ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

অনেকেই মনে করেন নাস্তিক হলেই কেন তাকে যুক্তিবাদী, নারীবাদী কিংবা মানবতাবাদী হতে হবে। কিন্তু এই প্রতিটি নীতি এবং দর্শন একটি অপরটির সাথে জোরালো ভাবে আন্তঃসম্পর্কিত। যদিও নাস্তিক্যবাদ যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং নারীবাদ কখনো সমার্থক শব্দ নয়। কিন্তু একজন প্রকৃত এবং মুক্তমনা প্রগতিশীল নাস্তিক হতে হলে তাকে অবশ্যই যুক্তিবাদী মানবতাবাদী এবং একই সাথে নারীবাদী হওয়াটা আবশ্যক। নইলে উল্লেখিত নীতিগুলোর যে কোন একটির অনুপস্থিতিতে তাকে প্রকৃত এবং মুক্তমনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নাস্তিক বলে দাবী করা যাবে না। আধুনিক নাস্তিক্যবাদের সাথে যুক্তিবাদ নারীবাদ এবং মানবতাবাদ আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়টিকে অনেক নাস্তিকই গ্রহণ করতে পারে না। কারণ অনেক নাস্তিকের মাঝে যথেষ্ট জ্ঞানের এবং উদার মানসিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। বাস্তবে দেখা যায় নাস্তিক্যবাদী আর মুক্তমনার মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। কারণ নাস্তিকদের একটা অনেক বড় অংশ সারাক্ষণ শুধু ধর্মকে নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর তাই নাস্তিকদের চিন্তা চেতনাগুলো যুক্তিবাদ নারীবাদ মানবতাবাদ এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত থাকা সত্ত্বেও এই বিষয়গুলোকে নিয়ে তাদের খুব একটা আলোচনা করতে দেখা যায় না। আবার অনেকে বলে নাস্তিকতার সাথে যুক্তিবাদ মানবতাবাদ নারীবাদের কোণ সম্পর্কই নেই। যা একটা মহাভুল এবং অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয় । নিম্নে ধাপে ধাপে নাস্তিক্যবাদের সঙ্গে যুক্তিবাদ মানবতাবাদ এবং নারীবাদের আন্তঃসম্পর্ক আলোচনা করা হল।

নাস্তিক্যবাদের সাথে যুক্তিবাদ মানবতাবাদ এবং নারীবাদের আন্তঃসম্পর্ক জানতে হলে প্রথমে আমাদের নাস্তিক্যবাদ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন কারণ নাস্তিক্যবাদ হল এখানে মূল বিষয় যার সাথে যুক্তিবাদ মানবতাবাদ এবং নারীবাদের আন্তঃসম্পর্কীয়।

নাস্তিক্যবাদ :

অনেকদিন থেকেই ব্লগে ব্লগে এবং ফেসবুকের গ্রুপগুলোতে আলাপ আলোচনা করে একটি বিষয় স্পষ্ট অনুধাবন হল, আমাদের দেশের কিছু তরুণ প্রজন্ম নাস্তিকতার সংজ্ঞাকে খুব সরল দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে থাকে। অনেকে মনে করেন নাস্তিকতার আক্ষরিক অর্থ যেহেতু শুধু ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা, তাই যুক্তি ছাড়াও কেউ যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তবে সেটাও নাস্তিকতার সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কারণ এবং সঠিক যুক্তি এবং প্রমাণ ছাড়া কোন বিষয়ে অবিশ্বাস করাটা কি এক প্রকার অজ্ঞতা নয় ? আর নাস্তিক্যবাদী হতে হলে গভীর প্রজ্ঞা যুক্তি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে নাকচ করে দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ের অনেক তরুণ নাস্তিককে আবার বলতে দেখা যায়, কেউ যদি যুক্তি ছাড়া বিশ্বাস করে যে সে আস্তিক, তবে তেমনি নাস্তিকরাও কেন যুক্তি ছাড়া ঈশ্বরের অস্তিত্বকে বিনা যুক্তি এবং প্রমাণে অবিশ্বাস করে নাস্তিক হবে না ? এটা একেবারে অজ্ঞ এবং মূর্খ যুক্তি। কারণ তাহলে এই একই নীতিতে বলা যায়, যে যুক্তিতে প্রমাণ ছাড়া নাস্তিক নিজেকে নাস্তিক মনে করে সেই একই যুক্তিতে কেন আস্তিকরা নিজেদেরকে আস্তিক মনে করবে না। এটা একেবারে খোঁড়া এবং অজ্ঞদের যুক্তি কারণ তাহলে আস্তিকরা যেমন ঈশ্বরের অস্তিত্বকে না দেখেই বিনা যুক্তিতে এবং প্রমাণে বিশ্বাস করায় দোষী, ঠিক সেই দোষে দোষী নাস্তিকরাও যারা যুক্তি এবং প্রমাণ ছাড়া ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। এটা কখনো জ্ঞানী এবং প্রকৃত নাস্তিকের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

