ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি (০৯/১০/১২) একটি ঘটনা ঘটেছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড: সালাম সাহেব একজন ছাত্রীকে সজোরে ঘুষি মেরেছেন । তার আগে ঐ দুর্ভাগা ছাত্রীটিকে ঘুষি মারেন মাসাদুল হাসান নামের বাকৃবির এক কর্মচারী। গত দুদিনের পত্রিকায় ছবিসহ বিস্তারিত লেখা হয়েছে। তাই সবিস্তারে গেলাম না ।

বিষয়টা কেমন? আমাদের অনেকের জন্য লজ্জার। কিন্তু সবার জন্য নিশ্চয় নয়। সেই পাকিস্তানে মালালাকে নিষ্ঠুরভাবে আহত করা হল । পত্রিকা- ব্লগ তোলপাড় হয়ে গেল। কিন্তু নিজ দেশের ঘটনা নিয়ে আমরা উদাসীন। হায় সেলুকাস! বিচিত্র এই দেশ । তবে বিচিত্রতর এই দেশের জনগণ। একটু শুনুন “ এ ঘটনায় প্রক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্য কোন শিক্ষক আর প্রক্টর হতে আগ্রহী হবেন না । (দৈনিক কালের কণ্ঠ, পাতা ১৫, ১৮-১২-২০১২ ) । ”

অতএব, কি বলা যায়? প্রক্টর সাহেব যা করেছেন ঠিক করেছেন, ভবিষ্যতে আরো করুন।

এ বিষয়ে মারাত্বকতম মন্তব্যটি করেছেন পাড়ার বুড়ো মুদি দোকানদার হাশেম চাচাঃ আমি ঐ মেয়েটিকে দুর্ভাগা না বলে ভাগ্যবতী বলব। কারণ যে ব্যক্তি মেয়েটিকে ঘুষি মারতে পারে, সে ঐ মেয়েটির উপর হিংস্র হায়নার মত ঝাঁপিয়েও পড়তে পারত। ঐ দুই বেটা জানোয়ার হয়ে গিয়েছিল, তারা দানব হয়ে গেলে অবাক হবার কিছু ছিল না । মেয়েটি প্রকাশ্যে ধর্ষিতা হতে পারত। আর হলেও প্রক্টরের কিছুই হত না । বরং আরো একটা প্রমোশন হত ।

হতভম্ব হয়ে প্রশ্ন করি, চাচা কি বলছেন! মাথা ঠিক আছে তো? ‘কেন বাবা? ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে যদি মিষ্টি খেয়ে উদযাপন করা যায়, তবে এতো মাত্র একটি ঘটনা।’ মুখেরা আসে না ।

প্রিয় পাঠক, আমি তেমন করে লিখতে পারি না । শুধু অনুভূতিটুকু শেয়ার করলাম । কারণ আমার মাথা ঘুরতে ছিল। কানে বাজছিল হাশেম চাচার কথা: ……মেয়েটিকে দুর্ভাগা না বলে ভাগ্যবতী বলব ………।