ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, সেলুলয়েড

 

নির্মাতা তৌকির আহমেদ। যার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখার পর মিটারের সর্বোচ্চ কাঁটাকে স্পর্শ করে শ্রদ্ধা আর প্রত্যাশার পারদ। এরপর অপেক্ষা। কবে আসবে তার পরবর্তী চলচ্চিত্র? অপেক্ষার প্রহর খুব বেশি দীর্ঘ করেননি এই গুণী নির্মাতা। এক বছরের বিরতি দিয়ে আবারো হাজির হয়েছেন নতুন চলচ্চিত্র ‘হালদা’ নিয়ে।

হালদা চলচ্চিত্রের কাহিনী গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম এক নদী হালদা ও নদীটিকে উপজীব্য করে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনকে ঘিরে। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার হালদাছড়া (পাহাড়ি ঝর্ণা) থেকে এই নদীর উৎপত্তি। ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে এসে মিশেছে।

'হালদা' চলচ্চিত্রের পোস্টার

হালদার গল্পটা মূলত আমাদেরই গল্প। যে গল্পের প্রতিটি দৃশ্যে মিশে আছে বাংলার মানুষের আবেগ-অনুভূতি, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি। কবি গান, জব্বারের বলি খেলা, ব্যাঙের বিয়ে, কাঁদা মাটির গন্ধ, টিনের চালে বৃষ্টির অঝোর ধারা, নদীর ঘোলা জলে সূর্য্যরে ঝিকিমিকি আলো, ট্রলারের ভট ভট শব্দ, জোয়ারের সময় নদী তীরে আছড়ে পড়া ঢেউ আর হলুদ সর্ষের খেত। যার প্রত্যেকটিরই রয়েছে একটা আলাদা বাঙ্গালীয়ানা রূপ। রয়েছে বাঙালী হৃদয়ের টান। এজন্যই আমরা দেখেছি সুদূর অস্ট্রেলিয়াতে বসেও প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ অভাববোধ করেছেন বাংলাদেশের বৃষ্টি আর ব্যাঙের ডাক।

‘হালদা’র আরেকটি বিশেষ দিক হচ্ছে আপনি না চাইলেও মাঘ মাসের তীব্র শীতের মধ্যেও এই ছবি নিশ্চিতভাবে আপনাকে বারবার শ্রাবণের অঝোর বৃষ্টিতে ভিজিয়ে ছাড়বে। সুতরাং যারা এখনে দেখেননি আর প্ল্যান করছেন আজকালের মধ্যেই দেখতে যাবেন তারা অবশ্যই যাওয়ার সময় সোয়েটার নিতে ভুলবেন না!

'হালদা' ছবির পোস্টার

অভিনয়ঃ
হালদার দৃশ্যায়ন, অভিনয়, শব্দের ব্যবহার সবকিছুই অত্যন্ত চমৎকার এবং দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করার মত। প্রতিটি ক্ষেত্রই যোগ্যতা রাখে একশোতে একশো পাওয়ার। ছবির বড় থেকে ছোট প্রতিটি চরিত্রকেই তৌকীর আহমেদ ফুটিয়ে তুলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। চৌধুরী বাড়ির কাজের মেয়ে কুলসুমের অভিনয়ের দিকে লক্ষ্য করলেই সেটি ধরা পড়বে। খুব বড় কোনো চরিত্র না হলেও অত্যন্ত যতেœর সাথে তুলে ধরা হয়েছে তাকে।

‘হালদা’ চলচ্চিত্রের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নারী। যেখানে হাসু চরিত্রে অভিনয় করেছে নুসরাত ইমরোজ তিশা। এই মানুষটার অভিনয় গুণ আর দক্ষতাকে ফুটিয়ে তুলতে পারে এমন যথার্থ কোনো শব্দ এই মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছিনা। এমন কোনো শব্দ আদৌ আছে কিনা আমার জানাও নেই। দিনকে দিন নিজেকেই যেনো ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। যার ষোল আনা ছাপই ‘হালদা’ তে রয়েছে।

ফজলুর রহমান বাবু, দিলারা জামান, জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম কেউ কারো চেয়ে কম যান না। ছবি দেখে অনেকবার মনে হয়েছে এটি কোনো ছবি ছিল না! বরং কে কত ভালো অভিনয় করতে পারে ছিল তারই এক তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলাফল- সবাই গোল্ডেন এ প্লাস।

