ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে একটি হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করা। সেই দুটি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকান্ডে সাধারণ জনগনের হতাশা দূর হয়নি। গত সোম ও মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টিতে জনগন দোষারোপ করছেন সিটি কর্পোরেশনকে। তবে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত জনগনের দুর্ভোগের মাত্রাটা একটু বেশি। দুর্ভোগে পরে অনেক পথচারির মুখে শোনা গেছে  “ঢাকায় দুই সিটি কর্পোরেশন কি আঙ্গুল চোষার জন্য?” সিটি করপোরেশন, ওয়াসার নানা পরিকল্পনা ও যন্ত্র আনার গল্প নগরজীবনে উন্নতির কোনো ছাপ ফেলতে পারছে না , বরং দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনের দুর্গন্ধময় পানি একাকার হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগব্যাধি। বৃষ্টির সাথে যানজট এ যেন দুই বন্ধুর সম্পর্ক ! আধা ঘণ্টা পথ অতিক্রম করতেই পার হয়ে যাচ্ছে তিন ঘণ্টা। ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের দাবি গত মঙ্গলবার রাজধানীর কোথাও পানি জমেনি।  কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা এরকম ছিল না।

গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় যে অবস্থা রাজরাবাগ থেকে মালিবাগ যেতে পোহাতে হয়েছে তা সেখানে যে উপস্থিত ছিল তিনিই ভাল বলতে পারবেন। যাচ্ছিলাম মৌচাকের দিকে, রাজারবাগ আসার পর রিক্সায় পানি ছুঁই ছুঁই। এরমধ্যে যে চিত্র দেখলাম তা হলো একটি ছোট প্রাইভেট কারের ভিতরে যেন বন্যা হয়েছে! প্রাইভেট কারের যাত্রী পা উঠিয়ে সিটে বসে আছে আর সিটে পানি ছুই ছুই করছে। ড্রেন তো আগেই ভর্তি ময়লা আবর্জনায়, তাই বৃষ্টির পানি যাওয়ার কোনো পথ নেই। এ কারণে এক একটি সড়কই যেন পরিণত হয়েছে বড় ড্রেনে। অলি-গলি থেকে মূল সড়ক সর্বত্রই পানি থই থই করছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে।  যানবাহন আটকে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয় যানজটের। জলাবদ্ধতার কারণে সেই প্রাইভেটকারটিসহ অনেকগুলো সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে। অটোরিকশা পরিবর্তন করে অনেককে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। মগবাজার, মৌচাক হয়ে মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা ব্রিজ, মেরুল বাড্ডা, মধ্যবাড্ডা এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। জমে যাওয়া পানির কারণে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহন রাস্তায় আটকে পড়ে। মধ্যবাড্ডায় রাস্তার ওপর ময়লার ভাগাড় পানিতে মিশে সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর থেকে বারিধারা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। এতে যানবাহন আটকে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। রিকশায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে অনেককে অফিস ও কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। উত্তরার এয়ারপোর্ট সড়ক, জসীমউদ্দীন রোড, গুলশান-বনানি, মহাখালি ফাইওভারের নিচে, আইসিসিডিডিআরবি থেকে মহাখালি বাসস্টান্ড পর্যন্ত হাঁটু পানি জমে যায়।

পানির সাথে রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা মিলে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ মার্কেটের বহু দোকানিকে বৃষ্টি থেকে তাদের জিনিসপত্র রক্ষার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাথের হকারদের দোকানপাটও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। সাইন্স ল্যাব থেকে নিউমার্কেট হয়ে বলাকা পর্যন্ত এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা, বিক্রেতা ও যাত্রীরা। শহীদ মিনার এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে যায়।  জলাবদ্ধতা দূর করতে দুই সিটি করপোরেশন সম্প্রতি দফায় দফায় মতবিনিময় সভা করেছে। বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা শোনা গেছে। উত্তর সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ঘটা করে জেড অ্যান্ড সাকার মেশিন নিয়ে এসেছে। যা দিয়ে খুব দ্রুত পানি অপসারণ করা যায় বলে তাদের দাবি। কিন্তু এসব কিছুই কাজে আসছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টির পানি জমে থাকছে বিভিন্ন সড়কে। জলবদ্ধতা হওয়াার পেছনে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন গত সোম ও মঙ্গলবার নাকি রাজধানীতে কোন জলাবদ্ধতা হয়নি। এ সম্পর্কে সিটি কর্পোরেশনের সশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য মিথ্যার ফুলঝুড়ি ও মুখস্থ কথা বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।