” Atheism is, in a broad sense, the rejection of belief in the existence of deities. In a narrower sense, atheism is specifically the position that there are no deities. Most inclusively, atheism is simply the absence of belief that any deities exist. Atheism is contrasted with theism, which in its most general form is the belief that at least one deity exists”. সূত্র http://en.wikipedia.org/wiki/Atheism

আর এই সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে বিস্তৃত অর্থে নাস্তিক্যবাদ হল এমন একটি দর্শনের নাম যেখানে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। এই ব্যাখ্যা এবং প্রমাণের উপর ভিত্তি করে ঈশ্বরের অনস্তিত্ব’কে ফলাফল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। আর সংক্ষেপে বলা যায় ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করাই হল নাস্তিক্যবাদ। সংক্ষেপে প্রকাশ করা অর্থ থেকে বিস্তৃত অর্থে নাস্তিক্যবাদের অর্থই অনেক বেশী কার্যকর এবং একই সাথে গ্রহণযোগ্য। যা আগেই আলোচনা করা হয়েছে। ইংরেজি ‘এইথিজম’(Atheism) শব্দের অর্থ হল নাস্তিক্য বা নিরীশ্বরবাদ। এইথিজম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক ‘এথোস’ শব্দটি থেকে। শব্দটি সেই সকল মানুষকে নির্দেশ করে যারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই বলে মনে করে এবং প্রচলিত ধর্মগুলোর প্রতি অন্ধবিশ্বাস কে যুক্তি দ্বারা ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করে। দিন দিন মানুষের মুক্তচিন্তা সংশয়বাদী চিন্তাভাবনা এবং ধর্মগুলোর অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ-করনের মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদের প্রসার ঘটছে দিনের পর দিন। যদিও আমাদের দেশে প্রকৃত এবং জ্ঞানী মুক্তমনা নাস্তিকের সংখ্যা সেই হারে বাড়ছে না।

“New Atheism is the name given to the ideas promoted by a collection of 21st-century atheist writers who have advocated the view that “religion should not simply be tolerated but should be countered, criticized, and exposed by rational argument wherever its influence arises.” The series of popular books associated with New Atheism argue that recent scientific advancements demand a less accommodating attitude toward religion, superstition, and religious fanaticism than had traditionally been extended by many secularists”. সূত্র http://en.wikipedia.org/wiki/New_Atheism

“স্বর্গ-নরক, মানুষের পরজন্ম বা ব্যক্তিগত ঈশ্বর প্রাসঙ্গিক ধর্মীয় তত্ত্বগুলোর বিন্দুমাত্র বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আমি পাইনি।” — টমাস আলভা এডিসন।

‘Atheism Myths: Atheists Can’t Disprove God & Have Faith in God’s Nonexistence’ সূত্র http://atheism.about.com/od/atheismmyths/a/faith.htm

