ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সম্প্রতি সরকার উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের আইন সংশোধন করে তার ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে এনেছেন। এ ব্যাপারে মাননীয় আইনমন্ত্রী বলেছেন, সম্ভবত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে অভিযুক্ত বিচারকের অপরাধ তদন্ত করার জন্য। এই তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই সংসদে ভোটাভুটি হবে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ মনে করেন সে অপরাধী, তাহলেই কেবল অভিযুক্ত বিচারক অপসারিত হবে।

আমরা এ ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাই কেননা রাষ্ট্রের প্রত্যেক সেবাদানকারীকেই জনগনের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে। কিন্তু উদ্বেগটা অন্য জায়গায়, সেটা হলো আমাদের সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ।

৭০ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে “কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-

(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,

তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।]”

এই অনুচ্ছেদের ফলে কোন সাংসদ যদি মনে করে যে অভিযুক্ত বিচারক নির্দোষ, তবুও সে তার দলের স্বিদ্বান্তের বাইরে এসে তাঁর ব্যাক্তিগত মত প্রকাশ করতে পারবে না। এর ফলে বিচারপতি অপসারণের এই নতুন আইন নিয়ে একটা বড় রকমের প্রশ্ন থেকেই গেলো।

সুতরাং, এই ব্যবস্থা সত্যিকারভাবে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার জন্য আনীত সংশোধনীতে একটা লাইন “ এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংসদে ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় এই সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ এখানে অকার্যকর থাকবে।’’

আশা করি, সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে সচেষ্ট হবেন।