ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে ভিন্ন চিত্র দেখা দিয়েছে। বিগত দিনে মহাসড়কের দাউদকান্দি, শহীদনগর, গৌরীপুর, রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জে যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যে ভোগান্তি পোহাতে হতো গত ২ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনের উদ্বোধনের পর সেই যানজট এবং ভোগান্তি নেই বললেই চলে, কমে গেছে দুর্ঘটনাও। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর উপস্থিতিও রয়েছে লক্ষ্যনীয়। তবে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ থাকায় অসুস্থ্য রোগীসহ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনের এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে ধ্বস।
৩ জুলাই রোববার দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলার স্থানীয় শহীদনগর স্টেশন থেকে গৌরীপুর স্টেশনে যাবেন স্থানীয় অনেক সাধারণ জনগন। শহীদনগরে একটি লেগুনার জন্য ৩০ থেকে ৪০ জনের পুরো একটি জটলা বললেই চলে। তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বেড়িয়ে আসলো ভোগান্তির চিত্রটি। জনগনের মধ্য থেকে মোঃ আলম বলেন, এই মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমাদের প্রতিদিনই লেগুনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আমরা গৌরীপুর যেতে আগে যে কম টাকা লাগতো এখন তার চেয়ে বেশি লাগছে। আগে একজনের ১৫ টাকা লাগতো গৌরীপুর বাাজারে যেতে এখন লাগছে ২০ থেকে ২৫ টাকা এর মূল কারণ দুইটা গাড়ী বদলাতে হচ্ছে।

কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ বাজার খ্যাত গৌরীপুুর বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ থাকায় এবং বাজারে আসার সরাসরি কোন গাড়ীর ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতা সমাগম কমে গেছে। গতবছর এই সময় যে পরিমান ক্রেতা ছিল এখন সে পরিমান ক্রেতা তারা পাচ্ছেননা। দূরদূরান্ত থেকে যে ক্রেতা সাধারণ আসতো তা কমে যাওয়া ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে বলেই তারা মত প্রকাশ করছেন। গৌরীপুরে আসতে দাউদকান্দি, রায়পুর, বরকোটা, বিটেশ্বর ও ইলিয়টগঞ্জের জনগনের দুই থেকে তিনটি গাড়ী বদল করার কারণে এই এলাকায় ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ করার আগে ঐ জায়গাগুলো থেকে গৌরীপুর আসতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাগতো সেখানে এখন লাগছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ৫০ টাকা। গাড়ী বদল এবং বেশি ভাড়া গুনার কারণে বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন ক্রেতাই আসতে চাইছে না। স্থানীয় জনগনের মতামত, দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন স্টেশন যেমন – দাউদকান্দি বাজার থেকে গৌরীপুর বাজার, শহীদনগর থেকে গৌরীপুর বাজার, বরকোটা থেকে গৌরীপুর বাজার, বিটেশ্বর থেকে গৌরীপুর বাজার এবং ইলিয়টগঞ্জ থেকে গৌরীপুর বাজার সরাসরি মিনিবাস বা লেগুনা সার্ভিস চালু করা হয় তাহলে তাদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমে যাবে।

 

লেখক : এস এম হৃদয় রহমান, গণমাধ্যমকর্মী।