এ পর্যন্ত যতো জ্ঞানী এবং প্রসিদ্ধ নাস্তিক ছিলেন এবং আছেন তারা কেউ এমনি এমনি কোন যুক্তি ছাড়াই ঈশ্বরে বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং তারা বার বার প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ঈশ্বরের উপস্থিতিকে এবং যুক্তি ও প্রমাণের উপর যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে ঈশ্বর বলে আদো কেউ কখনো ছিলেন না এবং নেই। নিম্নে কিছু প্রসিদ্ধ নাস্তিকদের উক্তি দেয়া হল যা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় নাস্তিক হতে গেলে জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে হতে হয়। পরিশুদ্ধ জ্ঞানী মুক্তমনা এবং প্রকৃত নাস্তিক তারাই যারা প্রমাণের এবং যুক্তির আলোকে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অবিশ্বাস করে।

“Certainly I see the scientific view of the world as incompatible with religion, but that is not what is interesting about it. It is also incompatible with magic, but that also is not worth stressing. What is interesting about the scientific world view is that it is true, inspiring, remarkable and that it unites a whole lot of phenomena under a single heading” .– Richard Dawkins

“The objections to religion are of two sorts – intellectual and moral. The intellectual objection is that there is no reason to suppose any religion true; the moral objection is that religious precepts date from a time when men were crueler than they are and therefore tend to perpetuate inhumanities which the moral conscience of the age would otherwise outgrow”. – Bertrand Russell

“Atheism is more than just the knowledge that gods do not exist, and that religion is either a mistake or a fraud. Atheism is an attitude, a frame of mind that looks at the world objectively, fearlessly, always trying to understand all things as a part of nature part of nature”.- Carl Sagan সূত্র http://dailyatheistquote.com/list.aspx

নাস্তিক্যবাদ কোন অলৌকিক নয় বরং একেবারেই ইহ-লৌকিক চিন্তা-চেতনা থেকে উদ্ভূত, যা প্রশ্ন করতে শেখায় এবং যুক্তি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্রমশ সত্যের কাছাকাছি পৌছাতে দিক নির্দেশনা দেয়। আর তাই এ থেকে বলা যায়, নাস্তিক্যবাদ হল এমন একটি দর্শন যেখানে অপ্রমাণিত এবং কল্পিত কোণ বিষয়কে চিন্তার বাইরে রেখে যুক্তি এবং প্রমাণের উপর ভিত্তি করে ফলাফলকে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু কোন কিছুর অস্তিত্ব আছে বলে ধরে নিয়ে কোণ বাস্তব সিদ্ধান্তে তা মেনে নেয়া নাস্তিক্যবাদের বিরোধী হিসেবে ধরা হয়। আর তাই শুধু এমনি এমনি ( কোন প্রমাণ এবং যুক্তি ছাড়া ) ঈশ্বরে অবিশ্বাস করাকে এক কথায় নাস্তিক বলা যাবে। কিন্তু যখনি যুক্তি এবং প্রমাণের মাধ্যমে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে প্রত্যাখ্যান করা হবে তাকে প্রকৃত এবং জ্ঞানী নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করা যাবে। নাস্তিক্যবাদ মানে যদি এমনি এমনি কোন প্রমাণ ছাড়াই ঈশ্বরে অবিশ্বাস করাকেই বুঝায় তবে তাকে নাস্তিকদের জ্ঞানের পরিসীমার অজ্ঞতা এবং সীমাবদ্ধতাকেই বুঝায়। কিন্তু বাস্তবে আসলে তা কখনো নয়।

নাস্তিক্যবাদের সাথে যুক্তিবাদের আন্তঃসম্পর্ক :

