ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

ভার্চুয়াল জগতে লিখালিখি করার মূল উদ্দেশ্য এবং প্রেরণা হলো, সবাই একসাথে নিজেদের মতামতগুলো যুক্তিসহকারে তথ্যের ভিত্তিতে শ্লীল এবং ভদ্র আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্তটাকে প্রকাশ করার প্রয়াস পায়। আর তাই নিজেদের স্বাধীন মত প্রকাশের উদ্দেশ্যই ফেসবুকের গ্রুপ, পেজ এবং ব্লগগুলোর আত্মপ্রকাশ ঘটছে দিনের পর দিন। যেগুলো মতপ্রকাশের এক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে আর সবাই নিজেদের চিন্তা চেতনা গুলোকে প্রকাশ করছে অবলীলায়। সবার শালীন এবং সাবলীল তথ্যপূর্ণ আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসছে আসল উদ্দেশ্যটি।

মুক্তমনা নামের একটি ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ আছে যেখানে আমি বেশ-কিছুদিন আগে সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। আর আমি যখন ওই গ্রুপে সদস্য হিসেবে যুক্ত হই তখন দেখি ওই গ্রুপে কোনরকম পোস্ট কিংবা আলোচনা নেই। আমি ওই পেজটিকে এক্টিভ করার জন্য নিয়মিত গঠনমূলক ও তথ্যমূলক আলোচনা সহকারে পোস্ট দেয়া শুরু করি। আমি ভেবেছিলাম মুক্তমনার পেজ মানে মুক্ত-আলোচনা এবং গঠনমূলক বিষয়গুলো এখানে সবসময় গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয় হবে। কিন্তু এই ধারনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে ওই গ্রুপের এডমিন আজ আমাকে গ্রুপ থেকে ব্যান করে দিয়েছে এবং গ্রুপটিকে ক্লোজড করে দেয়া হয়েছে। [গ্রুপটির লিঙ্ক]

কারন হিসেবে এডমিন উল্লেখ করেছেন শুধুমাত্র মুক্তমনা সাইট বিষয়ক আলোচনা করার জন্যই খোলা হয়েছে ওই গ্রুপটি। কি অদ্ভুত দুঃখজনক অযৌক্তিক কারণ একইসাথে হাস্যকরও বটে। ওই গ্রুপের কোথাও কোন নীতিমালা উল্লেখ করা নেই যেখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় এই গ্রুপে মুক্তমনা সাইট এর বিষয়াদি ছাড়া কিছুই লেখা এবং আলোচনা করা যাবে না। আর পরবর্তীতে যখন আমি গ্রুপের এডমিনকে বললাম গ্রুপের নীতিমালায় এই বিষয়টাকে উল্লেখ করে দেয়ার জন্য যাতে অন্যসবাই এই গ্রুপের নিয়মনীতি সম্পর্কে অবগত হয়ে পোস্ট করে এবং তারপর আমার বলার পরিপ্রেক্ষিতে এডমিন গ্রুপে পোস্টের নিয়ম উল্লেখ করে, সেটারও স্ক্রিন শর্ট নিচে দেয়া হলো।

যেখানে পেজটি মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলো সেখানে আমি প্রতিনিয়ত আলোচনা করে পেজটিকে আবারো সচল করে তোলার চেষ্টা করেছি, অথচ এই দায়িত্ব ছিলো এডমিন এবং ওই পেজের সদস্যদের। অথচ আমি সেই মৃতপ্রায় গ্রুপটিকে আবার জীবিত করে তুলেছি। এবং আমি শুধু নাস্তিকতার আলোচনার ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকিনি। আমি আলোচনা সহ লিখেছি সামাজিক প্রেক্ষাপট, নারীবাদ, মানবতাবাদ, বর্ণ বৈষম্য আরো অনেক বহুমুখী গঠনমূলক বিষয় নিয়ে। আর আমার এই গঠনমূলক আলোচনা এবং গ্রুপটিকে সতেজ করে তোলার কারণে আমাকে ব্যাঙ্গ বিদ্রূপ এবং গালিগালাজ অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে গ্রুপটি থেকে ব্যান করা হয়েছে। এটাই কি মুক্তমনাদের আসল চেহারা ? মুখোশের আড়ালে এরা নিজেদের ভয়ংকর প্রতিক্রিয়াশীল চেহারা আড়াল করে রাখে। ওই গ্রুপে শুধুমাত্র মুক্তমনা ওয়েবসাইট নিয়ে পোস্ট ছাড়া অন্য আর কোন লেখা দেয়া যাবে না এরকম কোন নীতিমালা গ্রুপে কখনো দেয়া ছিলো না। আর যদি দেয়া থাকতও তবে এটা মুক্তমনাদের মানসিকতার সীমাবদ্ধতা ছাড়া আর কিছুই প্রমাণ করে না। কারণ মুক্তমনা কেবল নাস্তিকতা নিয়েই আলোচনা করে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই যদি উদ্দেশ্যমূলক ভাবে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে নিয়ে গ্রুপ খোলা হয় তবে কিভাবে এটা মুক্তমনার লক্ষণ হয় ? এটা আমার বোধগম্য নয়। এটাকে বদ্ধ-মনা বলা চলে কখনো মুক্তমনা নয়। উইকির সংজ্ঞা অনুযায়ী Freethought is a philosophical viewpoint that holds opinions should be formed on the basis of science, logic, and reason, and should not be influenced by authority, tradition, or other dogmas.The cognitive application of free thought is known as “freethinking,” and practitioners of freethought are known as “freethinkers.” সুত্র http://en.wikipedia.org/wiki/Freethought

