ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

৪ জানুয়ারি ভোর ৫টায় ঘটে গেল ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্প। কেঁপে উঠলো সারদেশ। ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো করে নামার সময় একজনের মৃত্যুও হয়। ভূমিকম্প হলে কখন কি করা লাগবে সে সম্পর্কে ধারণা নেই বেশির ভাগ জনগনের। আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে তা হলো ভূমিকম্প হলে তড়াহুড়ো করে বাইরে বেড়িয়ে আসাা। তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেড়িয়ে আসাটা সব এলাকা বা জয়াগার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভূমিকম্পের জন্য প্রয়োজন ভূমিকম্প পূর্ববর্তী জনসচেতনতা। জনসচেতনতা যেমন জরুরি ঠিক এরচেয়ে বেশি জরুরি প্রস্ততি। যখন নড়ে উঠে তখন সবার টনক নড়ে কিন্তু নড়া শেষ হলে সবাই ভুলে যায় কেন নড়ে উঠেছিল? এবং এর আগে আমার কী করা উচিত ছিল। সবচেয়ে মজার একটি বিষয় হলো রাজধানী ঢাকা শহরের বেশির ভাগ মানুষই জানে না ভূমিকম্প পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী প্রস্তুতির কথা। ‘রানা প্লাজা’ একটি ট্র্যাজেডির নাম। রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ার বিষয়টি সকলেই অবগত রয়েছে। এটা ছিল মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। এই মানব সৃষ্ট দুর্যোগকে সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে সরকারের প্রতিটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু বড় মাত্রায় ভূমিকম্প হলেতো ১/২ টা ভবন ধ্বসে পড়বে না। শত শত ভবন ধ্বসে পড়বে। সে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার ব্রিগেড কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে তা বুঝে ওঠা কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার মতো কতটুকু প্রস্তুতি রয়েছে তা নেপালের পরিস্থিতি দেখলেই বুঝা যায়। বিগত দিনগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে গিয়ে নানা রকম বেগ পোহাতে হয়েছে। ভূমিকম্পের ভয়াবহতা প্রকপ। ভূমিকম্প সম্পর্কে যদি দেশবাসীকে এখনই সচেতন করে না তোলা যায় তবে ভবিষ্যতে বড় রকমের দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতোমধ্যে নানা ধরণের পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে এরকম পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকরী তা বুঝে ওঠা কষ্ট সাধ্য। কারণ রাজধানী ঢাকায় এক ভবনের পরে আরেকভবন। হাটা চলার মতো জায়গা না রেখেই অপরিকল্পিত নগরায়ন চলছে। ভূমিকম্প হলে সবার প্রথমে ফায়ার ব্র্রিগেড উদ্ধার অভিযান শুরু করবে। কিন্তু ফায়ার ব্রিগেড কী সময়মত দুর্যোগপূর্ণ এলকায় পৌছতে পারবে ? এরকম অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ভূমিকম্প পরবর্তী দুর্যোগ সামাল দিতে অবশ্যই ফায়ার ব্রিগেড ও অন্যান্য সংস্থ্যাকে বেগ পোহাতে হবে।