ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

Bangabhaban

সম্প্রতি উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনায় সর্বত্র পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক চলছে। কিন্তু আমি এতে কোন খারাপ কিছু দেখি না। মওদুদ তার এক বইয়ে লিখেছিলো যে তারা ক্ষমতায় থাকতেও একই কাজ করতে চেয়েছিলো এবং এই কিছুদিন আগেও স্পীকারের রুলিং নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সময়েও মওদুদ বলেছিলো, বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা যেন সংসদের হাতে ফেরানো হয়। কিন্তু আজ এই ঘটনার জন্য বিএনপি হরতাল ডাকছে। হরতাল ডাকলে তো আগেই ডাকা যেতো, যেন সরকার এটা পাশ না করে, পাশ করার পর আর হরতাল ডেকে কী লাভ? এইটা বুঝানোর মতো লোকও বিএনপিতে নেই, এই আজ পরিস্থিতি।
আমি জোর দেই যে বিষয়ে তা হলো, একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত বিচারপতির অপরাধ ঐ তদন্ত কমিটি দ্বারা তদন্ত করা যেন হয়। এবং ঐ তদন্ত কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে যেন প্রধান বিচারপতির পরামর্শ নেয়া হয়। সবচেয়ে ভালো হয় ঐ তদন্ত কমিটি প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের কয়েকজন বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান বিচারপতিদের সমন্বয়ে করা হলে। এবং এখানে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দুজনেই যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ পায়। এ জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত কার্যে যেন সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে।

মোদ্দা কথা হল, তদন্ত কমিটি তদন্ত করে যদি ঐ বিচারপতির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের প্রমান পায়, তাহলে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে যদি সংসদ ঐ বিচারপতির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়, আমি তো এতে কোন দোষের কিছু দেখি না। অযথা ঘটনা না বুঝে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করা মূর্খতারই নামান্তর।

এটা মনে রাখা প্রয়োজন, এদেশের সকলেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে জনগণের নিকট মুখাপেক্ষী, বিচারপতিরাই বা এ থেকে বাদ থাকবে কেন?