের সাথে নিম্ন মধ্যবিত্তের, নিম্ন মধ্যবিত্তের সাথে বিত্তহীনের ব্যবধান যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে। আর এই কমিয়ে আনার ব্যাপারটিতে সংশ্লিষ্ট শ্রেনীগুলোর সদিচ্ছা আর উদ্যোগের উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। এই উদ্যোগটি নিতে হবে সরকারকেই। উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার অভিযাত্রায় বাংলাদেশকে কল্যান রাষ্ট্রের আদলে এগিয়ে নেয়ার বীজটি বপন করতে হবে এখনি।

প্রকট সামাজিক বৈষম্যের কোন দেশ সুষমভাবে বিত্তহীন থেকে উচ্চ বিত্তে পরিনত হয়েছে এমন নজির কোথাও নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে এমনটি ভাবার কারণ নেই।