ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

দাউদকান্দির জুরানপুর আদর্শ ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মেধাবী ছাত্র ইসমইল মুন্সী। বিগত প্রি-টেষ্ট ও টেষ্ট পরীক্ষায় ১ম মেধা স্থান করে ইসমাইল। এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া ইসমাইলের স্বপ্ন ছিল এইচএসসি পাশ করার পর প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এ ভর্তি হওয়ার।

হতদরিদ্র মেধাবি ছাত্র ইসমাইল একবেলা খেয়ে কোন বেলা না খেয়ে টিউশনি করে ১২ হাজার টাকা জমিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে গত ১৫ মে ঢাকায় এসেছিল একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে। ভর্তিও হলো ইসমাইল।

ISMAIL PICTURE

কোচিং এ ভর্তি হয়ে ঢাকা থেকে দাউদকান্দির জুরানপুর কলেজ হোস্টেলে ফেরার পালা। গন্তব্যে পৌছোনোর জন্য সায়দবাদ বাস স্ট্যান্ডে সুরমা সুপার সার্ভিসের ( ঢাকা মেট্রো-ম-১৪৯২৫৩ ) বাসে উঠে ইসমাইল। বাসটি দাউদকান্দি অতিক্রম করে শহীদনগর আসার পর  নিয়তির নির্মম পরিহাসের শিকার হয় ইসমাইল। ঐ বাসের চালককে সে অনুরোধ করে শহীদনগর স্ট্যান্ডে বাসটি থামানোর জন্য। কিন্তু বাস চালক তার কথা না শুনে তা চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে শহীদনগর সোনলী আঁশ ফ্যাক্টরির কাছাকাছি বাসটি আসার পর চলন্ত অবস্থায় ইসমাইলকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেয় বাসের কন্ডাক্টার। কন্ডাক্টারের ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকে ইসমাইল। এর কিছুক্ষণ পর কলেজের বন্ধুরা খবর পেয়ে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায় এবং পরদিন ১৬মে ভোর ৫টায় সব স্বপ্ন কে ম্লান করে, পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে ওপারে চলে যায় মেধাবি এই ছাত্র।

কিন্তু কথা হলো, এভাবে আর কত ইসমাইলের স্বপ্ন ধ্বংস হবে মহাসড়কগুলোতে। কবে আমাদের বাস কন্ডাক্টাররা/চালকরা সাবধান হবে? নাকি এভাবে খুন হবো আমি, আপনি, সবাই?