সাধারণ অর্থে যুক্তিবাদ হচ্ছে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা সর্বদা যুক্তিকে জ্ঞানের উৎস এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। সঠিক এবং বাস্তব সত্যমুখী জ্ঞনার্জনের জন্য যুক্তির কোন বিকল্প নেই। আর নাস্তিক্যবাদ কখনো অন্ধ বিশ্বাস, আবেগের কিংবা শুনা কথায় বিশ্বাস করে না। নাস্তিকরা সবসময় reason এবং justification এর উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। অন্ধ বিশ্বাস এবং বিনা-যুক্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়াটাকে নাস্তিক্যবাদের বিপরীত হিসেবে গণ্য করা হয়। আর তাই নাস্তিকতার সাথে যুক্তিবাদের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেকে নিজেকে নাস্তিক মনে করেন কিন্তু যুক্তিবাদী ভাবেন না। প্রকৃত এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে হলে অবশ্যই যুক্তির মাধ্যমে ভুল তথ্যটিকে ফেলে দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা একজন প্রকৃত এবং পরিশুদ্ধ নাস্তিকের বৈশিষ্ট্য। নাস্তিকরা সবসময় সেই দর্শনকে অনুসরণ করে, যা যুক্তিবিদ্যা এবং যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে থাকে। মতামত গঠনের ক্ষেত্রে প্রথা, অন্ধ বিশ্বাস এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া কখনো বাঞ্চনীয় নয়। যুক্তির অনুপস্থিতি আছে এমন কোন মত বা নীতি এবং সিদ্ধান্তকেই নাস্তিক্যবাদ গ্রহণ করে না। আর তাই একজন নাস্তিক যুক্তির আলোকে তার নিজস্ব মত গড়ে তুলে এবং পক্ষপাতদুষ্টতা, লোকজ্ঞান, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, প্রথা, গুজব এবং অন্য সব গোঁড়া, প্রথাগত প্রতিবন্ধকতার উৎসাহদাতার ভূমিকা পালনকারী শাস্ত্র থেকে নিজেদের সবসময় বিরত রাখে।

“In epistemology and in its modern sense, rationalism is “any view appealing to reason as a source of knowledge or justification” (Lacey 286). In more technical terms, it is a method or a theory “in which the criterion of the truth is not sensory but intellectual and deductive” (Bourke 263). Different degrees of emphasis on this method or theory lead to a range of rationalist standpoints, from the moderate position “that reason has precedence over other ways of acquiring knowledge” to the more extreme position that reason is “the unique path to knowledge” (Audi 771). সূত্র http://en.wikipedia.org/wiki/Rationalism

দেকার্ত মনে করতেন কেবলমাত্র শাশ্বত সত্য সম্পর্কে জ্ঞান, যেমন গণিতশাস্ত্রের সত্য এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানের জ্ঞান-তাত্ত্বিক ও অধি-বৈদিক ভিত্তি, শুধু যুক্তি দিয়ে আহরণ করা সম্ভব; অন্য সব জ্ঞান, যেমন পদার্থবিদ্যার জ্ঞান অর্জনের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ও অভিজ্ঞতাবাদী পদ্ধতির প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন যে যদিও স্বপ্নগুলোকে বাস্তব মনে হয়, স্বপ্ন কখনও মানুষকে জ্ঞান দিতে পারে না। তাছাড়া ইন্দ্রিয় যেহেতু প্রপঞ্চের দ্বারা বিভ্রান্ত হতে পারে, তাই মানুষের ইন্দ্রিয়ও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। এর ফলে দেকার্ত অবরোহণ করেন যে যুক্তি দিয়ে সত্যান্বেষণ করতে চাইলে বাস্তবতা সম্পর্কে যেকোনো বিশ্বাসকেই সন্দেহ করতে হবে। দেকার্ত তাই যুক্তি দেখান যে যুক্তি একাই, ইন্দ্রিয়ের কোন প্রকার সাহায্য ছাড়াই, সত্যকে জানতে পারে। সূত্র http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6

“Rationalism is an approach to life based on reason and evidence. Rationalism encourages ethical and philosophical ideas that can be tested by experience and rejects authority that cannot be proved by experience. Because rationalism encourages people to think for themselves, rationalists have many different and diverse ideas and continue in a tradition from the nineteenth century known as free thought. Bertrand Russell’s “The Faith of a Rationalist” is an example of a rationalist approach to religious belief”. সূত্র http://www.bbc.co.uk/religion/religions/atheism/types/rationalism.shtml

