ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

প্রাথমিকের পাঠ্য বই নিয়ে বর্তমানে একটি সংকট চলছে। সংকটের মূল হোতা যে প্রতিষ্ঠান সে প্রতিষ্ঠানটির নাম বিশ্বব্যাংক। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে শত শত কোটি টাকা খরচ করছে সরকার। অথচ সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যাংকের ১৯ কোটি টাকা এবং বইয়ের মান নিয়ে সংশয়ের অজুহাতে সরকারের শত শত কোটি টাকার কাজ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে দেশীয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো।

এনসিটিবির সূত্রমতে প্রাথমিকের বই মুদ্রণে সম্ভাব্য দর ঠিক করা হয়েছিল ৩শ ৩০কোটি টাকা। আমাদের দেশীয় ২২টি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান ২শ২১ কোটি টাকা দর দেয় বই মুদ্রনের জন্য। যা এনসিটিবির প্রনীত দরের চেয়ে ১শ ৯ কোটি টাকা কম।

বাজারদরের চেয়েও কম দামে বই ছাপার দর দেওয়ায় কাগজের মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। তারা বলেছে এটা অবিশ্বাস্য মূল্য। তারা বইয়ের কাগজ, ছাপা ও বাঁধাইয়ের মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার চায়। সে অনুযায়ী টেন্ডারের বাইরেও নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে এনওএ ছাড় দেয় বিশ্বব্যাংক। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের নিজ¯^ টিম বই ছাপা-পূর্ব, ছাপাকালীন এবং ছাপা-পরবর্তী পরিদর্শন, তদারকি, দেখভাল করবে। ছাপার আগে কাগজের নমুনা, ছাপার নমুনা এবং বই বাঁধাইয়ের পর বইয়ের নমুনা তাদের কাছে পাঠাতে হবে। ছাপার সময় তাদের টিম আকস্মিক যেকোনো প্রেস পরিদর্শন করতে পারবে। বই ছাপা শেষে উপজেলায় পৌঁছানোর পর তা আবার নিরীক্ষা হবে। ছাপা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত হলেই কেবল ছাপার বিল দেওয়া হবে। এ ছাড়া মুদ্রণকারীদের জামানত বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার শর্ত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হলেও বিল দেওয়া হবে ৩০ মার্চের মধ্যে। বিশ্বব্যাংক সংশয় প্রকাশ করতেই পারে কারণ এতে তাদের ¯^ার্থ জড়িত, তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের দোসর। কিš’ সরকারতো এদেশীয়, সরকার অন্ততপক্ষে দেশীয় মুদ্রনশীল্পের ¯^ার্থটি আগে বিবেচনা করা উচিত। গত ২০ বছরে বাংলাদেশের মুদ্রণ শিল্পে যে বিপ্লব ঘটেছে তা সরকার ভালো ভাবেই জানে। বাংলাদেশের মুদ্রণশিল্প এখন অনেক উন্নত। বাংলাদেশে বইয়ের সব মুদ্রণই এখন হয় অটোমেশনে। ফলে আগের চেয়ে এমনিতেই খরচ অনেক কমে গেছে।

ছাপার মান নিয়ে বিশ্বব্যাংকের যতটা সংশয় তার চেয়ে বেশি সংশয় হচ্ছে এদেশীয় শিল্পের বিকাশ হয়ে যাওয়া নিয়ে। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যাংক চায় সরকার এদেশের ¯^ার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের পা চাটা কোন দেশকে পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজটি পাইয়ে দিতে। সাম্রাজ্যবাদী এ শক্তি চিরদিনই চেয়েছে বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো তাদের দাস হয়ে থাকুক। কিš’ বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অব¯’া এতটা খারাপ না যে তাদের চাপিয়ে দেয়া ১৯ কোটি টাকার জন্য দেশের ১শ ৯ কোটি টাকা জলে ফেলা লাগবে। বিশ্বব্যাংকের মতো সাম্রাজ্যবাদী দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আগেও বাংলাদেশের দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে এখনও করছে। বিশ্বব্যাংক কোন সময়ই চায় না বাংলাদেশের শিল্প বিকাশিত হউক। বিশ্বব্যাংক এখানে ১৯ কোটি টাকার বিনিময়ে যে খবরদারি করছে তা পুরোই আশ্চর্যজনক এবং এটা পাগলও বুঝে যা আমাদের সরকার বুঝতে চাচ্ছে না। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা গেছে, প্রাথমিকের বই প্রায় ১১ কোটি। অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরি, ইবতেদায়ির বই প্রায় ২২ কোটি। প্রাথমিকের কাজ আন্তর্জাতিক টেন্ডারে হলেও অন্যান্য বই দেশীয় টেন্ডারে হচ্ছে। দেশীয় মুদ্রাকররা যদি ২২ কোটি বইয়ের কাজ সঠিকভাবে করতে পারে তাহলে ১১ কোটি বইয়ের কাজ করতে পারবে না কেন? আসলে কোনো একটি মহলকে সুবিধা দিতে কিছু খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক অবিশ্বাস্য কম মূল্য বললেও আসলে তা নয়। বরং যৌক্তিক দরই দিয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রণকারীরা। কারণ গত বছর কাগজের ব্রাইটনেস ৮৫ চাওয়া হলেও এবার তা ৮০ চাওয়া হয়েছে। ফলে সব¶েত্রে খরচ কমে এসেছে। আর সর্বনিম্ন দরদাতাদের অবিশ্বাস্য কম মূল্য বলা হলেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভারতীয় মুদ্রণকারীরাও এবার সেই অবিশ্বাস্য কম দরই দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রণকারীদের চেয়ে তারা মাত্র চার শতাংশ দর বেশি দিয়েছে। চার শতাংক দর বেশি দেয়ার মূল কারণ হচ্ছে তাদের পরিবহন ব্যায়, যা আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হবে না। ফলে এবার যে শুধু বাংলাদেশি মুদ্রণকারীরাই কম দর দিয়েছে তা নয়; ভারতীয়রাও দিয়েছে।