ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

003
গেলো বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে পারতো বাংলাদেশ। এমন সম্ভাবনাই উজ্জ্বল ছিলো। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে গলাটিপে হত্যা করেছিলো ভারত। সেসময় হন্তারকের ভূমিকায় ছিলো আমাদেরই বন্ধু-প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। যা এখনো ভুলতে পারেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট-ভক্তরা। সেদিনের সে খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক কিছুই ঘটেছে ক্রিকেট বিশ্বে। এমনকি ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আইসিসি’র সভাপতির পদও ছেড়েছেন মোস্তফা কামাল।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের সে খেলা এবং কামালকে নিয়ে নানা ধরণের উস্কানিমূলক সমালোচনাও লিখেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। যা ছিলো শিষ্টাচার বহির্ভূত। সে ঘটনার পর থেকে শ্রীনিবাসন হয়ে উঠেছিলো প্রতিটি বাঙালীর চোখে খল-নায়ক। বিশ্বকাপে ভারত স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় না নিলে, হয় তো বাংলাদেশ ইতিহাস লিখতে পারতো। কোনো অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারত। নতুন এক বিশ্ব-রেকর্ড গড়তে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু সে সম্ভাবনাকে খুনই করেছিলো ভারত। ভেঙ্গে দিয়েছিলো ষোল কোটি বাঙালীর হৃদয়। যা ক্রিকেট ইতিহাসে কালো অধ্যায়।

সেদিনের পর থেকেই আমাদের খেলোয়াড়দের মাঝে ছিলো একটা চাপা ক্রোধ। ভারতকে জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলো তারা। মানসিকভাবেও তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলো বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ উপলক্ষ করে। শুরু হলো কাঙ্ক্ষিত সিরিজ। প্রথমে টেষ্টম্যাচ। ম্যাচটি যেমন তেমন হয়েছে বৃষ্টির কারণে। কিন্তু এটিই মুল নয়। টাইগার শিবির মুখিয়ে ছিলো ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে।

মিরপুরে হয়ে গেলো বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দু’টি ওয়ানডে। যে ওয়ানডেতে লজ্জাজনক-ভাবেই হেরেছে ভারত। যদিও আমার বলা উচিৎ ছিলো হারিয়েছে বাংলাদেশ। যার কারণে ভারতীয় পুরো টিম এখন তীব্র সমালোচনার মধ্যে। খোদ ভারতীয় গণমাধ্যমেরই রোষানলে তারা। একশ ত্রিশ কোটি মানুষের কাঠগড়ায় আসামী এখন ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট-দল। এনিয়ে তারা বেশ অস্বস্তিকর অবস্থাতেই আছেন। যা ইতোপূর্বে এই দলটি এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলো কিনা, জানা নেই।
001
খেলায় হার-জিত থাকবেই। এটাই চিরন্তন। আজ হারবে, কাল হারাবে, এই তো খেলা। তবে ভারত যেভাবে গো-হারা হেরেছে এটা নি:সন্দেহে তাদের জন্য লজ্জাজনকই বটে। আর এটাই যেন প্রাপ্য ছিলো ভারতীয় টিমের। কেনো না, এই ভারতীয় দলই সবসময় বাংলাদেশকে বাচ্চা, বাচ্চা বলেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো। এরা (বাংলাদেশ) কিস্যু পারে না বলেও অনেক সমালোচনা করেছিলো। তবে আমারা বাচ্চা নই, বাঘ। আমাদের হুঙ্কারে একশ ত্রিশ কোটি মানুষের হৃদয়েও কাঁপন ধরে, রক্ত ক্ষরণ হয়, সেই স্বাক্ষর আমরা রেখেছি। এটাই বোধ করি আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিৎ।

আমাদের দল জিতেছে, আমরা উচ্ছ্বসিত। আমরা যারপর নাই আনন্দিত। আমরা উদ্বেলিত। আমরা উল্লাসিত। তবে এই উল্লাস, আনন্দ, উচ্ছ্বাস কেন উস্কানিমূলক হয়! যারা আমাদের সাথে গো-হারা হেরে চরমভাবে লজ্জিত, তাদেরকে কেনো আমরা যাচ্ছে তাই ভাবে কুটক্তি করছি! এটা কী সভ্যতা? নাকি তারা আমাদের নিয়ে আগে করেছে বলে? তাহলে কি এটাই হওয়া উচিৎ (!) তাদের নিয়ে আমরা যাচ্ছে তাই কুটক্তি করব? আমরা কী এমনই ছিলাম?

কিন্তু আমাদের ইতিহাস তো এমন বলে না। আমরা তো প্রতিহিংসা পরায়ণ কখনোই ছিলাম না। আমাদের ঘরে শত্রু এলেও আমরা তাদেরকে যথেষ্ট আপ্যায়ন করি। এটাই তো ছিলো আমাদের আদি সংস্কৃতি। তাহলে এখন কেনো আমরা এমন! আমরা কী ভুলে যাচ্ছি আমাদের অতীত ঐতিহ্য? আমাদের কী মনে হয় না, এই আবেগ সংরক্ষণ করা উচিৎ?

বিশ্বের মধ্যে আমাদের একটা সুনাম রয়েছে বীরের জাতি হিসেবে। ‘৫২’ ও ‘৭১’ আমাদের গর্ব করার যোগ্যতা দিয়েছে। বীরের জাতি হিসেবে আমাদের সম্মান দিয়েছে বিশ্ব দরবারে। শুধু তাই নয়, গর্ব করার মতো আমাদের অনেক কিছুই রয়েছে। তবে আমাদের সবচেয়ে গর্বের জায়গাটি হলো, ‘আমরা বাঙালী’। এই বাঙালীর গর্ব করার ইতিহাস আজ আর কালের নয়। সে বহু যুগ ধরে। কিন্তু সে যোগ্যতা কেনো আমরা ভারতীয়দের সৃষ্টি মওকা মওকা নিয়ে মেতে উঠছি? কেনো আমরা বিজিতাদের সহানুভূতি দেয়া বদলতে কুটক্তির আশ্রয় নিচ্ছি! এ কী শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়?
002
তবে যাই হোক। আমারা আনন্দ করবো। আমরা উচ্ছ্বসিত হবো। কিন্তু এই আনন্দ, আর এই উচ্ছ্বাস যেনো উগ্রতা আর অসভ্যতার আদলে না হয়। আমাদের এই উচ্ছ্বাস যেন অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন না করে। আমরা যেন ভুলে না যাই আমাদের কৃষ্টি-কালচার। আমরা সকলেই যেন মনে রাখি ‘তুমি অধম হইলে, আমি উত্তম হইবো না কেনো’?

আজ আবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ! পুরনো বিষয়। বাংলাদেশ টিম আমাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়। ভারতকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা এটা এখন আর স্বপ্ন নয়, এটাই বাস্তবতা। শুভ কামনা টাইগরাদের জন্য।

তবে অনুরোধ, ইন্ডিয়া আমাদের দেশে এসেছে, তাদের হারিয়েছি। এ নিয়ে কটূক্তি করার কিছু নেই। ফলে আমাদের ভাষা সংযত করা উচিৎ। মনে রাখা উচিৎ, আমরা বাঙালি, গর্বিত বাঙালি। আমাদের ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা বীরের জাতি।