গৌতম বুদ্ধ বলেছেন – “Do not believe in anything simply because you have heard it. Do not believe in anything simply because it is spoken and rumored by many. Do not believe in anything simply because it is found written in your religious books. Do not believe in anything merely on the authority of your teachers and elders. Do not believe in traditions because they have been handed down for many generations. But after observation and analysis, when you find that anything agrees with reason and is conducive to the good and benefit of one and all, then accept it and live up to it.” – সুতরাং কোন কিছুকেই বা কারো লিখা এবং বলাকেই অপ্তবাক্য হিসেবে ধরে নেয়া যাবে না। যুক্তি observation এবং Analysis এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে সত্যটিকে গ্রহণ করতে হবে।

নাস্তিকরা আস্তিকদের মহান ধর্ম গ্রন্থগুলোর ভুলগুলোকে কি করে প্রমাণ করেন ? অবশ্যই বাস্তবতার আলোকে যুক্তি দিয়ে। নাস্তিক্যবাদের সাথে যদি যুক্তিবাদের গভীর সম্পর্ক না থাকে তবে একজন নাস্তিক এবং আস্তিকের মাঝে কোন পার্থক্য থাকে না। কারণ নাস্তিক সবসময় তার চিন্তা এবং চেতনাগুলোকে যুক্তির আলোকে খণ্ডন করে তার উপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত ফলাফলকে গ্রহণ করে অন্যদিকে আস্তিক সর্বদা যুক্তির বিপরীত। অন্ধ বিশ্বাস এবং প্রথাগত নিয়মগুলোকে কোন প্রশ্ন এবং যুক্তি ছাড়া পালন করে থাকে। যুক্তিবাদ না থাকলে আস্তিকদের নাস্তিকতার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই। আর তাই একজন নাস্তিককে অবশ্যই যুক্তিবাদী হতে হবে নইলে সে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে ভ্রান্ত এবং ভুল বলে প্রমাণ করবে কি করে ? আর তাই যুক্তির উপরই সঠিক এবং সত্য ফলাফলটি নির্ভর করে। নাস্তিক্যবাদীরা কেন নাস্তিকতাবাদকে গ্রহণ করেন কারণ তারা ঈশ্বর এবং ধর্মের ব্যাপারে কোন যুক্তি খুঁজে পান না। আর তাই নাস্তিক হওয়ার পিছনে যুক্তিবাদই কাজ করে থাকে।

নাস্তিক্যবাদের সাথে মানবতাবাদের আন্তঃসম্পর্ক :

নাস্তিক্যবাদ এবং মানবতাবাদ শব্দ দুটি অবশ্যই সমার্থক নয়। নাস্তিক্যবাদের সংজ্ঞা আমরা প্রথমেই আলোচনা করেছি। আর মানবতাবাদ হল গবেষণা দর্শন ও অনুশীলনে এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যা মানবিক নীতি এবং এবং এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে থাকে। মানবতাবাদ হল একটি ধর্ম নিরপেক্ষ মতাদর্শ যা যুক্তি নীতিশাস্র ও ন্যায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার উপাত্ত এবং ভিত্তি হিসেবে কাজ করে থাকে। যা একই সাথে সকল প্রকার অলৌকিকতা এবং ধর্মীয় রীতি এবং ধর্ম গ্রন্থগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। আর এর থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে নাস্তিকতার সাথে মানবতার সম্পর্ক অতি নিবিড়। কারণ নাস্তিকতার দর্শনের ভিত্তি হল যৌক্তিক এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। আর মানবতাবাদে সর্বসময় মানুষের কল্যাণ এবং ইতিবাচক বিষয়গুলোর উপর যুক্তিগত আলোকপাত করা হয়ে থাকে।

