ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যে কোন রক্ত দিলেই আন্দোলন সফল হয় না। আন্দোলন সফল করতে প্রয়োজন হয় পবিত্র রক্তের। ৫২,৬৯ এবং ৭১ এ পৃথিবী দেখেছে বাঙ্গালির পবিত্র রক্তের ধারা কত তীব্র হতে পারে, কত অসামান্য হতে পারে।

যে কোন প্রার্থনাই কবুল হয় না, কবুল হতে হলে প্রার্থনার উদ্দেশ্য হতে হয় নির্মল-নিষ্পাপ। পৃথিবী একাত্তরে দেখেছে- এদেশের লাখো লাখো নারীরা কিভাবে গভীর রাতে তাহাজ্জুতের নামায পড়ে মুজিবের মুক্তির জন্য আর একটা স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য প্রার্থনা করেছে। অত্যাচারীরা দেখেছে দূর্বল জনপদের অনাথ মা-বোনের প্রার্থনা কত শক্তিশালী হতে পারে।

তখনও ধর্মের ধ্বজাধারীরা ছিল, ছিল ধর্ম ব্যবসায়ীরাও। তারা মনে ভন্ডামি রেখে মুখে বলছিল, “তোমার আমার ঠিকানা- মক্কা, মদিনা”; আর আমরা মনে পবিত্রতা রেখে মুখে বলছিলাম, “তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা”। তারা মনে করেছিল বাংলার সরল-সাধারন জনগনের মত বিধাতাকেও ধোঁকা দিতে পারবে। তাই তারা মনে কপটতা রেখে মুখে বলছিল- “নারায়ে তাকবীর- আল্লাহু আকবার”; আর আমরা অন্তরে গভীর দেশপ্রেম নিয়ে বলছিলাম,- “জয় বাংলা”; বিধাতা তাদেরকে ব্যর্থ করে দিলেন। পরাজিত করলেন পাকিস্থান ও তার এ দেশীয় দোসরদের কে।দিনের পর দিন তারা ভন্ডামি করতে থাকল; ধর্মকে নিয়ে আজ পর্যন্তও, আর বিধাতা তাদেরকে ধ্বংস করতে থাকল একটু একটু করে-আজ বসবাসের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক দেশ পাকিস্তান। নিশ্চয়, আল্লাহ চরম প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

সেই পাকিস্তানীদের এ দেশীয় দোসর জামাত-শিবির কিছুদিন আগে কথিত “সাধারন ছাত্র-শিক্ষকদের ভিসি ও প্রোভিসি বিরোধী আন্দোলন” এর মধ্য দিয়ে বুয়েট দখল করতে চেয়েছিল। সেই জন্য তারা নিজ নিজ শরীর থেকে রক্ত-দানের কপটতারও আশ্রয় নিয়েছিল। বিধাতা এবারও তাদেরকে পরাজিত করে দিলেন, একজন বুয়েটিয়ান ছাত্র শিবির কর্মীর কক্ষ তল্লাশী করে প্রাপ্ত নথিপত্র, ইমেইল ও ফেসবুক ম্যাসেজ থেকে জানা যায়, এই আন্দোলন ছিল শুধুমাত্র জামাত-শিবিরের ষড়যন্ত্র যাতে একসময় না বুঝে জড়িয়ে পরেছিল সাধারন শিক্ষার্থীরাও। বিধাতা আবারও তাদেরকে লজ্জিত করলেন, ফাঁস করে দিলেন তাদের ভন্ডামি, ব্যার্থ করে দিলেন তাদের সমস্ত অপচেষ্টা।

জামাত-শিবিরের রক্তে কোন আন্দোলন সফল হয়না, তা শুধু উৎকট দুর্গন্ধই ছড়ায় আর স্থানকে অপবিত্র করে তুলে।