তবে একটি চরিত্রের কথা আলাদা ভাবে বলতে হয়। সেই যুবক যে হালদা রক্ষার দাবীতে জেলেদের সচেতন করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল (তার নাম আমার জানা নেই)। আমার মনে হয়েছে চরিত্রটিকে যথেষ্ট ফ্লোর দেয়া হয় নি। চরিত্রটির প্রতি নির্মাতার আরো একটু যতœশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কেননা এই সচেতন তরুণরাই দেশকে পথ দেখায় সুন্দর আগামীর। এরা ব্যস্ত থাকে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে। বিনিময়ে সইতে হয় অনেকের কটাক্ষ আর লাঞ্ছনা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী- ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এই তরুণরাই ইতিহাসের পাতায় চিরকাল বেঁচে থাকে।

‘নোনা জল’ঃ নারী, নদী ও হালদা
‘এভরি উইমেন্স হার্ট ইজ আ ডীপ সিক্রেট অফ ওশ্যান’। বিখ্যাত টাইটানিক মুভির বিখ্যাত একটি ডায়লগ। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অব্দি সাহিত্যিকদের কলমে নারীকে নিয়ে রচিত হচ্ছে অসংখ্য গান, কবিতা, উপন্যাস। যার বেশির ভাগ লেখকই পুরুষ। তাদের কলমের কালো কালিতে নারীর সৌন্দর্য আর রহস্যই উঠে এসেছে বারংবার। ফুটে উঠেছে নারীর মন বুঝতে না পারার আক্ষেপ!

সিগমুন্ড ফ্রয়েডের কথাতেই তার কিছুটা ধরা পড়ে। ফ্রয়েড বলেছেন, “নারী আত্মা সম্পর্কে আমার ত্রিশ বছরের গবেষণা সত্বেও আমি একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাইনি, আসলে এরা কি চায়!”

তৌকির আহমেদ ‘হালদা’র শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার পুরো চলচ্চিত্রে নারীকে তুলনা করেছেন নদীর সঙ্গে। চলচ্চিত্রটির ‘নোনা জল’ গানে হয়তো তাই বলতে চেয়েছেন তিনি। যেখানে শিল্পী পিন্টু ঘোষ আর সুকন্যা মজুমদার ঘোষ সুরে সুরে গেয়েছেন-

‘যার বুকে ঢেউ থাকে তার বুকে ঘর।
জোয়ার ভাটার খেলা করে নাতো পর।।’
নদী যেমন জোয়ার ভাটার টানে নিত্য যাওয়া-আসা করে নারী নামক নদীর বুকেও তেমনি প্রতিনিয়ত চলে সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচল। তবুও নারী একবার যাকে মন দেয় সে দূরে চলে গেলেও তাকে পর করে দিতে পারেনা। যেমনি করে নদীর তল যতোই দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করুক না কেনো নদীকে ছেড়ে সে কখনোই যেতে পারে না।

গানের পরের লাইনেই আবার তৌকির বলেছেন,
‘জীবন নদীর মতো ঢেউ থামেনা।
কেউ তার পাড় পায় কেউ পায় না।’
নারীর জীবনও নদীর মতোই। বয়ে চলে দুপাড় ঘেষে। নদীর পাড়ে আশ্রয় গড়ে তোলে মানুষ। চায় তাকে ঘিরে বেঁচে থাকতে। যেমনটা নারীকে ঘিরে বেঁচে থাকতে চায় পুরুষ। মানুষটিকে পছন্দ হলে পাড়ে আশ্রয়ও দেয় সে। আবার মনঃপূত না হলে পাড় ধ্বসিয়ে দেয়ার মতোই করে দেয় ধ্বংস। রবী ঠাকুর তাঁর রাজনৈতিক উপন্যাস ‘ঘরে-বাইরে’ তেও নারীকে তুলনা করেছিলেন নদীর সঙ্গে। বলেছিলেন, ‘নারীর মন হচ্ছে নদীর মত। যখন শান্ত থাকে তখন কূলের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয়। কিন্তু কোনো কারণে যখন অশান্ত হয়ে উঠে তখন দুকূল ছাপিয়ে বয়ে চলে।’

এর পরের লাইন দুটি হচ্ছে-
‘আহা জীবন, কত ভালবাসাবাসি।
নোনা জলে, নোনা জলে কত হাসাহাসি।।’
নোনাজল। এই নোনা জলের মৎস্য সম্পদকে কেন্দ্র করে বেঁচে আছে শত শত পরিবার। এই নোনা জলে মাছের দেখা পেলে হাসি ফোটে শত শত গৃহিণীর মুখে। শত শত জেলে কন্যার মুখে। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর আনন্দাশ্রুতে মিশে থাকে এই নোনা জল। এই নোনা জলকে ঘিরেই আবার তাদের যত ভয়-শঙ্কা। কন্যার পিতা, বোনের ভাই আর স্ত্রীর স্বামী যখন এই নোনা জলে অকূল দরিয়ায় ঘুরে বেড়ায় তারা তখন একবুক আশা আর শঙ্কা নিয়ে চেয়ে থাকে পথ পানে।

গণমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্র আর ‘হালদা’র আন্দোলন হয়ে ওঠাঃ
মিডিয়া বা গণমাধ্যম বলতে আমরা অধিকাংশই টিভি, রেডিও কিংবা পত্রিকাকে বুঝে থাকি। টিভি চ্যানেলের টিআরপি রেট আর পত্রিকার সার্কুলেশন দিয়ে বিচার করা হয় কোন মিডিয়া হাউজ কতোটা জনপ্রিয়। কিন্তু চলচ্চিত্রও যে একটি অন্যতম শক্তিশালী গণমাধ্যম সেটি বেশিরভাগ সময়ই আমাদের মাথায় থাকেনা। যদিও দেশ-কালভেদে এই গণমাধ্যমটির রয়েছে প্রচুর দর্শক।

‘হালদা’ দেখার আগ মুহূর্তে চলচ্চিত্রও যে একটি প্রচ- ক্ষমতাধর মিডিয়া সেটি আমার মাথায়ও ছিল না। শেষ করার পর বুঝতে পারলাম তৌকির আহমেদ কি ভয়ানক এক সমস্যার কথা কত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর এই চলচ্চিত্রে।

বাধ দিয়ে সংকুচিত করা হচ্ছে হালদা (সূত্রঃ প্রথম আলো)

প্রতি বছর হালদা নদীতে একটি বিশেষ মূহুর্তে ও বিশেষ পরিবেশে রুই ,কাতলা,মৃগেল ,কালিবাউস ও কার্প জাতীয় মা মাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে। হালদার প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক অবস্থান, এর পানিতে রুই জাতীয় মাছের খাদ্যের সহজলভ্যতা আর নদীর তলদেশের মাটির ভৌতিক গুণাগুণের কারণেই এটি অন্যান্য সব নদী থেকে আলাদা।

মা মাছের ডিম ছাড়ার বিশেষ সময়কে স্থানীয়রা বলে ‘জো’। অমাবস্যা বা পূর্ণিমার রাতে প্রচ- বজ্রপাত সহ বৃষ্টি হলে জো আসে। মা মাছেরা ডিম ছাড়ার আগে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ না পেলে মা মাছ ডিম নিজের দেহের মধ্যে নষ্ট করে ফেলে। সে চায় না তার অনাগত সন্তানেরা প্রতিকূল কোনো পরিবেশের সম্মুখীন হোক। হালদা চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে জাহিদ হাসান যখন তিশাকে কটাক্ষ করে বলে যে- ‘হালদার মাছ ডিম ছাড়লো কি ছাড়লো না সেটি নিয়ে তোমার (তিশার) ভাবার দরকার নেই। তোমার কাজ হচ্ছে সন্তান জন্ম দেয়া।’
জাহিদ হাসানকে উদ্দেশ্য করে তিশাকে তখন তাই বলতে শোনা যায়, ‘ইট ভাটার ধোয়া আর হালদার নষ্ট পানিতে তার সন্তান কিভাবে বাঁচবে?’

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় হালদা নদীর জন্য ক্ষতিকর অন্তত ১০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়। যার সবকটিই মানব সৃষ্ট কারণ। এর মধ্যে রয়েছে নদীতে বাঁধ দেয়া, ইটভাটা, কল-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ইত্যাদি। এসব কারণে প্রতি বছরই কমছে মাছের ডিম উৎপাদনের সংখ্যা। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যান ভীষণ রকম উদ্বেগজনক আর ভয়াবহ!

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কার্যালয়ের হিসাবে দেখা যায়, ২০১২ সালে হালদা নদী থেকে উৎপাদিত মাছের রেণু পোনার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৬৯ কেজি, ২০১৩ সালে সেটি অর্ধেকে নেমে আসে। ওই বছর সংগ্রহ করা হয় ৬১২ কেজি, ২০১৪ সালে ৫০৮ কেজি, ২০১৫ সালে ১০৬ কেজি ও ২০১৬ সালে ১৬৭ কেজি রেণু সংগ্রহ করা হয়। (সূত্রঃ প্রথম আলো)

অবশ্য রেণু সংগ্রহ করা নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে একমত নন গবেষকেরা। তাঁদের হিসেবে, গত পাঁচ বছরে সংগৃহীত রেণুর পরিমাণ আরো ভয়াবহ রকমের কম!
গবেষকেরা বলছেন, ২০১২ সালে হালদা থেকে সংগৃহীত রেণুর পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কেজি, ২০১৩ সালে ৭০ কেজি, ২০১৪ সালে ২৭৫ কেজি, ২০১৫ সালে ৪৭ কেজি ও ২০১৬ সালে মাত্র ১২ কেজি। অথচ প্রজনন মৌসুমে শুধুমাত্র একটি রুই মা মাছ একাই ২ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়ে!