“Humanism is an approach in study, philosophy, world view or practice that focuses on human values and concerns, attaching prime importance to human rather than divine or supernatural matters”. সূত্র http://en.wikipedia.org/wiki/Humanism

“While atheism is merely the absence of belief, humanism is a positive attitude to the world, centered on human experience, thought, and hopes. The British Humanist Association and The International Humanist and Ethical Union use similar emblems showing a stylized human figure reaching out to achieve its full potential. Humanists believe that human experience and rational thinking provide the only source of both knowledge and a moral code to live by. They reject the idea of knowledge ‘revealed’ to human beings by gods, or in special books”. সূত্র http://www.bbc.co.uk/religion/religions/atheism/types/humanism.shtml

নাস্তিক্যবাদ ঈশ্বরের বা অলৌকিক কোন সত্ত্বার অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। যুক্তির আলোকে সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কোন ধর্মের নিয়ম এবং বিধানকেও নাস্তিকেরা মান্য করে না। আর এই ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা কিংবা সামাজিক প্রথাগত অযৌক্তিক ধর্মের বিধানগুলোকে মান্য না করাই সুন্দর এবং মানবীয় সমাজ গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই যথেষ্ট নয়। আর একারণে একজন নাস্তিককে অবশ্যই মানবতাবাদী হতে হবে। নয়তো নাস্তিক্যবাদের যে দর্শন যৌক্তিকতার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা অনেকাংশে খর্ব ও দুর্বল হয়ে পড়ে। নাস্তিক্যবাদ যে সাধারণ অর্থে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে সেখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় মানবিক-বোধ বা মানুষের কল্যাণের জন্য মানবিক মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে সামাজিক মূল্যবোধ এবং মানবীয় কল্যাণকে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি। কিন্তু একজন নাস্তিকের পক্ষে কখনো অযৌক্তিক কোন বিষয়কে মেনে নেয়ার বিধান না থাকায় মানবকল্যানের গুরুত্বপূর্ণ গুনটির বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকতে হয়।

সূত্র http://www.bbc.co.uk/religion/religions/atheism/types/humanism.shtml

মানবতাবাদ না থাকলে সংঘাত বৃদ্ধি পাবে। আর একজন নাস্তিক কখনো সংঘাত চায় না, সে চায় যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে সবসময় শান্তি বিরাজ করুক। আর একারণেই নাস্তিক সর্বদা ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখিত যুদ্ধ, সহিংসতা , অন্যায় , ঝুলুম , অত্যাচার , নারী নির্যাতন , দাস প্রথা , বাল্য বিবাহের মতো অমানবিক এবং পাশবিক বিষয়গুলোকে সর্বদা যুক্তির আলোকে সমালোচনা এবং তীব্র প্রতিবাদ করে থাকে। মানবতাবাদ হল সুন্দর এবং যুদ্ধ হিংসা অরাজকতা বিহীন সমাজ এবং পৃথিবী গড়ে তোলার প্রেরণা যা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। ধর্ম যেখানে মানবতাকে বিভিন্ন দলে আলাদা করে নৈরাজ্য তৈরি করছে সেখানে মানবতাবাদ একজন মানুষকে ধর্ম বর্ণ গোত্রের মাঝে না ফেলে শুধুমাত্র মানুষ হিসেবেই সনাক্ত করছে। আর তাই নাস্তিক্যবাদের সাথে মানবতাবাদের সম্পর্ক অতি নিবিড়।

নাস্তিক্যবাদের সাথে নারীবাদের আন্তঃসম্পর্ক :

