ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

naila
নাটক-সিনেমায় অভিনয় বা মডেলিং পেশাটাকে আমাদের সমাজ ভালো চোখে দেখেন না। বিশেষ করে মেয়েদের ব্যাপারে এই সমাজের চুলকানিটা একটু বেশিই দেখা যায়। বিশেষ কের মেয়রা যখন একটু খোলামেলা পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান, তখন জাত গেলো, জাত গেলো বলে একটা হৈ চৈ শুরু হয়। যেমন এখন হচ্ছে মডেল অভিনেত্রী নায়লা নাঈমকে নিয়ে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, আমাদের এদেশে একজন পুরুষ মডেলকে নিয়ে যতোটা না সমালোচনা করা হয় তারচেয়ে বেশি সমালোচনা হয় নারী মডেলকে নিয়ে! এটা আমাদের হীন-মৌনতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

স্বল্প-বসনের পোশাকের কারণেই বর্তমানে আলোচনা আর সমালোচনায় আছেন নায়লা নাঈম। তথাকথিত ভদ্রলোকদের দৃষ্টিতে এটা অশ্লীলতা। অথচ এই ভদ্রলোকেরাই আবার ভারতীয় নগ্নতায় উল্লাস করছেন! এটা কী হাস্যকর নয়?

0001
অনেকে নাক সিঁটকান নগ্নতা বা যৌনতার প্রশ্ন উঠলে। কিন্তু যারা বেশি নাক সিঁটকান, তারাই পক্ষান্তরে সব থেকে বেশি অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ। তারাই আবার ঘরে বসে ইন্টারনেট ঘেঁটেঘেঁটে পর্নো মুভি দেখেন (যার কারনে বাংলাদেশের এলেক্সায় এক্সভিডিওডটকম সবার উপরে)। আর প্রকাশ্যে এরাই নিজেদেরকে সাধু সাধু বলে ধোঁয়া তুলেন! তাদেরকে ভণ্ড-ছাড়া কী বলা যায়?

আমাদের দেশীয় সিনেমায় যৌনতার প্রশ্ন আসলে সেন্সর দিতে চায় না সংশ্লিষ্টরা। এতে সমাজের উপর প্রভাব পড়বে। এটা তাদের যুক্তি। কিন্তু যৌনতাও যে একটা শিল্প হতে পারে, সেটা তারা মানতে চান না। তাদের ধারণা, যৌনতা মানেই অশ্লীলতা! অশ্লীলতা কী আর নান্দনিকতা কী! তা বোঝার বোধবুদ্ধি সংশ্লিষ্টদের আছে বলে মনে হয় না। তার একটা উদহারণ অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’। এই সিনেমাটি নাকি যৌন সুড়সুড়িতে ভরা! সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর অনেকেই এমন অভিযোগ তুলেছেন। অথচ আমরা ঘরে বসে বেশ খায়েশ করেই সানি লিওনের ‘বেবি ডল’ গান, ‘জিসম-২’ ‘রাগিনী এমএমএস’র মতো যৌন উত্তেজনাকর আরো অনেক ছবিই কিন্তু দেখি! এমনকি আমাদের এদেশের অনেক ছেলেই মনে মনে ইমরান হাশমির স্থানে নিজেদেরকে কল্পনা করেন! যেমন প্রকাশ্যে প্রভাকে গালাগাল দেননি এমন সংখ্যা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, কিন্তু গোপনে এই প্রভাকেই দেখে কাম উত্তেজনায় উন্মাদ হননি এমন ক’জন আছে?

00000

যেমন নায়লা নাঈম সম্প্রতি তার ফেসবুকে সমালোচকদের ভণ্ডামির মাত্রা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে পাল্টা সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘নায়লা না্‌ঈম ছবি আপলোড দিলে (প্রকাশ করলে) আমাদের দেশ, সংস্কৃতি এবং ধর্মের কথা মনে পরে। বাকি সময় আমরা ‘বেবি ডল’ (সানি লিওন অভিনীত রাগিনী এম এম এস টু সিনেমার গান) দেখি’।

আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। বদলানো উচিৎ আমাদের সেকেলের ধ্যানধারণা। আধুনিকায়নের স্বার্থে, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবার তুলে ধরার জন্য এই পরিবর্তন আবশ্যক। তাই বলে অশ্লীলতা নয়।

নান্দনিকতার মধ্যে যৌনতার ব্যবহার হোক। যৌনতাকে তুলে ধরা হোক শিল্পরূপে। যৌনতাও যে একটি শিল্প তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এই দেশে আরো আরো অনেক নায়লা নাঈমের জন্ম হোক। শুভ কামনা ও ভালোবাসা রইলো নায়লা নাঈমের এগিয়ে চলায়।