ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, যোগদানের তারিখ হতে বয়স গননা করা এবং নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি বন্ধের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে নন এমপিও শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন রাজপথে। নন এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনটি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে সাংবাদিকতার সুবাদে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এমপিওর দাবিতে আন্দোলন করছেন মূলত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায়। একজন শিক্ষকের চোখের জ্বল আমাকে লিখতে বাধ্য করলো আজকের এই লেখাটা। চাকরির বয়সের প্রায় শেষ প্রান্তে উপস্থিত এই শিক্ষক এখন পর্যন্ত সরকারি বেতন তো দূরের কথা পাননি প্রতিষ্ঠান থেকে কোন পারিশ্রমিক। এমন অনেক শিক্ষক রয়েছেন যাদের চাকরির বয়স হয়েছে ১৫ থেকে ২০ বছর।

দিনাজপুরের জনতা নিম্ন মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া অশ্রুসজল চোখে বারবার বলছিলেন, বিনা বেতনে আর কতকাল চাকরি করবো। এক বেলা খাওয়া দাওয়া করলে অন্য বেলা অভুক্ত থাকতে হয়। কিভাবে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবো বলতে পারেন? অভুক্ত থেকে কি শিক্ষা দান করা যায়? পরিবারে কারো অসুখ হলে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারি না। নিজের টা বাদই দিলাম। আমাদেরও ইচ্ছা হয় সুখে থাকার কিন্তু আমাদের সুখ নেই।

শিক্ষক গোলাম কিবরিয়ার মতো এমন হাজারো শিক্ষকের দাবি কি আমাদের রাষ্ট্র পূরণ করতে অক্ষম নাকি সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রকার স্বীকৃতি দিতে চান না। শিক্ষকদের স্বীকৃতির দাবি কি খুব বড় কিছু ? আর কত কাল স্বাধীন দেশের রাজপথ শিক্ষকের চোখের জ্বলে ভাসবে ? মন্ত্রী-আমলারা আলিশান বাড়ী, গাড়ীতে চরে বিলাসিতা করতে পারলে আমাদের শিক্ষকরা কি সুন্দরভাবে বেঁচে থাকারও অধিকার রাখেন না? এ কেমন আচরন আমাদের শিক্ষকদের প্রতি। আপনি মন্ত্রী, আপনি আমলা, আপনি পড়েছেন একজন সাধারণ শিক্ষকের কাছে। আপনি এখন অসাধারণ তাই আমার শিক্ষকের চোখের জ্বলে রাজপথ ভাসে। আর কত কাল শিক্ষকরা বঞ্চনার শিকার হবে বলতে পারেন কেউ? শিক্ষকরা রাজপথে চোখের জ্বল ফেলবে স্বীকৃতির জন্য এটাই কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?