‘কেউ নারী হয়ে জন্ম নেয় না, বরং হয়ে ওঠে নারী’- নারী সম্পর্কিত বহুল আলোচিত, গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় এ মন্তব্যটি করেছিলেন খ্যাতনামা ফরাসি ঔপন্যাসিক, দার্শনিক ও প্রাবন্ধিক সিমোন দ্য বোভোয়ার। নারীদের অধিকার আদায়, সমতা অর্জন এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক আন্দোলনকে নির্দেশ করে। এককথায় নারীর মানুষ হিসবে পূর্ণ অধিকারের দাবী হল নারীবাদ। আধুনিক সংজ্ঞায় নারীবাদ হচ্ছে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নারীর হীন মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন এবং এই অবস্থা পরিবর্তনে নারী ও পুরুষের সচেতন সক্রিয় উদ্যোগ। কিন্তু আমাদের ধর্মীয় সমাজ কাঠামোতে নারীর অবস্থান অনেক নীচে। তাকে দাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাই একজন নাস্তিকের জ্ঞান এবং যৌক্তিক কারণেই নারীকে একজন মানুষ হিসেবে পুরুষের পাশাপাশি সমান অধিকার দেয়াকেই বিশ্বাস করে। আস্তিকেরা সর্বদা নারী বিদ্বেষী আর তাই নাস্তিকদের অবশ্যই নারীদের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার। নারীবাদ হল একটি সামাজিক আন্দোলন যা নারীর গৎবাঁধা ভূমিকা ও ভাবমূর্তির পরিবর্তন, জেন্ডার বৈষম্য বিলোপ এবং পুরুষের মতো নারীর সমান অধিকার অর্জনের প্রয়াসী।

ধর্মীয় গ্রন্থগুলো সমাজে নারীর অবস্থানকে অনেক নীচে নামিয়ে দেখিয়েছে যা কখনো যৌক্তিক এবং মানবিক গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর তাই নাস্তিক্যবাদ যৌক্তিক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নারীকে পুরুষের মতোই একজন মানুষ হিসেবে গণ্য করে। আর এ কারণে নাস্তিক্যবাদ ধর্মীয় গ্রন্থে নারীর অবমাননাকে এবং আস্তিকদের নারী বিদ্বেষী বিভিন্ন বিষয়ের বিপক্ষে সুচারু যুক্তি তুলে ধরে যৌক্তিকতার আলোকে সমালোচনা করে। নারী পাশবিক ধর্ষণের স্বীকার হলে ধর্মান্ধ ক্ষমতাশালী সমাজপতিরা তাকে অযাচিত দোররা’র আঘাতে করে তোলে ক্ষত-বিক্ষত। বর্তমান সমাজে সতীদাহের মতো অমানবিক প্রথা ইভ-টিজিং বা যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, ফতোয়া, নারী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, শারীরিক ব্যাধি ক্যান্সারের মতো সমাজকে কুঁড়ে কুঁড়ে গ্রাস করছে। আর এই রকম ধর্মীয় কুপ্রথাগুলোকে নাস্তিক্যবাদ সবসময় যুক্তির আলোকে আঘাত করে নারীর সাম্য অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকে।

এবার দেখা যাক নারীর অবস্থান সম্পর্কে ধর্মীয় গ্রন্থগুলো কি বলে –

বাইবেলে রয়েছে, ” নারীরা কন্যা সন্তান জন্ম দিলে সন্তান প্রসবের পরে অপবিত্র থাকে ২ সপ্তাহ। পক্ষান্তরে পুত্র সন্তান জন্মদিলে অপবিত্র থাকে ৭ দিন বা এক সপ্তাহ। (লেভিটিকাস: ১২/২-৫)

আর ক্যাথলিক বাইবেলে পরিষ্কারভাবে বলা আছে যে, “কন্যা সন্তান জন্ম হওয়া একটা ক্ষতি বা লোকসান”। (এক্সিলেসিয়াস্টিকাসঃ ২২/৩)