কিন্তু মুক্তমনার গ্রুপের সদস্যদের কার্যকলাপ দেখে তাদেরকে মুক্তমনার দলে কখনো ফেলা যায় না। এই গ্রুপের কিছু সদস্য আছে যারা খুবই আক্রমনাত্নক এবং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পছন্দ করে। এরা নিজেদেরকে সব জায়গায় নাস্তিক এবং মুক্তমনা বলে পরিচয় দেয় অথচ নিজেরা বদ্ধ-মনা। তাদের প্রোফাইলের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে জানা যায় তারা চরম মানসিক বৈকল্য ভুগছে। এরা কখনো মার্জিত শালীন এবং সহিষ্ণু যৌক্তিক ভাষায় আলোচনা করতে পারে না। আর এর প্রতিবাদ করতে গেলে গ্রুপ থেকে ব্যান করে দেয়া হয়। অথচ গ্রুপের প্রিয়ভাজনরা কটূক্তি গালিগালাজ নিন্দনীয় এবং অশ্লীল কমেন্ট করলেও তাদের ব্যান করা হয় না, আর তাহলে এটাই কি মুক্তমনার আসল উদ্দেশ্য। আমরা সবাই জানি সু-ব্যবহার এবং মার্জিত ভাষা হলো একজন প্রকৃত মুক্তমনার আসল পরিচয়।

মুক্তমনা ফেসবুক গ্রুপে সেই সব সদস্যদের গ্রুপে রাখা হয় যারা অশালীন এবং বাজে গালিগালাজ করে গ্রুপের পরিবেশ নষ্ট করছে আর ব্যান করা হয় তাদের যারা আমার মতো সৎ এবং শালীন যুক্তিসহকারে আলোচনার মাধ্যমে গ্রুপটিকে আরো গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় করে তুলছে। শুধুমাত্র যদি মুক্তমনার ওয়েবসাইট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে একটি গ্রুপ খোলা হয় তাহলে মুক্ত চিন্তার এবং গঠনমূলক আলোচনা গুলো আড়ালেই থেকে যাবে। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে আমি ছাড়াও ওই গ্রুপে নিয়মিত আরো অনেক পোস্ট দেয়া হতো যা মুক্তমনার ওয়েবসাইটের সাথে সম্পর্ক নেই বরং বেশ কিছু পোস্ট ছিলো সাংঘর্ষিক। গ্রুপের এই প্রকারের বিদ্বেষ এবং আক্রমনাত্নক আচরণ কখনো কাম্য নয়। প্রগতিশীলতা আর মুক্তমনার আড়ালে এরা নিজেরাই যদি এ প্রকারের হীন আচরণ এবং কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে তবে তা আসলেই খুব দুঃখজনক।

মুক্তচিন্তা বলে যে জ্ঞান ও যুক্তির অনুপস্থিতিতে দাবিকৃত কোন মতকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা উচিত না। সুতরাং, মুক্তমনারা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, বাস্তব সত্য এবং যুক্তির আলোকে মত গড়ে তুলে এবং হেত্বাভাস অথবা কর্তৃপক্ষ, পক্ষপাতদুষ্টতা, লোকজ্ঞান, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, প্রথা, গুজব এবং অন্য সব গোঁড়া, বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতার উৎসাহদাতার ভূমিকা পালনকারী শাস্ত্র থেকে নিজেদের বিরত রাখে।কিন্তু মুক্তমনা গ্রুপের আচরন দেখে অবাক হওয়া ছাড়া উপায় নেই। আশা করবো গ্রুপটি বদ্ধ-মনা থেকে বের হয়ে আসল মুক্তমনায় ফিরে আসবে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।