১৯৭০ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান নির্মাণ করেছিলেন চলচ্চিত্র- ‘জীবন থেকে নেয়া’। চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে ছবির শুরুতেই জহির রায়হান বলেছিলেন- ‘একটি দেশ। একটি সংসার। একটি চাবির গোছা। একটি আন্দোলন।’

মূলত হালদা সহ দেশের প্রায় প্রতিটি নদীই এখন দখল আর দূষণের শিকার। অথচ এসব নদীর মাছের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে অসংখ্য মানুষ। দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই মৎস্য খাত। তৌকির আহমেদের ‘হালদা’ তাই শুধুমাত্র হালদা নদীর গল্প নয়। এটি পুরো বাংলাদেশ জুড়ে জালের মত ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি নদীর কাহিনী। নদীকে উপজীব্য করে বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষের কাহিনী। জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রের মতোই তাই হালদাকে নিয়ে বলতে হয়- ‘একটি নদী। একটি সংসার। একটি মাছ। একটি নতুন আন্দোলন।’

জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরই তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বুঝতে পারে এটি পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে খুব কৌশলে একটি তীব্র প্রতিবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। কারারুদ্ধ করা হয় জহির রায়হান আর নায়করাজ রাজ্জাককে। অল পাকিস্তান সেন্সর বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান রাও ফরমান আলী সিদ্ধান্ত নেয় এটিকে ছাড়পত্র না দেয়ার। সেন্সরবোর্ডের অন্যতম সদস্য নাট্যকার আসকার ইবনে শাইখ তৎপর হন ছাড়পত্র যোগাড়ে। সেন্সর বোর্ডের সবার উপস্থিতিতে চালানো হয় ‘জীবন থেকে নেয়া’। ছবি শেষ হওয়ার পর সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান মন্তব্য করতে বলেন আসকার ইবনে শাইখকে। শাইখ সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন- “জহির হয়তো ভুল করে একটি সত্য সিনেমা বানিয়ে ফেলেছে। এই সত্যকে আমি কিভাবে মিথ্যা বলি?”

অবশেষে ছাড়পত্র পায় ‘জীবন থেকে নেয়া’। চলচ্চিত্রের কাহিনী ব্যপক প্রভাব ফেলে বাঙালী দর্শকের মাঝে। এই প্রতিবাদী চলচ্চিত্রের প্রতিবাদী ভাষা বাঙালীদের উদ্বুদ্ধ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে। বাণিজ্যিক সাফল্য লাভের পরের বছরই টানা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অবশেষে চূড়ান্ত সফলতাটি পেয়েছিল এই চলচ্চিত্র।

তৌকির আহমেদের ‘হালদা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশের জীবন ও জীবিকার অন্যতম উৎস ‘হালদা’ নদীও ফিরে পাবে তার পূর্বেকার সেই রূপ। চলচ্চিত্রের গ-ি ছাপিয়ে ‘হালদা’ ও হয়ে উঠবে “নদী বাঁচলে, দেশ বাঁচবে” এমন শিরোনামের আন্দোলনের উদ্যোক্তা। সেই সফল আন্দোলনে আবারো জৌলুস ফিরে পাবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ছোট-বড় নদী। আবারো ফিরে আসবে মাছে-ভাতে বাঙালীর সেই হারানো ঐতিহ্য আর গৌরব। এমনই এক স্বপ্নের সফল দৃশ্যায়ন দেখতে চাই আমরা। হতে পারে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন অনেক কঠিন। কিন্তু তাতে কি? তৌকির তো হালদার এক দৃশ্যে মোশাররফ করিমকে দিয়েই বলেছেন- “স্বপ্ন ছাড়া মানুষ ন বাঁচে। কোনোদিনও স্বপ্ন দেখা বন্ধ ন কইজ্জো।”

#…….
শরিফুল ইসলাম সীমান্ত
শিক্ষার্থী
৪৪তম আবর্তন
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়