ভারতে যুবতি নারীকে দেবতার উদ্দেশ্যে- দেবতার সন্তুষ্টির জন্যে কিংবা বৃষ্টি অথবা ধন-দৌলত লাভের জন্যে বলিদান (ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে মাথা কেটে ফেলা) করা হত। একটি বিশেষ গাছের সামনে এভাবে একটি নারীকে বলি দেয়া ছিল তদানীন্তন ভারতের স্থায়ী রীতি। প্রাচীন ভারতে নারীর অবস্থা অন্যান্য সমাজের তুলনায় অধিক নিকৃষ্ট ছিল। প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত আইন রচয়িতা মনু মহারাজ নারী সম্পর্কে বলেছেন:
“নারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হোক, যুবতী হোক, আর বৃদ্ধা হোক- নিজ ঘরেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।
“মিথ্যা কথা বলা নারীর স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য। মিথ্যা বলা , চিন্তা না করে কাজ করা, ধোঁকা প্রতারণা, নির্বুদ্ধিতা, লোভ, পঙ্কিলতা, নির্দয়তা এ হচ্ছে নারীর স্বভাবগত দোষ”

এই হচ্ছে হিন্দু ধর্মের দৃষ্টিতে নারীর অবস্থান! সূত্র http://sites.google.com/site/theojupiter/Home/hindu-dharme-nari

হিন্দু ধর্মে নারীর অবস্থান যে কতো নিকৃষ্টতম তা জানতে হলে এই লিঙ্ক থেকে পড়ে দেখতে পারেন। http://en.wikipedia.org/wiki/Women_in_Hinduism#Women_in_Rig_Vedic_hymns

নিম্নে নারী সম্পর্কিত আরও কিছু বেদের বানী দেয়া হল যেখান থেকে নারীর অবস্থান সম্পর্কে আরও কিছু ধারনা পাওয়া যাবে।

সূত্র http://agniveer.com/3309/women-in-hinduism/

এবার দেখা যাক ইসলাম ধর্মে নারী সম্পর্কে কি বলেছে। অন্য ধর্ম গুলোর মতো ইসলাম ধর্মেও নারীর অবস্থান খুব খারাপ ভাবে দেখানো হয়েছে। আর নারীর সম্পর্কে কোরানের বিভিন্ন আয়াত এবং হাদিসগুলো নারীকে দাসীর থেকেও অনেক সময় অনেক নিচুতে স্থান দেয়া হয়িছে। তাদেরকে শুধুমাত্র ভোগ্যপণ্য ছাড়া মানুষ মনে করা হয়নি। নিম্নে কিছু আয়াত তুলে ধরা হল যেখানে ইসলাম ধর্মে নারীর আসল প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়।

সূত্র http://dhormockerymirror.blogspot.com/2011/08/blog-post_8343.html

আমাদের দেশের মানুষের অনেক কারণেই জ্ঞান এবং সহ্য ক্ষমতার লেভেল শুধু শুন্য নয় অনেক ক্ষেত্রে নেগেটিভ পর্যায়ে বিরাজ করছে। নাস্তিক্যবাদীদের চিন্তা চেতনায় যুক্তিবাদ মানবতাবাদ নারীবাদ না আসে তবে তারা কখনো আস্তিকদের ভুলত্রুটি গুলো সনাক্ত করতে সক্ষম হবে না। আমরা উপরে উল্লেখিত আলোচনা থেকে দেখতে পেয়েছি আস্তিক্যবাদে নারী ও মানবতার প্রতি চরম অসম্মান করা হয়েছে প্রায় সর্বত্র, নারীদেরকে তাদের মানুষ হিসেবে মৌলিক ন্যায্য অধিকারগুলো থেকে করা হয়েছে বঞ্চিত , বিভিন্ন অমানবিক বিষয়কে বৈধ করে মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে সবসময়। নাস্তিক্যবাদীরা কোরান হাদিসের আয়াতে উল্লেখিত সেসকল অন্যায্য বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্লগে বা গ্রুপে হরহামেশা প্রতিবাদ জানান এবং যুক্তি তথ্য দিয়েই প্রতিবাদ জানান। সুতরাং, একজন নাস্তিক্যবাদীকে সঙ্গত-ভাবেই নারীবাদী-মানবতাবাদী-যুক্তিবাদী হতে হবে অন্যথায় কিসের ভিত্তিতে তারা আস্তিক্যবাদের সমালোচনা করবে? ধন্যবাদ সবাইকে।