ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

পুরুষের অত্যাচারে, নারী পুরুষের সকল কাজে ‘হ্যা’ বলতে শিখেছিলো কোন বিবেচনা ছাড়াই। কোন আত্মবিশ্লেষণ ছাড়াই নারী বিশ্বাস করে পুরুষের তুলনায় তার যোগ্যতার অভাব, বুদ্ধির ঘাটতি, কর্মদক্ষতা অভাব রয়েছে।

ভার্জিনিয়া উলফ লিখেছেন,

নারীর সব সময়ই দরিদ্র ছিলো, মাত্র গত দুইশত বছর নয, বরং মানব ইতিহাসের শুরু হতে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় এথেন্সের ক্রীতদাস পুত্রের চেয়েও কম স্বাধীনতা পেয়েছে নারীরা।

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় বিয়ে হচ্ছে নারীর চুড়ান্ত গন্তব্য। বিয়ের সাথে সাথে নারীর শুধু ঠিকানাই বদলায় না, তার পরিচয়ও বদলে যায়। আধিকাংশ ক্ষেত্রে নামটাও। আর এই বদলের মধ্যদিয়েই আমৃত্যু বরণ করতে হয় পরিচয সংকট। ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধে শরৎচন্দ্র লিখেছেন,

কি পরিমানে তিনি সেবাপরায়না, স্নেহশীলা, সতী এবং দুঃখ কষ্টে মৌনা। অর্থাৎ তাহাকে লইয়া কি পরিমানে মানুষের সুখ ও সুবিধা ঘটিবে। এবং কি পরিমানে তিনি রুপসী! অর্থাৎ পুরুষের লালসা ও প্রবৃত্তি কতটা পরিমানে তিনি নিবদ্ধ ও তৃপ্ত রাখিতে পারিবেন।

আমাদের দেশে সকল আইন পরিচালিত হয় সংবিধান অনুসারে, কিন্তু সম্পত্তিতে অধিকার আইনের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয় ধর্মীয় প্রথা। মুসলিমরা নারীরা তবু কিছু পায়। অন্য ধর্মের আইন কানুন আরও করুণ। কিছু মুসলিম রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমানাধিকার। মরক্কোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সেখানে পারিবারিক আইনে ২০০৪ সালে গৃহীত হয় নারীপুরুষের সমানাধিকার।
ইরাক, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়াতেও রয়েছে সমানাধিকার। সিমঁন দ্য ব্যুভুয়া তার ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’ -এ লিখেছেন,

শোষকেরা পুরানো নীতিবোধকেই আকড়ে ধরে থাকে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি পারিবারিক সংঘবদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে নারীর তেমন কোন অধিকার নেই।

সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্ম পুরুষ সন্তানের মাধ্যমে নিশ্চিত করতেই কন্যা সন্তান জন্ম স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া হয় না। যেখানে শুধু ডিম্বাণু বহন ব্যতীত আগত সন্তান পুরুষ না নারী হবে তা শুক্রাণুর উপর নির্ভরশীল। সেখানে আগত শিশুটি কন্যা সন্তান হলে তার দায়ভার নারীকেই বহন করতে হয়। সম্পত্তিতে অধিকার না থাকায় নারী এখনো পরজীবী। অনেকক্ষেত্রে নারী পণ্য হিসাবে বিবেচিত হয়।
বেটি ফ্রাইডান তার ‘দ্যা ফেমিনিন মিস্টিক’ গ্রন্থে লিখেছেন

পুঁজিবাদী সমাজে নারী শুধুই পণ্যই নয়, পণ্যের প্রধান ভোক্তাও বটে। বাজার অর্থনীতির লক্ষ্য হচ্ছে গৃহবধু। পুরুষতন্ত্র তাকে রমনীয়, নমনীয়, মনোযোগী পরিচর্যাকারী ও চর্চিত স্ত্রী হিসাবে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করে বাজারের প্রয়োজনেই। তখন গৃহবধু হিসাবে নারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে পড়ে ঘরের জন্য আরও জিনিস কেনা। বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে নারীকে আরও সুন্দরী আকর্ষনীয় হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ করে তোলা হয়। যার মূল কথা হচ্ছে নানা পণ্য ক্রয়।

***
ছবি- লিংক

***
ফিচার ছবি: ঠাণ্ডা আজাদ, কালের কণ্ঠ