ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

কোথায় থেকে লেখা শুরু করবো জানি না। তবে এখান থেকে শুরু করি। ছোটবেলাই ছাত্র থাকা অবাস্থায় কাওকে যখন নিজের সম্পর্কে রচনা লিখতে বলা হয় তখন তারা লিখে আমি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।

বড় হবার পরে তারা যেকোনো একটা বিষয় বেছে নেয়। কেউ ডাক্তার বা কেউ ইঞ্জিনিয়ার। সাধারণত বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা তুলনামুলকভাবে একটু মেধাবিহয়। ভালো মার্কস না থাকলে বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ পর্যন্ত পাওয়া যায় না।এজন্যই সকল সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সবচেয়ে মেধাবিরাই বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে।

আমি ইঞ্জিনিয়ারদের বিষয় আলোচনা করতে চাই। কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার। কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারখুব ভালো বিষয়!! অনেকের আবার প্রথম চাহিদা থাকে এটা। আমি কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারহব।

তেমনি আমার এক ছোট ভাই (বন্ধুর ভাই) এবার এইচএসসি পরীক্ষাই মোটামুটি ভালই রেজাল্ট করেছে। সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। তাও আবার কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার। আমার কাছে একটা ভালো উপদেশ চেয়েছে। কি উপদেশ দেবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তারপর আমি তাকে সরাসরি না করে দিয়েছি।

আমি কি ভুল করেছি?

আমার মনে হয় আমি ভুল করি নি। কারন আমাদের দেশে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার হওয়া মানে উচ্চাভিলাষী ছারা কিছু না।

এ দেশে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কোন সরকারী চাকরী নাই। যাও আছে সেটা সেটা কম্পিউটার অপারেটর। সেটা ৪র্থ শ্রেণীর চাকরী। যেখানে এসএসসি পাস করলেই হয়।

তাহলে মেধাবির কি মূল্য আছে।

আপনারা বলতে পারেন দেশেতো অনেক চাকরী আছে। আমি সেটা মানলাম। কিন্তু যেখানে অন্যান্য ডিপার্টমেন্টএর ইঞ্জিনিয়ারদের দেশে মোটামুটি সরকারী অনেক চাকরী আছে।

কিন্তু সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কম্পিউটার অপারেটর ছারা আর কিছু নেই। সম্মানজনক একটা চাকরি পাওয়াই অনেক সময় কঠিন।

আছে কিছু প্রাইভেট কোম্পানি। সেখানেও তাদের অবমূল্যায়ন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের বেতন ২০,০০০ এর নীচে হয়। যেখানে সরকারী একটা ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীও এর থেকে বেশি বেতন পয়ায়। এসব কোম্পানিতেও প্রভাবশালী মামা/চাচা না থাকলে সমস্যার সিমা থাকে না।

দেখা যাই সেখানেও সাধারণত ছাত্ররা হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যারে, নেটওয়ার্ক এর বিভিন্ন ট্রেনিং করে জব পেয়ে যাচ্ছে। তাহলে এই ডিপার্টমেন্ট (কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার) রাখার কি দরকার? সেটা আমার বোধগম্য নয়।

এ অবস্থায় আমার কাছে মনে হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ার বিষয়ে পড়ার মানে মেধার অপচয় করা।